1. editor@priyodesh.com : editor : Mohammad Moniruzzaman Khan
  2. monirktc@yahoo.com : স্টাফ রিপোর্টার :
  3. priyodesh@priyodesh.com : priyodesh :
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩৪ পূর্বাহ্ন

শেয়ারবাজারে অর্থ পাচার ঠেকাতে গোয়েন্দা সংস্থার কঠোর নজরদারি

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৭ Time View

দেশের পুঁজিবাজারে অবৈধ অর্থের অনুপ্রবেশ ও পাচার বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, শেয়ারবাজারে লেনদেনকারী প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক ব্যক্তি এবং তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট হিসাবগুলো এখন থেকে বিশেষ নজরদারিতে থাকবে।

পাশাপাশি বেনামি ও সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত করতে ব্রোকারেজ হাউজ, মার্চেন্ট ব্যাংক ও পোর্টফোলিও ম্যানেজারসহ সব মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানকে কঠোর মানিলন্ডারিং প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে তোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার বিএফআইইউ এ সংক্রান্ত ‘সার্কুলার নং-৩১’ জারি করে পুঁজিবাজারের সব প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠিয়েছে।

মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় জারি করা এই নির্দেশনায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে নিজস্ব মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ নীতিমালা তৈরি করে পর্ষদ বা সর্বোচ্চ ব্যবস্থাপনার অনুমোদন নিয়ে তা বাস্তবায়নের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

সার্কুলারে যেসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে

কেন্দ্রীয় ও শাখা ইউনিট গঠন: প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয়ে চিফ অ্যান্টি মানিলন্ডারিং কমপ্লায়েন্স অফিসারের (ক্যামলকো) নেতৃত্বে ‘কেন্দ্রীয় পরিপালন ইউনিট’ এবং শাখা পর্যায়ে ‘শাখা পরিপালন কর্মকর্তা’ (বিএএমএলকো) নিয়োগ দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

গ্রাহকের তথ্য যাচাই ও কেওয়াইসি: নতুন হিসাব খোলার সময় জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট বা জন্মনিবন্ধন সনদের তথ্য নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে যাচাই করতে হবে। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ইলেকট্রনিক কেওয়াইসি (ই-কেওয়াইসি) ব্যবহার করা যাবে।

প্রকৃত সুবিধাভোগী শনাক্তকরণ: কোনো কোম্পানির অন্তত ২০ শতাংশ বা তার বেশি শেয়ারের মালিক অথবা মূল নিয়ন্ত্রণকারী ব্যক্তির তথ্য ‘প্রকৃত সুবিধাভোগী’ (বেনিফিশিয়ারি ওনার) হিসেবে সংরক্ষণ করতে হবে।

বিশেষ সতর্কতা (ইডিডি): রাজনৈতিক ও দেশীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি, আন্তর্জাতিক সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, তাদের পরিবারের সদস্য এবং ঝুঁকিপূর্ণ অফশোর কাঠামোর লেনদেনের ক্ষেত্রে ‘অধিকতর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা’ নিতে হবে। এ ছাড়া জাতিসংঘ ও বাংলাদেশ সরকার ঘোষিত নিষিদ্ধ বা সন্ত্রাসী সত্তার তালিকার সঙ্গে নিয়মিত তথ্য মিলিয়ে দেখতে হবে।

সন্দেহজনক লেনদেন রিপোর্ট (এসটিআর): অস্বাভাবিক বা অসংগতিপূর্ণ লেনদেন নজরে এলে শাখা কর্মকর্তা তা লিখিতভাবে জানাবেন। কেন্দ্রীয় ইউনিট পর্যালোচনা শেষে লেনদেনটি সন্দেহজনক বলে প্রতীয়মান হলে ‘গো-এএমএল’ ওয়েবসাইটের মাধ্যমে গোপনীয়তা বজায় রেখে বিএফআইইউতে রিপোর্ট পাঠাতে হবে।

স্ব-মূল্যায়ন ও নিরীক্ষা: প্রতি ছয় মাস পর (জানুয়ারি-জুন ও জুলাই-ডিসেম্বর) নির্ধারিত চেকলিস্ট অনুযায়ী স্ব-মূল্যায়ন প্রতিবেদন পরবর্তী মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে বিএফআইইউতে জমা দিতে হবে। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা বিভাগ দিয়ে প্রতিবেদনটি স্বাধীনভাবে যাচাই করাতে হবে।

তথ্য সংরক্ষণ ও প্রশিক্ষণ: কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই ও নিয়মিত প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। হিসাব বন্ধের পরও গ্রাহকের সব নথি ও লেনদেনের তথ্য ন্যূনতম পাঁচ বছর সংরক্ষণ করতে হবে।

বিএফআইইউর এই কঠোর উদ্যোগ পুঁজিবাজারে অবৈধ অর্থের প্রবাহ কমানোর পাশাপাশি আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়াতে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© ২০২৬ প্রিয়দেশ