1. editor@priyodesh.com : editor : Mohammad Moniruzzaman Khan
  2. monirktc@yahoo.com : স্টাফ রিপোর্টার :
  3. priyodesh@priyodesh.com : priyodesh :
রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০৮ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য বহুমুখীকরণে জোর বাংলাদেশের সোনালী আঁশে খরচ উঠছে না কৃষকের, ভরসা পাটখড়ি খুলনায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রকে হত্যা: মেসে নেই কেউ, কথা বলতে চান না এলাকাবাসী ইরান যুদ্ধের মাঝেও তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের পরোক্ষ ত্রাতা’র ভূমিকায় শি জিনপিং ভারপ্রাপ্ত চিফ প্রসিকিউটর আব্দুস সোবহান তরফদার ঢাকায় আসছেন চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৬.৩১ বিলিয়ন ডলার স্পিকারের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তায় আলজেরিয়ার সহযোগিতা চায় ঢাকা বাংলাদেশ-কানাডার উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের আশা

ইরান যুদ্ধের মাঝেও তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের পরোক্ষ ত্রাতা’র ভূমিকায় শি জিনপিং

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৯ Time View

গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামেন, তখন আন্তর্জাতিক জ্বালানি বিশ্লেষকরা এক ভয়ানক পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। তাঁরা সতর্ক করে বলেছিলেন, দীর্ঘায়িত এই সংঘাতের ফলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে যেতে পারে। একই সাথে বিনিয়োগকারী ও সাধারণ মানুষকে কঠিন পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকার পরামর্শ দিয়েছিলেন তাঁরা।

উভয় দেশের মধ্যে সেই যুদ্ধ এখনো চলছে। যার প্রভাবে বৈশ্বিক তেলের বাজারও তীব্রভাবে উদ্বেলিত। তবে ৬ মাস পার হয়ে গেলেও এই যুদ্ধ শেষের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। এমন অবস্থাতেও, বিশ্লেষকদের সেই আশঙ্কাজনক পূর্বাভাস বা সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি এখনো সত্যি হয়ে ওঠেনি।

আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে এক বহুল প্রতীক্ষিত রাষ্ট্রীয় সফরে যাচ্ছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। আর বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের দাম লাগামহীন না হওয়ার পেছনে—বিশ্ববাসী চীনের দূরদর্শী জ্বালানি নীতিকে ধন্যবাদ জানাতে পারে—এমন একটি জোরালো যুক্তি দিতে পারবেন চীনের প্রেসিডেন্ট।

আসন্ন সফরে দুই পরাশক্তির রাষ্ট্রপ্রধানদের মাঝে ইরান ইস্যু নিয়ে কতটা বিশদ আলোচনা হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের আকাশছোঁয়া দাম নিয়ে ক্ষুব্ধ ভোটারদের তীব্র তোপের মুখে রয়েছেন ট্রাম্প ও তাঁর রিপাবলিকান পার্টি। অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার কারণে চীনের নিজস্ব তেলের সংরক্ষিত 'বাফার' বা নিরাপত্তা মজুতও নতুন পরীক্ষার সম্মুখীন। তবে বেইজিংয়ের সাথে বাণিজ্যযুদ্ধে একটি ভঙ্গুর বিরতি বজায় রাখতে চাওয়ায়—ট্রাম্প প্রকাশ্যে ইরানের সাথে চীনের সম্পর্ক এবং দ্বিপাক্ষিক মতপার্থক্য নিয়ে মন্তব্য করার ক্ষেত্রে বেশ সতর্কতা বজায় রাখছেন।

ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষক সংস্থা– ডিফেন্স প্রাইওরিটিজ-এর মধ্যপ্রাচ্য কর্মসূচির পরিচালক রোজম্যারি কেলানিক বলেন, "এক অদ্ভুত উপায়ে আমরা মূলত বেইজিংয়ের কাঁধে ভর দিয়ে মুক্তভাবে সুবিধা (ফ্রি-রাইডিং) ভোগ করছি। চীন এটা করছে কারণ তারা বুঝতে পারছে যে ট্রাম্পের চালানো যে ট্রেনটি খাদের দিকে যাচ্ছে, তারা নিজেরাও সেই ট্রেনের অন্যতম যাত্রী। বিশ্ববাজারে তেলের দাম অতিরিক্ত বেড়ে গেলে— তা বৈশ্বিক অর্থনীতিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে, আর বৈশ্বিক অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া মানে তাদের নিজেদেরও বড় ক্ষতি।"

চীনের জ্বালানি মজুতই সামাল দিয়েছে প্রাথমিক ধাক্কা

যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের (ইআইএ) হিসাব অনুযায়ী, চীন বছরের পর বছর ধরে শত শত কোটি ডলার খরচ করে বিশ্বের বৃহত্তম কৌশলগত তেল মজুত গড়ে তুলেছে। গত বছরের শেষ নাগাদ তাদের এই জাতীয় পেট্রোলিয়াম রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১৪০ কোটি ব্যারেলে। যেকোনো বৈদেশিক সরবরাহ সংকট বা ঝুঁকি থেকে দেশকে রক্ষা করতে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তাঁর পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় 'জ্বালানি স্বনির্ভরতা'কে অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। এই মজুত গড়ে তোলা হয় তারই অংশ হিসেবে।

