ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালে ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা আধুনিকায়নে ৪৯ কোটি ৪৯ লাখ টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণের পরিকল্পনা করেছে সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি) প্রস্তাবিত এই প্রকল্পের আওতায় উচ্চ ক্ষমতার সার্ভার, সেন্ট্রাল স্টোরেজ, আধুনিক নেটওয়ার্ক অবকাঠামো, ফায়ারওয়াল, ই-পাসপোর্ট রিডার এবং মাল্টিমোডাল বায়োমেট্রিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম স্থাপন করা হবে।
একই সঙ্গে দ্রুততম সময়ে ইমিগ্রেশন সেবা প্রদান এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে অপটিক্যাল ফাইবার সংযোগ ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।
বাংলাদেশ পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তৃতীয় টার্মিনাল চালু হওয়ার পর আন্তর্জাতিক যাত্রী চলাচল বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনা করে প্রকল্পটি তৈরি করা হয়েছে। সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদে এটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
গত ৬ সেপ্টেম্বর পরিকল্পনা কমিশনে অনুষ্ঠিত প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় প্রকল্পটির শর্তসাপেক্ষ অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়। সভায় বাজারদর যাচাই এবং সফটওয়্যার ও যন্ত্রপাতির জন্য বরাদ্দকৃত প্রায় ৪৭ কোটি ৭৮ লাখ টাকার যৌক্তিকতা মূল্যায়নে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়। এই মূল্যায়নের প্রতিবেদনটি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনায় (ডিপিপি) সংযুক্ত করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি প্রস্তাবিত কোনো আইটেমের সঙ্গে বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পের কাজের পুনরাবৃত্তি নেই বলে কর্তৃপক্ষকে প্রত্যয়ন করতে বলা হয়েছে।
ডিপিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, অপর্যাপ্ত সার্ভার ক্ষমতা ও স্টোরেজ, ধীরগতির নেটওয়ার্ক এবং দুর্বল সাইবার নিরাপত্তার কারণে বর্তমানে ইমিগ্রেশন কার্যক্রম নানা সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হচ্ছে। নতুন টার্মিনাল খোলার পর যাত্রী পারাপার বাড়লে এসব চ্যালেঞ্জ আরও তীব্র হবে।
পিইসি সভায় ক্রয় সংক্রান্ত পরিকল্পনা সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়; যার মধ্যে একই ধরনের প্যাকেজগুলো একত্রিত করা, প্যাকেজ সংখ্যা কমানো, একক ক্রয় পদ্ধতি অনুসরণ করা এবং অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষকে স্পষ্টভাবে নির্দিষ্ট করার কথা বলা হয়েছে।
এ ছাড়া বেশ কয়েকটি প্রস্তাবিত খরচ কমিয়েছে পিইসি। এর মধ্যে ডিপিপি মুদ্রণ ব্যয় ২ লাখ টাকা থেকে কমিয়ে ১ লাখ টাকা, স্টেশনারি ব্যয় ৩ লাখ টাকা থেকে কমিয়ে ৫ হাজার টাকা এবং সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন ব্যয় ৪ লাখ টাকা থেকে কমিয়ে ২ লাখ ৯৫ হাজার টাকা করা হয়েছে। অন্যদিকে প্রকল্প কার্যালয়ের আসবাবপত্র এবং কম্পিউটার সংক্রান্ত দুটি বাজেট খাত সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে এসবির প্রধান ও অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) সরদার নুরুল আমিন দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, আধুনিক হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের মাধ্যমে প্রকল্পটি ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত করবে এবং একটি ডেটাবেজে যাত্রীদের তথ্য সংরক্ষণ করার সুযোগ তৈরি করবে।
আগামী ডিসেম্বরে তৃতীয় টার্মিনাল উদ্বোধন করা হতে পারে। ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত প্রকল্পটি প্রস্তাবে বিলম্বের কারণ জানতে চাইলে সরদার নুরুল আমিন জানান, টার্মিনাল নির্মাণ একটি অনেক বড় প্রকল্প, আর ইমিগ্রেশন প্রকল্পটি তুলনামূলকভাবে ছোট।
তিনি বলেন, 'এটি অনুমোদিত হলে আগামী নভেম্বরের মধ্যে আমরা এর বাস্তবায়ন সম্পন্ন করব।'
While most comments will be posted if they are on-topic and not abusive, moderation decisions are subjective. Published comments are readers’ own views and The Business Standard does not endorse any of the readers’ comments.