যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের শীর্ষ অর্থনৈতিক কর্মকর্তারা রোববার বৈঠকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে উদ্বেগ ও সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় দুই দেশের মধ্যে একটি যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়ে আলোচনা করেছেন।
একই সঙ্গে চলতি সপ্তাহে দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকের প্রস্তুতিও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
দীর্ঘ বৈঠক শেষে চীনের উপপ্রধানমন্ত্রী হে লিফেংয়ের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আলোচনার পর সাংবাদিকদের মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেন, ‘বাণিজ্য ও এআই নিয়ে চীনাদের সঙ্গে আমাদের অত্যন্ত সফল আলোচনা হয়েছে।’
বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির দেশের শীর্ষ নেতা— মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের মধ্যে বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠেয় বৈঠকের আগে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হলো।
যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ বাণিজ্য কর্মকর্তা জেমিসন গ্রিয়ারও বৈঠকে অংশ নেন। নিউইয়র্কে জেপিমরগ্যান চেজের সদর দপ্তরে প্রায় আট ঘণ্টা ধরে আলোচনা চলে।
বেসেন্ট জানান, দুই পক্ষ ‘যুক্তরাষ্ট্র-চীন এআই সংলাপ’ নামে এআই-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে নিয়মিত যোগাযোগের একটি ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়ে আলোচনা করেছে।
তিনি বলেন, ‘দুই দেশের মধ্যে একটি নোটিফিকেশন বা আগাম অবহিতকরণ ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।’
তার ভাষ্য অনুযায়ী, এ ব্যবস্থার আওতায় এআই-সংক্রান্ত সম্ভাব্য ‘ঘটনা’ বা এমন কোনো পরিস্থিতি, যা এআই থেকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিতে পরিণত হতে পারে, সে বিষয়ে দুই দেশ একে অপরকে অবহিত করবে।
তিনি জানান, এ বিষয়ে দুই পক্ষ আবারও বৈঠকে বসতে সম্মত হয়েছে।
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র জানায়, বেসেন্ট ও হে লিফেং দিনের মধ্যে একান্তেও বৈঠক করেছেন।
চীনের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিষয়ক শীর্ষ প্রতিনিধি লি চেংগ্যাংও নিউইয়র্কের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের কিছুদিন আগে তাকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে চীনা প্রতিনিধিদল সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো কথা বলেনি।
গ্রিয়ার রোববার বলেন, ‘আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে পারা অত্যন্ত জরুরি।’
বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও অন্যান্য কৌশলগত বিষয়ে উত্তেজনা কমাতে দুই দেশই কাজ করছে। এর মধ্যে রয়েছে বিদ্যমান বাণিজ্যিক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর সম্ভাবনা এবং এআই উন্নয়নের ক্ষেত্রে কিছু সীমারেখা বা সুরক্ষা ব্যবস্থা নির্ধারণ।
কিছু পণ্যের ওপর পারস্পরিক শুল্ক কমানোর সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে চাইলে গ্রিয়ার বলেন, দুই দেশের কর্মকর্তারা ‘এ বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।’
ভবিষ্যতে বাণিজ্যসংক্রান্ত অন্যান্য পদক্ষেপের বাইরে আলাদাভাবে বিবেচনা করা যেতে পারে— এমন ‘অসংবেদনশীল’ পণ্য চিহ্নিত করাই এর লক্ষ্য বলে তিনি জানান।
এর মধ্যে চীনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ভোগ্যপণ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জ্বালানি, কৃষিপণ্য ও চিকিৎসা সরঞ্জামের মতো পণ্য থাকতে পারে।
অসংবেদনশীল পণ্যের বাইরেও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বিরল মৃত্তিকা থেকে তৈরি চুম্বক ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজের সরবরাহ অব্যাহত রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করতে চাইছেন। এসব উপকরণ মার্কিন শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র এর আগে এএফপিকে জানিয়েছিল, সোমবার পর্যন্ত দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা চলতে পারে।
এর আগে অনুষ্ঠিত আলোচনায় চীন যুক্তরাষ্ট্র থেকে কৃষিপণ্য কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নও এবারের আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপ। তেহরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের যুদ্ধ সপ্তম মাসে প্রবেশ করেছে।
চীন ইরানের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক অংশীদার। দেশটি ইরানের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ তেল কেনে এবং কূটনৈতিকভাবেও তেহরানের গুরুত্বপূর্ণ সমর্থক।
তবে বিশ্লেষকেরা সতর্ক করে বলেছেন, ট্রাম্প-সি বৈঠক নিয়ে অতিরিক্ত প্রত্যাশার সুযোগ কম।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কার্ট ক্যাম্পবেল বলেন, ‘স্বল্পমেয়াদে আমরা যে কয়েকটি বিষয় আশা করতে পারি, তার একটি হলো একটি যুদ্ধবিরতি এবং সম্ভবত এই যুদ্ধবিরতি এ বছরের বাকি সময়জুড়েও অব্যাহত থাকবে।’