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তেল ব্যবহারকারী এবং ইরানের তেলের প্রধান ক্রেতা হওয়া সত্ত্বেও, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বোমাবর্ষণ শুরু করার পর—তেহরান কার্যত হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ করে ফেলে। এই অবস্থায়, বেইজিং তাদের সেই বিশাল মজুত থেকে তেল স্থানীয় বাজারে ছাড়তে শুরু করে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে তাদের অপরিশোধিত তেল আমদানি নাটকীয়ভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হয়। পাশাপাশি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনে বৈদ্যুতিক যানবাহনের (ইভি) ব্যাপক প্রসার এবং বিকল্প জ্বালানির দ্রুত ব্যবহার বাড়ানোও এশীয় পরাশক্তিটিকে সুবিধাজনক অবস্থানে রেখেছে।

চীনের আন্তর্জাতিক বাজার থেকে তেল কম কেনার এই কৌশল—বিশ্বজুড়ে অপরিশোধিত তেলের সার্বিক চাহিদা কমিয়ে আনতে সাহায্য করেছে। যার ফলে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপসহ বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যবৃদ্ধির চাপ অনেকটাই স্তিমিত ও প্রশমিত হয়েছে।

ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান– ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্রেসিস-এর বিশ্লেষক ও অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন নৌবাহিনীর রিয়ার অ্যাডমিরাল মার্ক মন্টেগোমারি বলেন, "এক্ষেত্রে চীনাদের অবশ্যই কৃতিত্ব দেওয়া উচিত। ১৯৭৩ সালের ঐতিহাসিক তেল সংকটের পর—আমাদের একটা কার্যকর কৌশলগত পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ গড়ে তুলতে ২৫ বছর লেগেছিল। কিন্তু চীন মাত্র ১০ বছরে এমন এক মজুত গড়ে তুলেছে, যা দিয়ে এ ধরনের বড় বৈশ্বিক সংকট অনায়াসে সামাল দেওয়া যায়।"

তবে চীনের এই স্থিতিস্থাপকতা ও কৌশলগত প্রস্তুতিও এখন নতুন পরীক্ষার সম্মুখীন। চলতি মাসে ইরানসমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ড্রোন হামলায় – সৌদি আরবের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন অচল হয়ে পড়েছে, যা দিয়ে রিয়াদ লোহিত সাগরের বন্দরগুলোতে বিপুল পরিমাণ তেল পরিবহনের পর তা জাহাজে ভরে রপ্তানি করতো।

একই সময়ে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা দক্ষিণ লোহিত সাগরের কৌশলগত দুটি দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। এই নিয়ন্ত্রণ লোহিত সাগরের বাণিজ্যিক নৌরুট বাব আল-মানদেব প্রণালিতে তাদের হামলা চালানোর সক্ষমতা আরও বাড়িয়েছে। অন্যদিকে, বন্ধ হয়ে যাওয়া হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার লক্ষ্য নিয়ে— পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর চলতি সপ্তাহের নির্ধারিত বৈঠকটিও স্থগিত করা হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের আগে, মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সাইডলাইনে গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি)-ভুক্ত আরব দেশগুলোর শীর্ষ নেতাদের সাথে বৈঠকে বসবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, ওমান, কুয়েত এবং বাহরাইন এই জোটভুক্ত দেশ।

ব্যাংক অব আমেরিকা-র বিশ্লেষকরা গত সপ্তাহে পূর্বাভাস দিয়েছেন যে, হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘায়িত অচলাবস্থার কারণে বছরের দ্বিতীরার্ধে তেলের গড় দাম প্রতি ব্যারেলে ৮৩ ডলারে গিয়ে ঠেকতে পারে। একইসঙ্গে হরমুজ দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ধীরে ধীরে শুরু হতে পারে বলে তাঁরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করে আরও লিখেছেন, সহিংসতা যদি আরও বাড়ে এবং সমুদ্রপথগুলো অবরুদ্ধ থাকে, তাহলে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৯৫ থেকে ১২০ ডলারে উঠে যেতে পারে। আর যদি প্রধান প্রধান তেলের অবকাঠামোগুলো ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে সাময়িক উল্লম্ফনে দাম প্রতি ব্যারেলে ১৫০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছে যেতে পারে।

গত বছর বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের গড় দাম ছিল ব্যারেল প্রতি প্রায় ৬৯ ডলার, যা বর্তমানে ১০০ ডলারের কাছাকাছি ওঠানামা করছে। অবশ্য গত এপ্রিলের শেষের দিকে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১২৬ ডলারে পৌঁছে রেকর্ড গড়েছিল।

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা– সিআইএ-র সাবেক জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক এবং বর্তমানে ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের গবেষক জোনাথন জিন বলেন, ট্রাম্পের শুরু করা যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের তীব্র অস্থিরতাকে বেইজিং যেভাবে সামলেছে, তা শেষ পর্যন্ত বেইজিংয়ের দৃষ্টিতে "প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা এবং তাঁর স্বনির্ভরতার নীতি বাস্তবায়নেরই এক বিরাট সাফল্য।"

