বিশ্বকাপের শেষ বাঁশি বাজার আর বেশি বাকি নেই। শিরোপার লড়াই যেমন জমে উঠেছে, তেমনি আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে আসরের সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার ‘গোল্ডেন বুট’। এই দৌড়ে এখন সমানতালে এগিয়ে আছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি ও ফ্রান্সের তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে। দুজনের ঝুলিতেই রয়েছে ৮টি করে গোল।
স্পেনের কাছে হেরে ফ্রান্সের বিশ্বকাপ মিশন শেষ হলেও এমবাপ্পের সামনে এখনও গোলসংখ্যা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। কারণ ফ্রান্স খেলবে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ। অন্যদিকে আর্জেন্টিনা সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে। ফলে মেসির সামনে রয়েছে অন্তত আরও দুটি ম্যাচ খেলার সুযোগ-সেমিফাইনাল এবং ফাইনাল কিংবা তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ।
বর্তমানে গোলসংখ্যায় সমতা থাকলেও গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে সূক্ষ্ম ব্যবধানে এগিয়ে আছেন এমবাপ্পে। কারণ সমান গোল হলে প্রথমে বিবেচনায় নেওয়া হয় অ্যাসিস্ট। এখন পর্যন্ত এমবাপ্পে করেছেন ৩টি অ্যাসিস্ট, যেখানে মেসির অ্যাসিস্ট সংখ্যা ২।
যদি গোল ও অ্যাসিস্ট-দুই ক্ষেত্রেই সমতা থাকে, তাহলে দেখা হবে কে কম সময় মাঠে খেলেছেন। কম সময় খেলে একই সংখ্যক গোল করা ফুটবলারই পাবেন অগ্রাধিকার। এরপরও সমতা ভাঙা না গেলে বিবেচনায় আসবে ওপেন প্লে থেকে করা গোলের সংখ্যা, অর্থাৎ পেনাল্টি ছাড়া গোল।
এই পরিসংখ্যানে মেসির অবস্থান তুলনামূলক ভালো। টুর্নামেন্টে দুটি পেনাল্টি পেলেও তিনি কোনোটি থেকে গোল করতে পারেননি। অস্ট্রিয়া ও মিসরের বিপক্ষে নেওয়া দুটি স্পটকিকই প্রতিহত করেন প্রতিপক্ষ গোলরক্ষক। অন্যদিকে এমবাপ্পে দুটি পেনাল্টির একটি থেকে গোল করেছেন।
গোল্ডেন বুটের দৌড়ে মেসি ও এমবাপ্পের সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছেন ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহাম। দুজনেরই গোল সংখ্যা ৬। এছাড়া ফ্রান্সের উসমান দেম্বেলে ও স্পেনের মিকেল ওয়ারসাবাল করেছেন ৫টি করে গোল। তাদের সামনেও রয়েছে আরও একটি ম্যাচ খেলার সুযোগ।
নরওয়ের আর্লিং হালান্ড ৭ গোল করে তালিকার ওপরের দিকেই থাকলেও তার দল ইতোমধ্যে বিদায় নেওয়ায় গোল্ডেন বুট পাওয়ার সম্ভাবনা শেষ হয়ে গেছে।
বিশ্বকাপের শেষ কয়েকটি ম্যাচে তাই শুধু শিরোপা নয়, ব্যক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বের এই লড়াইটিও ফুটবলপ্রেমীদের বাড়তি উত্তেজনা উপহার দিচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত গোল্ডেন বুট ওঠে মেসির হাতে, নাকি এমবাপ্পে ছিনিয়ে নেন ব্যক্তিগত এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার।