এমনিতেই শক্তিমত্তা, পরিসংখ্যান সবদিক দিয়েই এগিয়েছিলো ভারত। এরপরও আসরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক শেফালি ভার্মাকে আউট করার অন্তত ৪টি সুযোগ হাতছাড়া করা! সবমিলিয়ে ইনিংসে ৪ ক্যাচ ও এক রান আউট মিসের মাশুল বেশ ভালোভাবেই দিতে হলো নিগার সুলতানা জ্যোতির দলকে। শেফালির ঝোড়ো ফিফটিতে করা ভারতের বড় স্কোরের কাছেও পৌঁছাতে পারেনি বাংলাদেশের মেয়েরা।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এশিয়া কাপের সেমিফাইনালে ভারতের কাছে ৪০ রানে হেরে আসর থেকে ছিটকে গেছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল।
টস হেরে আগে ব্যাট করা ভারত নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৪৯ রান করে। জবাবে ১০৯ রানে শেষ হয় বাংলাদেশের ইনিংস। এ নিয়ে টানা দ্বিতীয়বার এশিয়া কাপের সেমিফাইনালে ভারতের কাছে হেরে বিদায় নিলো জ্যোতির দল।
বড় রান তাড়ায় প্রথম ৩ ওভারে ১৮ রান তোলে বাংলাদেশ। এরপর পাওয়ার প্লেতে তুলতে পারে মাত্র ২৬ রান। দুই ওপেনার শুরুতে বাউন্ডারি পেলেও রানের গতি বাড়াতে পারেননি। ষষ্ট ওভারে ফেরেন জুয়াইরিয়া ফেরদৌস আর অষ্টম ওভারে ফেরেন দিলারা আক্তার।
দিলারা ২১ রান করতে খেলেন ২৬ বল আর জুয়াইরিয়ার ব্যাট থেকে আসে ১৮ বলে ১৪ রান। এরপর দলের হাল ধরার চেষ্টা করেন অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি ও সোবহানা মোস্তারি।
তারাও রানের গতি বাড়াতে পারেননি। ১৪৯ রান তাড়ায় ১০ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় মাত্র ৪৬ রান। সোবহানার বিদায়ে ভাঙে ৩১ রানের জুটি। ২৪ বলে ১৮ রান আসে সোবহানার ব্যাট থেকে।
দলের বিপদের অধিনায়ক জ্যোতি নিজেও ইনিংস বড় করতে পারেননি। ১৭ বলে ১টি করে চার ও ছক্কায় ১৯ রান করেন তিনি। শেষ দিকে স্বর্ণার ১৮ বলে ২২ রান কেবল হারের ব্যবধানই কমিয়েছে।
এর আগে টস জিতে আগে ফিল্ডিং করতে নামা বাংলাদেশ শুরু থেকেই একের পর এক ক্যাচ ফেলতে থাকে। প্রথম ৩ ওভারের মধ্যে ২ বার জীবন পান ভারতের ওপেনার শেফালি ভার্মা। স্মৃতি মন্ধানাকে শুরুতে ফেরানো গেলেও শেফালির ক্যাচ ফেলার মাশুল ঠিকই গুনতে হয়েছে বাংলাদেশকে।
৩৫ বলে ফিফটি পূর্ণ করার আগে ও পরে আরও দুইবার জীবন পান শেফালি। একবার রান আউট, আরেকবার ক্যাচ মিস! শেষ পর্যন্ত ৪০ বলে ৭ চার ও ৩ ছক্কায় ৬৪ রান করেন তিনি।
মিডল ওভারে বাংলাদেশের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ভারতের স্কোরবোর্ডে রানের গতি কিছুটা কমে যায়। কিন্তু শেষ ৪ ওভারে ৪২ রান তুলে প্রায় দেড়শ ছোঁয়া সংগ্রহ পায় ভারত। শেষদিকে ভারত অধিনায়ক হারমানপ্রিত কৌরের ক্যাচ ফেলেন ফাহিমা। এর আগ পর্যন্ত ভুগতে থাকা কৌর শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন ২৪ রানে। বাংলাদেশের হয়ে ২ উইকেট নেন স্পিনার সুলতানা খাতুন।