ইরান ইস্যুতে ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের গভীর মতপার্থক্য

ইরান যুদ্ধ এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এর ক্ষতিকর প্রভাব ট্রাম্প-শি বৈঠকের মূল আলোচনায় থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিশ্বের এই দুই বৃহৎ অর্থনৈতিক পরাশক্তির মধ্যে কোনো যুগান্তকারী সমাধানে পৌঁছানোর সম্ভাবনা একেবারেই ক্ষীণ।

সংঘাতের শুরু থেকেই ট্রাম্প প্রশাসন বেইজিংকে তাদের বিপুল অর্থনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে ইরানকে যুদ্ধ বন্ধ করতে এবং কৌশলগত হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে চাপ দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে আসছিল। তবে চীনা নেতৃত্ব ওয়াশিংটনের সেই আহ্বানে খুব একটা সাড়া দেয়নি।

বরং চীনের কর্মকর্তারা মার্কিন সামরিক অভিযানের তীব্র বিরোধিতা করেছেন। একই সাথে ইরানের সাথে এখনো বাণিজ্য বহাল রাখা দেশ ও প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর অতিরিক্ত অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির যে হুমকি ওয়াশিংটন দিয়ে আসছে, তাতেও তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বেইজিংয়ের নীতি-নির্ধারকরা।

অবশ্য বিশ্লেষকরা মনে করেন, বেইজিং যে বিশাল তেলের মজুত গড়ে তুলেছিল, তার পেছনে কোনো বিশ্বকে বাঁচানোর মতো কোনো দাতব্য উদ্দেশ্য ছিল না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বশাসিত তাইওয়ান পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নিতে চীন যদি কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তবে যে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অবরোধের সৃষ্টি হতে পারে—তা সামাল দিতেই মূলত দীর্ঘমেয়াদি কৌশল হিসেবে এই তেল মজুত করেছিল বেইজিং। এখন সেই রিজার্ভ থেকে তেল ব্যবহার করা বেইজিংয়ের জন্য আদর্শ পরিস্থিতি না হলেও, বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশছোঁয়া হওয়া দেখাটাও তাদের জন্য মোটেও কাম্য ছিল না।

দুই শীর্ষ নেতা সর্বশেষ মাত্র চার মাস আগে বেইজিংয়ে সরাসরি বৈঠক করেছিলেন, এবং চলতি বছরের শেষের দিকে তাঁদের আরও দু'বার দেখা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

গত মে মাসের বৈঠকের পর ট্রাম্প দাবি করেন, পারমাণবিক অস্ত্রধারী ইরান বিশ্বশান্তির জন্য ক্ষতিকর এবং হরমুজ প্রণালি যে অবিলম্বে খুলে দেওয়া উচিত—এ বিষয়ে শি জিনপিং তাঁর সাথে একমত হয়েছেন। তবে ট্রাম্পের এই দাবির বিষয়ে চীনা কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে এর সত্যতা স্বীকারও করেননি, আবার সরাসরি নাকচও করেননি।

ট্রাম্প প্রশাসন চীনকে ইরানের সামরিক প্রচেষ্টায় কোনো প্রকার সহায়তা না করার ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়েছে। তবে চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম– দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন ট্রাম্প বেশ হালকাভাবেই এড়িয়ে যান। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, চীনা কিছু প্রতিষ্ঠান তেহরানকে জর্ডানের একটি সামরিক ঘাঁটির স্যাটেলাইট থেকে তোলা ছবি সরবরাহ করে। এসব ছবি ব্যবহার করে গত জুলাইয়ে ইরান ড্রোন হামলা চালায় এবং সেখানে কর্মরত তিন মার্কিন সেনা তাতে নিহতও হন।

উক্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, "দেখুন, যখন তারা বলে যে চীন আমাদের ওপর নজরদারি করছে, আমি বলি আপনারা ঠিকই বলেছেন, তবে আমরাও তো তাদের ওপর একইভাবে নজরদারি করি।"

যুদ্ধের শুরুতে ট্রাম্প এই সংঘাতকে একটি "ছোট অভিযান" হিসেবে অভিহিত করে দাবি করেছিলেন এটি মাত্র কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হবে।

তিনি বারবার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন যে, যুদ্ধ শেষ হলেই তেলের দাম দ্রুত কমে যাবে। যুদ্ধ শুরুর তিন মাসেরও কম সময়ের মধ্যে তিনি দাবি করে বসেছিলেন যে "সবাই ভুল প্রমাণিত হয়েছে", কারণ তেলের দাম নিয়ে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের চরম আশঙ্কাজনক পূর্বাভাসগুলো সত্যি হয়নি।

এই অবস্থায় তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে চীনের অবদানের ব্যাপারে ট্রাম্পের মূল্যায়ন কী, সে বিষয়ে হোয়াইট হাউস থেকে সরাসরি কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© ২০২৬ প্রিয়দেশ