ঢাকা, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (বাসস) : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে একটি পূর্ণাঙ্গ ও প্রাতিষ্ঠানিক সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট গঠনসহ পুলিশ সদস্যদের উচ্চতর প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার রাজধানীর মিরপুরে বাংলাদেশ পুলিশ স্টাফ কলেজের (পিএসসি) বোর্ডরুমে পরিচালনা বোর্ডের ২১তম সভায় সভাপতির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে পুলিশ বাহিনীতে প্রকৌশল, আইটি বা কম্পিউটার সায়েন্স ব্যাকগ্রাউন্ডের অনেক সদস্য কর্মরত রয়েছেন। তাদের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে একজন অ্যাডিশনাল আইজিপির নেতৃত্বে সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা চলছে।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে অ্যাডহক ভিত্তিতে পুলিশ সদর দপ্তর, ডিএমপি'র সাইবার ইউনিট ও সিআইডির মাধ্যমে বিভিন্ন ডিজিটাল অপরাধের তদন্ত ও ফরেনসিক অ্যানালাইসিস পরিচালিত হলেও একটি স্থায়ী ও সমন্বিত কাঠামোর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করা হচ্ছে।
বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পুলিশের সক্ষমতা ও মনোবল বৃদ্ধিতে সরকার জোর দিচ্ছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, মাস্টার ট্রেইনার পর্যায়ের কর্মকর্তাদের আরও কার্যকরভাবে দক্ষ করে তুলতে অভ্যন্তরীণ ট্রেইনিংয়ের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণের সুবিধা বাড়ানো প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, প্রয়োজনে বিদেশ থেকে ট্রেইনার এনে বা প্রয়োজনীয় আধুনিক সুবিধা গড়ে তুলে কর্মকর্তাদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি করা হবে, যাতে পুলিশ বাহিনী সাইবার স্পেসসহ যেকোনো অপরাধ মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুত থাকতে পারে।
সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও পরিচালনা বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, বিপিএটিসির রেক্টর সাঈদ মাহবুব খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. হাসানুল মতিন, আইন ও বিচার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. খাদেম উল কায়েস এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ শামীম সোহেল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সভার শুরুতে বিগত ২০তম পরিচালনা বোর্ড সভার কার্যবিবরণী পেশ ও প্রয়োজনীয় সংশোধন সাপেক্ষে অনুমোদন করা হয় এবং সভার গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।
সভায় পিএসসি’র ভূমি ব্যবহারের জন্য এমআরটি'র প্রস্তাব পর্যালোচনা, বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ কোর্সের বৈদেশিক অংশে প্রশিক্ষণের জন্য অর্থ বরাদ্দকরণ, পুলিশ স্টাফ কলেজ বাংলাদেশ'র অধীন একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্বতন্ত্র ‘গবেষণা ও উদ্ভাবন সেন্টার’ প্রতিষ্ঠাকরণ, পুলিশ স্টাফ কলেজ’র বিধিসমূহের সরকারি অনুমোদন, বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণগুলোকে পদোন্নতি ও পদায়নের অগ্রাধিকার শর্ত হিসেবে অন্তর্ভুক্তকরণের প্রস্তাব, ইন্টারন্যাশনাল এসোসিয়েশন অফ একাডেমিসর সদস্য প্রতিষ্ঠান হিসাবে দেশে প্রশিক্ষণ আয়োজন এবং বিদেশে প্রশিক্ষণার্থী প্রেরণের জন্য কার্যক্রম গ্রহণ, পিএসসি'র অবকাঠামো উন্নয়ন, মাস্টার্স ইন ফরেনসিক সায়েন্স এবং মাস্টার্স ইন ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম অ্যান্ড গভর্ন্যান্স কোর্স চালুকরণ, পুলিশ স্টাফ কলেজের রজতজয়ন্তী উদযাপন এবং ট্রেইনিং ফর দি সার্ক কান্ট্রিস ইত্যাদি বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
পরে মন্ত্রী পুলিশ স্টাফ কলেজের ক্যাম্পাস পরিদর্শন করেন।