1. editor@priyodesh.com : editor : Mohammad Moniruzzaman Khan
  2. monirktc@yahoo.com : স্টাফ রিপোর্টার :
  3. priyodesh@priyodesh.com : priyodesh :
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১০ পূর্বাহ্ন

প্রাচীন আমলে মক্কাগামী হাজিদের প্রবেশদ্বার ছিল যে ফটকে

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৯ Time View

লোহিত সাগরের তীরে অবস্থিত জেদ্দা শুধু সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরীই নয়, বরং শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মক্কাগামী হজযাত্রী, ব্যবসায়ী ও বণিকদের অন্যতম প্রধান প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত। প্রাচীন এই নগরীর ইতিহাস, বাণিজ্য ও হজযাত্রার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে এর ঐতিহাসিক নগর প্রাচীর ও প্রবেশদ্বারগুলো।

শহরকে সমুদ্র ও স্থলভাগ থেকে সম্ভাব্য হামলা ও বিপদ থেকে সুরক্ষিত রাখতে ঐতিহাসিক জেদ্দার চারপাশে নির্মাণ করা হয়েছিল শক্তিশালী প্রাচীর। প্রতিরক্ষাব্যবস্থা আরো জোরদার করতে প্রাচীরের বিভিন্ন অংশে মিনার ও দুর্গ নির্মাণ করা হয়। পাশাপাশি প্রাচীরের চারপাশে খনন করা হয়েছিল একটি প্রতিরক্ষামূলক পরিখা। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে এটি জেদ্দার নিরাপত্তা ও নগরজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে ভূমিকা পালন করে।

ঐতিহাসিক সূত্র অনুযায়ী, প্রাথমিক পর্যায়ে নগর প্রাচীরে ছিল সাতটি প্রধান ফটক। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল মক্কা ফটক, শরিফ ফটক ও মদিনা ফটক। এসব ফটক শুধু নগরে প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ হিসেবেই ব্যবহৃত হতো না; বরং এগুলো শহরের সঙ্গে মক্কা, মদিনা ও আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ জনপদের যোগাযোগেরও গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম ছিল, বিশেষ করে মক্কা ফটকের গুরুত্ব ছিল অত্যন্ত বেশি। মক্কা অভিমুখে যাত্রাকারী হজ ও ওমরাহ পালনকারীদের একটি বড় অংশ এই পথ দিয়ে জেদ্দা নগরে প্রবেশ করতেন।

জেদ্দা মক্কাগামী তীর্থযাত্রীদের অভ্যর্থনার অন্যতম প্রধান বন্দর হিসেবে গুরুত্ব লাভ করার সঙ্গে সঙ্গে এর প্রবেশদ্বারগুলোও হয়ে ওঠে ব্যস্ত ও প্রাণবন্ত যোগাযোগকেন্দ্র। অন্যদিকে লোহিত সাগর ও ভারত মহাসাগরীয় বাণিজ্য পথের সঙ্গে জেদ্দার সংযোগ শহরটির অর্থনৈতিক গুরুত্ব বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। দূর-দূরান্ত থেকে বণিক ও ব্যবসায়ীরা পণ্য নিয়ে জেদ্দায় আসতেন। কাফেলাগুলোও এসব ফটক ব্যবহার করে শহরে প্রবেশ করত। ফলে নগর প্রাচীরের ফটকগুলো একদিকে যেমন নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ করত, অন্যদিকে তেমনি বাণিজ্য ও মানুষের চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ হিসেবে কাজ করত।

সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে জেদ্দার জনসংখ্যা ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড বাড়তে থাকে। একই সঙ্গে পরিবহনব্যবস্থায়ও আসে পরিবর্তন। যানবাহনের চলাচল সহজ করতে নগর প্রাচীরে নতুন একটি ফটক যুক্ত করা হয়। এর ফলে ঐতিহাসিক ফটকের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় আটটিতে। পরবর্তীতে আধুনিক নগরায়ণের বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে পুরনো জেদ্দার প্রতিরক্ষাব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা কমতে থাকে। ১৯৪৭ সালে জেদ্দা শহরের সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে ঐতিহাসিক নগর প্রাচীরটি ভেঙে ফেলা হয়। এর মধ্য দিয়ে হারিয়ে যায় বহু শতাব্দীর পুরনো একটি গুরুত্বপূর্ণ নগর প্রতিরক্ষা কাঠামো। তবে প্রাচীর বিলীন হলেও এর স্মৃতি পুরোপুরি মুছে যায়নি। মক্কা ফটকসহ কয়েকটি ঐতিহাসিক ফটক আজও জেদ্দার অতীতের সাক্ষী হয়ে রয়েছে। এসব ফটক মনে করিয়ে দেয় সেই সময়ের কথা, যখন হজযাত্রীদের কাফেলা, দূর দেশের বণিক এবং পণ্যবাহী কাফেলা এসব প্রবেশপথ পেরিয়ে জেদ্দার ব্যস্ত পাড়া ও বাজারে প্রবেশ করত।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© ২০২৬ প্রিয়দেশ