1. editor@priyodesh.com : editor : Mohammad Moniruzzaman Khan
  2. monirktc@yahoo.com : স্টাফ রিপোর্টার :
  3. priyodesh@priyodesh.com : priyodesh :
মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:১৫ অপরাহ্ন

ভ্রমণনীতিতে আরও কড়াকড়ি আরোপ করেছে চীন

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৮ Time View

জাতীয় প্রযুক্তি নিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারেন—এমন নাগরিকদের বিদেশে যেতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার নতুন নিয়ম কার্যকর করেছে চীন। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) থেকে দেশটির নতুন প্রবেশ ও বহির্গমন বিধি কার্যকর হয়েছে। এর ফলে প্রযুক্তি ও শিল্প খাতের সঙ্গে যুক্ত কিছু ব্যক্তির বিদেশযাত্রা আরও কঠোর নজরদারির মধ্যে পড়তে পারে।

চীনের সাধারণ নাগরিকদের বিদেশ ভ্রমণের সুযোগ রয়েছে। তবে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে বিবেচিত ব্যক্তিদের ভ্রমণ পরিকল্পনার ওপর দীর্ঘদিন ধরেই কড়া নজর রাখে বেইজিং।

জুলাইয়ে নতুন নিয়মগুলোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। তখন চীন জানিয়েছিল, রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ বা প্রযুক্তি আমদানি-রপ্তানি বিধি লঙ্ঘনের মতো কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশের শিল্প ও প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে। এসব ঝুঁকি ঠেকাতেই নতুন বিধি আনা হয়েছে।

তিন বছর পর্যন্ত বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বিদেশে অবস্থানকালে জাতীয় নিরাপত্তা বা স্বার্থের ক্ষতি করে বেআইনি বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হয়ে চীনে ফিরে আসা নাগরিকদের ছয় মাস থেকে সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত বিদেশ যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হতে পারে।

এ ছাড়া বিদেশি নাগরিকদের ভিসা আবেদনে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের এক থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত চীনে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া যেতে পারে।

চীনে অবশ্য ব্যক্তিগত বিদেশ ভ্রমণের ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা আগে থেকেই রয়েছে। বিশেষ করে গোপনীয় তথ্যের অ্যাকসেস থাকা জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে বিদেশযাত্রা দীর্ঘদিন ধরেই কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত।

সরকারি কর্মকর্তা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে নজরদারি

চীনের সরকারি কর্মকর্তা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের ব্যক্তিগত বিদেশ ভ্রমণের ওপর আরও কড়াকড়ি আরোপ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিদেশিদের সঙ্গে তাদের যোগাযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বিদেশি প্রভাব ঠেকাতে বেইজিংয়ের নেওয়া বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল বলে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

বিভিন্ন বিদেশি সরকারও জানিয়েছে, নিরাপত্তা-সংক্রান্ত তদন্তের কারণে তাদের কিছু নাগরিককে চীন ছাড়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের মনোনীত মিয়ানমার-বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ও মার্কিন নাগরিক মিন জিনকে চীনা কর্তৃপক্ষ আটক করে। জুনে তাকে জাতীয় নিরাপত্তা বিপন্ন করার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে তার আটকের ঘটনাকে অন্যায় বলে অভিযোগ ওঠে।

নতুন নিয়ম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে তাইওয়ান। বেইজিং তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে মনে করে এবং তাইওয়ানের বাসিন্দাদের চীনা নাগরিক হিসেবে বিবেচনা করে।

তাইওয়ান তাদের নাগরিকদের চীন সফরের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে।

তাইওয়ানের মূল ভূখণ্ডবিষয়ক পরিষদের উপপ্রধান শেন ইউ-চুং বলেছেন, নতুন বিধিগুলো এমন কিছু সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের চর্চাকে ‘আইনি ভিত্তি’ দিচ্ছে, যেগুলোর আগে স্পষ্ট আইনি ভিত্তি ছিল না। একই সঙ্গে এসব বিধি আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাও বাড়িয়ে দিচ্ছে বলে তার দাবি।

শেন ইউ-চুং বিশেষভাবে উদ্বেগ জানিয়েছেন ‘রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ’ এবং ‘প্রযুক্তি আমদানি-রপ্তানি ব্যবস্থাপনা’ সংক্রান্ত নতুন বিধান নিয়ে।

তার আশঙ্কা, এসব বিধান বিদেশে কাজ করা তাইওয়ানের প্রযুক্তি খাতের কর্মীদের জন্য বিশেষ ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কারণ প্রযুক্তি খাতের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিদেশযাত্রা বা চীনে প্রবেশ-প্রস্থানের ক্ষেত্রে নতুন বিধান ব্যবহার করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তবে চীন এসব উদ্বেগ প্রত্যাখ্যান করেছে। বেইজিংয়ের দাবি, নতুন নিয়মের মাধ্যমে বরং তাইওয়ানের নাগরিকদের জন্য আরও ভালো আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে।

নতুন বিধি কার্যকর হওয়ার ফলে চীনের প্রযুক্তি ও শিল্প নিরাপত্তা রক্ষার নীতি আরও কঠোর হলো। একই সঙ্গে দেশের প্রযুক্তি খাতে কাজ করা নাগরিকদের বিদেশযাত্রা কতটা স্বাধীন থাকবে, তা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© ২০২৬ প্রিয়দেশ