আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করার অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের দুই আইনজীবী।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ হাজির হন আইনজীবী এম. হাসানুজ্জামান তুষার ও মোহাম্মদ হাসান চৌধুরী।
এর আগে ১৬ সেপ্টেম্বর তাদের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের আনা আদালত অবমাননার অভিযোগের শুনানি হয়। শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল তাদের ২৩ সেপ্টেম্বর হাজির হয়ে অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেন।
প্রসিকিউটর গাজী এম. এইচ. তামিম জানান, সাত আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায় নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের ওই দুই আইনজীবীর দেওয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বক্তব্য ট্রাইব্যুনালের নজরে আনা হয়েছে।
প্রসিকিউশনের আবেদনে বলা হয়, তাদের একজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাইব্যুনালের রায়কে ‘অবৈধ ও ভিত্তিহীন’ আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাখ্যানের কথা বলেন। ওই পোস্টের মন্তব্যের ঘরে অপর আইনজীবীও রায় নিয়ে আপত্তিকর ভাষায় মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আদালত অবমাননার আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল তাদের হাজির হয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে বলেন।
এর আগে ১৫ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন।
মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা হলেন—আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ. ফ. ম. বাহাউদ্দিন নাসিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।
চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-২ এ রায় ঘোষণা করেন।
মামলায় আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী ছিলেন এম. হাসান ইমাম ও ইসরাত জাহান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও গাজী এম. এইচ. তামিম।