স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, নগরীর ক্রমবর্ধমান বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আধুনিক ও টেকসই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে বর্জ্যকে বোঝা হিসেবে না দেখে তা সম্পদে পরিণত করার কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
তিনি বলেন, সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে পরিবেশ সুরক্ষা ও জ্বালানি উৎপাদনের সুযোগ কাজে লাগাতে হবে।
আজ সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সভাকক্ষে চীনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ঝেজিয়াং ওয়েইমিং ইনভাইরনমেন্টাল প্রোটেকশন কোম্পানি লিমিটেডের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
বৈঠকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের বর্জ্য থেকে ৪৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ও পরিচালনা প্রকল্পের কারিগরি ধারণা, সম্ভাব্য বিনিয়োগ মডেল এবং বাস্তবায়ন রোডম্যাপ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দ্রুত নগরায়ণ ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে রাজধানীতে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বর্জ্য উৎপন্ন হচ্ছে। এই বর্জ্য যথাযথভাবে ব্যবস্থাপনা করা না গেলে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই বর্জ্য সংগ্রহ, পরিবহন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও পুনর্ব্যবহারের ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বর্তমান সময়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনাময় উদ্যোগ। পরিকল্পিতভাবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আওতায় এনে তা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা গেলে একদিকে যেমন নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার চাপ কমবে, অন্যদিকে জ্বালানি উৎপাদনের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।
প্রতিমন্ত্রী প্রকল্প বাস্তবায়নে পরিবেশগত বিষয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, যেকোনো বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প গ্রহণের আগে এর পরিবেশগত প্রভাব, প্রযুক্তির কার্যকারিতা, জনস্বাস্থ্য এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিচালন ব্যবস্থা যথাযথভাবে যাচাই করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রকল্পের বিনিয়োগ কাঠামো এমন হতে হবে, যাতে এটি দীর্ঘমেয়াদে আর্থিকভাবে টেকসই থাকে এবং সিটি কর্পোরেশনের ওপর অযৌক্তিক আর্থিক চাপ সৃষ্টি না করে। একই সঙ্গে প্রকল্প পরিচালনায় দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
বৈঠকে প্রকল্পের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে একটি বিস্তারিত ব্রিফিং উপস্থাপন করা হয়। এতে প্রকল্পের কারিগরি ধারণা, সম্ভাব্য বিনিয়োগ কাঠামো, বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়া এবং বাস্তবায়নের সম্ভাব্য ধাপ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়।
এ সময় প্রতিমন্ত্রী ও ঝেজিয়াং ওয়েইমিং ইনভাইরনমেন্টাল প্রোটেকশন কোম্পানি লিমিটেডের প্রতিনিধি দলের সদস্যরা প্রকল্প বাস্তবায়নের বিভিন্ন সম্ভাব্য মডেল নিয়ে মতবিনিময় করেন। প্রকল্পের কারিগরি সক্ষমতা, বিনিয়োগের ধরন, পরিচালনা পদ্ধতি এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা হয়।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাজধানীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত পরিকল্পনা প্রয়োজন। শুধু বর্জ্য অপসারণ নয়, বর্জ্য কীভাবে পুনর্ব্যবহার ও প্রক্রিয়াজাত করে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করা যায়, সে বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি বলেন, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মতো উদ্যোগ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও আধুনিক প্রযুক্তি কাজে লাগানো যেতে পারে। তবে বাংলাদেশের বাস্তবতা, বর্জ্যের ধরন এবং স্থানীয় পরিবেশগত পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে প্রযুক্তি নির্বাচন করতে হবে।
বৈঠকে ঝেজিয়াং ওয়েইমিং ইনভাইরনমেন্টাল প্রোটেকশন কোম্পানি লিমিটেডের পরিবেশ সংরক্ষণ গ্রুপের চেয়ারম্যান চেং উলিয়াং প্রতিষ্ঠানটির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ সুরক্ষায় ব্যবহৃত প্রযুক্তি সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন।
তিনি ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পে সম্ভাব্য কারিগরি ও বিনিয়োগ সহযোগিতার বিভিন্ন দিক উপস্থাপন করেন।
বৈঠকে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসানসহ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় ঝেজিয়াং ওয়েইমিং ইনভাইরনমেন্টাল প্রোটেকশন কোম্পানি লিমিটেডের সভাপতির সহকারী উ জিয়ান এবং বিনিয়োগ বিভাগের ব্যবস্থাপক হুয়াং ওয়েইফেং উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে প্রকল্পের সম্ভাব্য বিনিয়োগ কাঠামো ও কারিগরি বিষয়গুলো আরও যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের বর্জ্য থেকে ৪৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার আরও সম্প্রসারিত হওয়ার পাশাপাশি বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তরের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।