বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, যারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চাপ-নির্যাতন উপেক্ষা করে আন্দোলন করেছেন কিংবা কারাবরণ করেছেন, তাদের সেই ত্যাগ কাউকে অন্যায় করার স্বাধীনতা দেয় না। আওয়ামী লীগ যেভাবে জুলুম-নির্যাতনের মাধ্যমে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করেছে, বিএনপি সেই পথ অনুসরণ করবে না।
বুধবার (৫ আগস্ট) জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে যশোর জেলা বিএনপির আয়োজনে র্যালিপূর্ব সংক্ষিপ্ত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। মুন্সী মেহেরুল্লাহ ময়দান থেকে শুরু হওয়া র্যালির নেতৃত্ব দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম।
অনিন্দ্য ইসলাম বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়ে কেউ যদি ক্ষমতার অপব্যবহার করেন, তবে তার স্থান বিএনপিতে হবে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সীমান্তবর্তী জেলা হিসেবে যশোর দীর্ঘদিন ধরেই মাদকের ঝুঁকিতে রয়েছে। অতীতে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় মাদক ও সন্ত্রাসের বিস্তার ঘটেছিল। এখন মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের রাষ্ট্রীয় প্রশ্রয় থাকবে না।
বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ‘মানুষ বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ আন্দোলনের যে ধারা ২০০৮ সালে শুরু হয়েছিল, তার চূড়ান্ত পরিণতি ঘটে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট।
তিনি বলেন, নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের সুযোগ এসেছে। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে যে বা যারা যতটুকু আত্মত্যাগ করেছেন, তাদের সবাইকে সঙ্গে নিয়েই নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। তবে আমরা যদি শেখ হাসিনার দেখানো পথ ও ভাষা অনুসরণ করি, তাহলে তা ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনীতির অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে।
অমিত বলেন, দেশের জনগণ আগামী দিনের নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রেখেছে। সেই আস্থার মর্যাদা রক্ষা করতে হলে গণতন্ত্র, জবাবদিহিতা ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। জনগণ সব রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ড মূল্যায়ন করে ভবিষ্যৎ নির্বাচনেও তাদের মতামত দেবেন। সেই রায় মেনে নেওয়াই গণতন্ত্রের ভাষা।
বিএনপি নেতাকর্মীদের ত্যাগের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে বিএনপির নেতাকর্মীরাই সবচেয়ে বেশি রক্ত ও জীবন দিয়েছেন। দীর্ঘ আন্দোলনের পথে দলের কেউ ফ্যাসিস্ট শক্তির সঙ্গে আপস করেননি কিংবা পরিচয় গোপন করে আত্মগোপনে যাননি। তাদের ত্যাগের মধ্য দিয়েই নতুন বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ এসেছে। তাই সেই সুযোগ নষ্ট করতে দেশি-বিদেশি যেকোনো ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
সমাবেশ শেষে মুন্সী মেহেরুল্লাহ ময়দান থেকে একটি র্যালি বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে মনিহার এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। এ সময় জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম, মুনির আহমেদ সিদ্দিকী বাচ্চু, গোলাম রেজা দুলু, মিজানুর রহমান খান, এ কে শরফুদ্দৌলা ছোটলু, অ্যাডভোকেট হাজী আনিসুর রহমান মুকুল, সিরাজুল ইসলাম, নগর বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম চৌধুরী মুল্লুক চাঁদ, সাধারণ সম্পাদক এহসানুল হক সেতুসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বর থেকে শোভাযাত্রা বের হয়। শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বকুলতলায় শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে গিয়ে শোভাযাত্রা শেষ হয়। এরপর শহীদ বেদীতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। পরে আলোচনা সভা ও জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সম্মাননা জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান, পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন প্রমুখ।
ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে যশোরে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস। দিবসটি ঘিরে শহরজুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। এ ছাড়া সন্ধ্যায় বিএনপির উদ্যোগে জনপ্রিয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে জমকালো কনসার্টের আয়োজন করা হয়।