ঢাকা, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (বাসস) : পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা আনা, তারল্য বাড়ানো এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে অমীমাংসিত বিষয়গুলো দ্রুত পর্যালোচনা করে বাস্তবসম্মত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন দেশের শীর্ষ ব্রোকারেজ হাউজের প্রতিনিধিরা।
আজ মঙ্গলবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) পিএলসির বোর্ডরুমে স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল লেনদেন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে শীর্ষ ব্রোকারেজ হাউজগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তারা এসব প্রস্তাব দেন।
বৈঠকে ডিএসই’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং শীর্ষ ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
নুজহাত আনোয়ার বলেন, পুঁজিবাজারের স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের জন্য অংশীজনদের অভিজ্ঞতা ও মতামত জানাই এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য। তাদের যৌক্তিক ও গঠনমূলক পরামর্শ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী এসব বিষয় ডিএসই’র পরিচালনা পর্ষদ ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) জানিয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি জানান, ডেরিভেটিভস মার্কেট চালু করার প্রস্তুতি দ্রুত এগিয়ে চলছে। প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার ও প্রযুক্তিগত কাজ শেষ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই এর কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে পাঁচটি ব্রোকারেজ হাউজের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায়ও ডিএসই কাজ করছে।
ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, পুঁজিবাজার এখন একটি কঠিন ও হতাশাজনক সময় পার করছে। এই পরিস্থিতির কারণগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের পথ বের করার পাশাপাশি দীর্ঘদিনের ঝুলে থাকা বিষয়গুলোর স্থায়ী সমাধান দরকার।
বৈঠকে নতুন ট্রেডিং কৌশল ও নতুন আর্থিক পণ্য চালু, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ‘প্রি-ওপেনিং সেশন’ পুনরায় চালু করার সম্ভাবনা পর্যালোচনা, ব্রোকারেজ হাউজগুলোর তারল্যসংকট ও খরচ কমানো এবং মেম্বারস মার্জিন নেট-অফের সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়।
পাশাপাশি ডিএসই’র পরিদর্শন (ইন্সপেকশন) ও নজরদারি (সার্ভিলেন্স) কার্যক্রমকে আরও নিয়মিত, তথ্যভিত্তিক, ঝুঁকি বিবেচনা করে পরিচালনা ও স্বচ্ছ করার ওপর জোর দেওয়া হয়। বাজারকে শুধু শেয়ারনির্ভর (ইকুইটি) না রেখে বন্ডসহ অন্যান্য আর্থিক খাতের পরিধি বাড়ানো এবং বিদেশি বিনিয়োগ টানতে নীতিগত ও প্রশাসনিক বাধা দূর করার আহ্বানও জানান বক্তারা।
নুজহাত আনোয়ার আরও বলেন, বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষায় তথ্যভিত্তিক সফটওয়্যার তৈরি ও কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নজরদারি কার্যক্রম আরও জোরদার করা হচ্ছে। অনলাইনে অ্যাকাউন্ট খোলা, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সেবা সহজ করা এবং টি+১ সেটেলমেন্ট বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ চলছে।
তিনি জানান, ডিএসই’র নতুন ওয়েবসাইটের কাজ প্রায় শেষ। আগামী ২২ সেপ্টেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এটি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে বিনিয়োগকারীদের সুবিধার কথা ভেবে নতুন ওয়েবসাইট চালুর পরও পুরোনো ওয়েবসাইটটি আরও দুই থেকে তিন মাস চালু রাখা হবে।