বরিশাল, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (বাসস) : শ্যালিকার সঙ্গে পরকীয়ার জেরে স্ত্রীকে আবাসিক হোটেলে হত্যার মামলায় স্বামী এলজিইডির সাবেক প্রকৌশলী জহিরুল ইসলামকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন বরিশাল দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল।
একই মামলায় অপর আসামি হোটেল ম্যানেজার আবদুল মালেককে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের প্রায় ১৬ বছর পর আজ সোমবার দুপুরে বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোসতাক আহমেদ এই রায় দিয়েছেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের সরকারি আইন কর্মকর্তা (পিপি) অ্যাডভোকেট মহাসিন মন্টু বাসসকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, ২০১০ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বরিশাল নগরীর সদর রোডে হোটেল আলী ইন্টারন্যাশনালের একটি কক্ষে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বাসিন্দা প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম তার স্ত্রী নাজমা জহির শোভাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে।
এই ঘটনায় নিহতের বোন নিলুফা আইরিন বাদী হয়ে একই দিন কোতোয়ালী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় পুলিশ নিহতের স্বামী জহিরুল ইসলাম ও হোটেল ম্যানেজার আবদুল মালেককে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। আদালত ১৩ জন সাক্ষির মধ্যে ১০ জনের স্বাক্ষ্য গ্রহণ শেষে সোমবার রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. আনোয়ার হোসেন মিজান বলেন, নিহতের ছোট বোন রুমা আক্তারের সঙ্গে পরকীয়া প্রেম ছিল জহিরুল ইসলামের। ওই সময় তিনি বরিশাল এলজিইডির প্রকৌশলী ছিলেন।
পরকীয়া জেনে ফেলায় ঘটনার দিন স্ত্রী শোভাকে বরিশাল নগরীর সদর রোডে হোটেল আলী ইন্টারন্যাশনালে পঞ্চম তলার একটি কক্ষে হত্যা করেন স্বামী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম। এই ঘটনায় গ্রেফতারের পর আসামি আদালতে স্বীকারক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছিল।
অন্যদিকে, হোটেল কার্যক্রম পরিচালনায় ম্যানেজারের বিরুদ্ধে অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে। এ কারণে তাকেও পাঁচ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। দীর্ঘ বিচার কার্যক্রম শেষে হত্যাকাণ্ডের ঘটনার প্রায় ১৬ বছর পর আদালত রায় ঘোষণা করেন।
বাদীপক্ষের এই আইনজীবী বলেন, রায় ঘোষণার সময় দুই আসামিই আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তাদের বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আদালতের এই রায়ে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এ কারণে আমরা রায়ের বিরুদ্ধে আর আপিল করবো না।