নিউজ ডেস্ক : অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগের তদন্তের মধ্যেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে পদত্যাগ করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। তিনি ডব্লিউএইচও’র দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক ছিলেন।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সংস্থার মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম গেব্রিয়েসাসের কাছে পদত্যাগপত্র দেন তিনি। যা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
পদত্যাগপত্রে সায়মা লিখেছেন, তাকে দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া হয়েছে। এতে ডব্লিউএইচওর নেতৃত্বের ওপর তার আস্থা ও বিশ্বাস হারিয়েছে। প্রায় এক বছর বেতন না পাওয়ায় আর্থিক পরিস্থিতিও অসহনীয় হয়ে উঠেছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
সায়মা ওয়াজেদের বিরুদ্ধে মূলত তিনটি অভিযোগ তদন্ত করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এর মধ্যে চীন সফরের ভ্রমণ ব্যয়ে আর্থিক অনিয়ম, শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে ভুল তথ্য দেয়া এবং বাংলাদেশে একটি জমির প্লট অবৈধভাবে অধিগ্রহণের অভিযোগ।
এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সায়মা ওয়াজেদ।
রয়টার্স বলছে, ডব্লিউএইচও আগামী মাসে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করবে।
রয়টার্স লিখেছে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের ওপর এর যে প্রভাব পড়েছে, সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের পদত্যাগের ঘটনাকে এরই সর্বশেষ দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। শেখ হাসিনার অনেক ঘনিষ্ঠ মিত্র এখন দুর্নীতির মামলার আসামি, অথবা তার মতোই স্বেচ্ছানির্বাসনে রয়েছেন।
শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকার সময় তার মেয়ে পুতুল ২০২৩ সালের নভেম্বরে ভারতের নয়াদিল্লিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আঞ্চলিক কমিটির ৭৬তম অধিবেশনে সংস্থাটির দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক নির্বাচিত হন। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি পাঁচ বছরের জন্য ওই দায়িত্ব নেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পরিস্থিতি বদলে যায়।
চীন সফরে ৯০১ ডলার আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। সায়মার দাবি, ভ্রমণ খরচ ফেরত পাওয়ার আবেদন প্রক্রিয়ায় ভুল করেছেন তার একজন সহকারী। আর শিক্ষাগত যোগ্যতার অভিযোগ প্রসঙ্গে তার ভাষ্য, অটিজম নিয়ে কাজের স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশে পাওয়া একটি সম্মানসূচক ডক্টরেটের তথ্যই তিনি ডব্লিউএইচওকে দিয়েছেন।
জমি অধিগ্রহণের অভিযোগের বিষয়ে সায়মা ওয়াজেদের দাবি, ডব্লিউএইচওতে যোগ দেয়ার আগেই ওই জমি নিয়েছিলেন তিনি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রযোজ্য একটি আইনের আওতায় জমিটির অধিকার পেয়েছিলেন বলেও দাবি তার।
২০২৪ সালের আগস্টে অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হন তার মা শেখ হাসিনা। এরপর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের সময় শেখ হাসিনার পাশাপাশি পুতুলকেও কয়েকটি দুর্নীতি মামলায় আসামি করা হয়।
এর চার মাস পর, ২০২৫ সালের ১১ জুলাই পুতুলকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ছুটিতে পাঠায় ডব্লিউএইচও। সে সময় একজনকে ভারপ্রাপ্ত আঞ্চলিক পরিচালকের দায়িত্ব দেওয়া হলেও ইতোমধ্যে তার মেয়াদ শেষ হয়েছে।
২০২৫ সালের নভেম্বরে প্লট দুর্নীতির অভিযোগে এক মামলায় পুতুলকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে ঢাকার একটি আদালত। এর আগে তাকে ধরতে ইন্টারপোলের মাধ্যমে