ইরান-সমর্থিত হুতিদের এক সপ্তাহব্যাপী ধারাবাহিক হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের মধ্যে সৌদি আরবের পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে উঠেছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) মক্কা শহর, জেদ্দাসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়েছিল।
ইতিহাসে এই প্রথম পবিত্র মক্কা শহরে যুদ্ধের কারণে এমন সতর্কতা জারি হলো, যদিও ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে কি না সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু জানা যায়নি এবং সতর্কতাগুলো দ্রুত প্রত্যাহার করা হয়।জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে মার্কিন ও সৌদি প্রতিনিধিরা হুতিদের কর্মকাণ্ডকে বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনীতির বিরুদ্ধে ‘ব্ল্যাকমেইল’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা একটি গতিশীল অভিযানের মাধ্যমে নতুন এলাকা ও দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক নৌ-বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাব-আল-মানদেব প্রণালি সরাসরি তাদের ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।
পাশাপাশি, হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় সৌদি আরব বিকল্প হিসেবে যে পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইন ব্যবহার করছিল, শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ইরাক-ভিত্তিক একটি ইরানপন্থী দলের হামলার পর সেটি অচল হয়ে পড়ে। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট জানিয়েছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এই পাইপলাইনে আবারও অপরিশোধিত তেল প্রবাহ শুরু হতে পারে।
এ ছাড়া ইয়েমেনে বিমান হামলার জবাবে সৌদি আরবের বিমান ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে হুতিরা। এতে ১৩ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন।
হরমুজ প্রণালির পর বাব-আল-মানদেব অবরুদ্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে তেলের দামে বড় লাফ দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৮ ডলার ছাড়িয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম রেকর্ড গ্যালনপ্রতি ৬.২৭ ডলারে পৌঁছেছে।
সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান মিসরের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে লোহিত সাগরের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সামরিক সহায়তা চেয়েছেন। তবে ওয়াশিংটন আপাতত শুধু গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করছে এবং সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছে।