অনলাইন জুয়ায় আসক্ত হয়ে দুই থেকে তিন লাখ টাকা ঋণগ্রস্ত হন আরিফুর রহমান (২৯)। সেই ঋণের টাকা পরিশোধ করতে নিজেই নিজেকে অপহরণের নাটক সাজিয়ে পরিবারের কাছে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। পরে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড থেকে তাকে উদ্ধার করে র্যাব-৭।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দিনগত রাত ১২টা ৫ মিনিটের দিকে সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে মেসার্স রাকিব ট্রান্সপোর্ট এজেন্সির সামনে অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করা হয়।
আরিফুর রহমান জয়পুরহাটের আক্কেলপুর থানার শান্তা এলাকার সামছুল আজমের ছেলে। বর্তমানে তিনি ঢাকার ভাটারা এলাকায় বসবাস করে ফুটপাতে জামাকাপড়ের ব্যবসা করেন।
র্যাব জানায়, গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টার দিকে কুড়িল বিশ্বরোডের সাহারা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সামনে এক বন্ধুকে রেখে বিকাশে টাকা ক্যাশ আউট করার কথা বলে চলে যান আরিফুর। দীর্ঘ সময় পরও ফিরে না আসায় তার বন্ধু ফোন করেন। তবে তিনি ফোন ধরেননি। কিছুক্ষণ পর তার মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়।
পরে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করে পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানান তার বন্ধু। এর মধ্যে ১০ সেপ্টেম্বর আরিফুরের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর থেকে তার ভাইয়ের নম্বরে ফোন করে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি দাবি করেন, আরিফুরকে অপহরণ করা হয়েছে। তাকে জীবিত ফেরত পেতে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে টাকা না দিলে তাকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় আরিফুরের ভাই বাদী হয়ে ঢাকার ভাটারা থানায় মামলা করেন। মামলাটি ১০ সেপ্টেম্বর দায়ের করা হয়।
র্যাব-৭ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন কথিত অপহরণের শিকার আরিফুর চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড এলাকায় অবস্থান করছেন। পরে অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করা হয়।
র্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে আরিফুর জানান, তিনি দীর্ঘদিন অনলাইন জুয়ায় আসক্ত। এর কারণে দুই থেকে তিন লাখ টাকা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন। সেই ঋণের টাকা পরিশোধের উদ্দেশ্যেই নিজেকে অপহরণের নাটক সাজিয়ে পরিবারের কাছে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন।
র্যাব-৭-এর সহকারী পুলিশ সুপার ও সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এ আর এম মোজাফ্ফর হোসেন জানান, পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আরিফুরকে সীতাকুণ্ড থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে।