জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব হওয়ার দৌড় থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন চিলির সাবেক প্রেসিডেন্ট মিশেল বাশেলে। এর মধ্য দিয়ে ৮০ বছরের ইতিহাসে জাতিসংঘের প্রথম নারী মহাসচিব হওয়ার তার প্রচেষ্টা শেষ হলো। সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে। ৭৪ বছর বয়সী বাশেলে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, আজ আমি ঘোষণা করছি, জাতিসংঘের মহাসচিব পদে আমার প্রার্থিতা আর চালিয়ে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বাশেলে আরও বলেন, এই বড় চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করার জন্য আমার কোনো অনুশোচনা নেই। তবে তিনি যে ধরনের প্রার্থিতা উপস্থাপন করতে চেয়েছিলেন, তার জন্য সময়টি হয়তো সঠিক ছিল না বলেও মন্তব্য করেন। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ শুক্রবার তৃতীয় দফার অনানুষ্ঠানিক ভোট বা স্ট্র পোল প্রকাশ করার পর বাশেলের এই সিদ্ধান্ত এলো। ওই ভোটে তিনি মাত্র একটি সমর্থনযোগ্য ভোট পান। বিপরীতে ১১টি ভোট তার প্রার্থিতাকে নিরুৎসাহিত করার পক্ষে এবং তিনটি ভোটে কোনো মতামত দেওয়া হয়নি। এর আগে জুলাইয়ে তিনি ছয়টি এবং আগস্টে দুটি সমর্থনযোগ্য ভোট পেয়েছিলেন। সর্বশেষ ভোটে এগিয়ে রয়েছেন জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়নবিষয়ক সংস্থার বর্তমান প্রধান কোস্টারিকার রেবেকা গ্রিনস্প্যান। তিনি নয়টি ‘সমর্থনযোগ্য’ ভোট পেয়েছেন। আটটি ভোট নিয়ে তার কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছেন গায়ানার ক্যারোলিন রডরিগেস-বিরকেট। এ ছাড়া মহাসচিব পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি, সেনেগালের সাবেক প্রেসিডেন্ট ম্যাকি সাল এবং ইকুয়েডরের কূটনীতিক মারিয়া ফের্নান্দা এসপিনোসা। নিরাপত্তা পরিষদে কোনো প্রার্থীকে সুপারিশ পেতে ১৫ সদস্যের মধ্যে অন্তত নয় সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। পাশাপাশি পাঁচ স্থায়ী সদস্য চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সদস্যের ভেটোও এড়াতে হবে। এরপর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ভোটে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। চিলি গত ফেব্রুয়ারিতে ব্রাজিল ও মেক্সিকোর সমর্থন নিয়ে বাশেলের নাম প্রস্তাব করে। এখন পর্যন্ত লাতিন আমেরিকা থেকে শুধু পেরুর হাভিয়ের পেরেজ দে কুয়েয়ার জাতিসংঘের মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন। অঞ্চলভিত্তিক অনানুষ্ঠানিক পালাক্রমের কারণে এবার লাতিন আমেরিকার প্রার্থীকে মহাসচিব করার আলোচনা ছিল। বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মেয়াদ আগামী ৩১ ডিসেম্বর শেষ হবে। তার উত্তরসূরি এমন একটি সময়ে জাতিসংঘের দায়িত্ব নেবেন, যখন সংস্থাটি একাধিক জটিল সংকটের মুখোমুখি। চলতি বছরের শুরুতে গুতেরেস সদস্যরাষ্ট্রগুলোকে সতর্ক করে বলেছিলেন, জাতিসংঘ ‘আসন্ন আর্থিক ধসের’ মুখে রয়েছে। ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ সংস্থাটির সদস্যরাষ্ট্রগুলোর কাছে ১ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন ডলার বকেয়া ছিল এবং মাত্র অল্পসংখ্যক দেশ তাদের সম্পূর্ণ চাঁদা পরিশোধ করেছে। আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বার্ষিক উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে যোগ দিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা নিউইয়র্কে সমবেত হবেন। মঙ্গলবার ‘আস্থা পুনরুদ্ধার, পরিবর্তন ব্যবস্থাপনা’ প্রতিপাদ্য নিয়ে অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। গুতেরেস আরও সতর্ক করেছেন, বড় শক্তিগুলোর মধ্যে ভূরাজনৈতিক বিভাজন জাতিসংঘের কার্যক্রমকে অনেক ক্ষেত্রে অচল করে দিয়েছে। তার ভাষ্য, এসব শক্তির কিছু দেশ নিজেরাই আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে এবং একই সঙ্গে নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে। গাজা, ইউক্রেনসহ বিভিন্ন সংকটে এই অচলাবস্থা স্পষ্ট হয়েছে। মহাসচিবের উত্তরসূরি নির্বাচন নিয়ে চলমান প্রক্রিয়াও একা এসব সমস্যা সমাধান করতে পারবে না বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন।