1. editor@priyodesh.com : editor : Mohammad Moniruzzaman Khan
  2. monirktc@yahoo.com : স্টাফ রিপোর্টার :
  3. priyodesh@priyodesh.com : priyodesh :
শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১২:০৭ অপরাহ্ন

সেন্ট পিটার্সবার্গের প্রধান তেল টার্মিনালে ইউক্রেনের ভয়াবহ হামলা

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২৬
  • ৬৯ Time View

রাশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর সেন্ট পিটার্সবার্গের একটি অন্যতম প্রধান তেল টার্মিনালে রাতভর ভয়াবহ ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই হামলার তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, আক্রান্ত স্থাপনাটি রাশিয়ার যুদ্ধ তহবিলের রাজস্ব জোগানোর অন্যতম প্রধান উৎস ছিল।

একই সঙ্গে ওই অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ রুশ নৌঘাঁটিতেও আঘাত হানা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনী। সেন্ট পিটার্সবার্গের গভর্নর আলেকসান্ডার বেগলভ শহরে একটি ব্যাপক ড্রোন হামলার কথা স্বীকার করেছেন এবং তেল টার্মিনালে আঘাতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি তাদের এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।

খবরে বলা হয়, ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর মতে, আক্রান্ত তেল টার্মিনালটি রাশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম, যেটির বার্ষিক ১২.৫ মিলিয়ন টন পেট্রোলিয়াম পণ্য উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। এর পাশাপাশি ক্রনশতাঁতে অবস্থিত রাশিয়ার বাল্টিক নৌবহরের একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌঘাঁটিও এই হামলার শিকার হয়েছে বলে কিয়েভ দাবি করেছে, যদিও রাশিয়া এই নৌঘাঁটিতে হামলার বিষয়ে এখনো প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি।

গভর্নর বেগলভ জানিয়েছেন, সেন্ট পিটার্সবার্গ এবং লেনিনগ্রাদ অঞ্চলজুড়ে ৭২টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। হামলার পর তিনি শহরের পঞ্চাশ লাখের বেশি বাসিন্দাকে ঘরের ভেতরে থাকার পরামর্শ দেন এবং মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা ব্যাহত হতে পারে বলে সতর্ক করেন।

প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি শনিবার (৪ জুন) সকালে জানান, সেন্ট পিটার্সবার্গ ও এর আশপাশের যেসব লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে, সেগুলো ইউক্রেন সীমান্ত থেকে প্রায় ৮৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। হামলার সুনির্দিষ্ট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট না হলেও, জেলেনস্কির শেয়ার করা একটি ভিডিওতে লক্ষ্যবস্তুর দিকে ড্রোন উড়ে যেতে এবং পরবর্তীতে ওই এলাকা থেকে বিশাল কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী ফুটতে দেখা গেছে, যা পরবর্তীতে বিবিসি নিশ্চিত করেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেন রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে দূরপাল্লার ড্রোন হামলা জোরদার করেছে, যার ফলে রাশিয়ায় ব্যাপক জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। কিয়েভের দাবি, এই হামলার কারণে রাশিয়ার তেল শোধনাগার ক্ষমতার প্রায় ৪৩ শতাংশ অচল হয়ে পড়েছে।

গত সপ্তাহে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও ইউক্রেনীয় হামলার কারণে জ্বালানি সংকটের কথা বিরলভাবে স্বীকার করেছিলেন এবং শনিবার তিনি অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানোর লক্ষ্যে একটি নতুন বিলে স্বাক্ষর করেছেন।

এদিকে, যুদ্ধের মাঠের আরেকটি ঘটনায় ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী পূর্ব ইউক্রেনের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শহর কোস্তিয়ান্তিনিভকা রাশিয়ার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ার দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। সামরিক মুখপাত্র মেজর আন্দ্রি কোবালিভ জানিয়েছেন, শহরটি এখনো ইউক্রেনীয় প্রতিরক্ষা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে।

তবে তিনি স্বীকার করেন যে, রুশ পদাতিক বাহিনীর ছোট ছোট দল ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা লাইনের গভীরে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করেছিল, যাদের চিহ্নিত করে ধ্বংস করা হচ্ছে। এর আগে পুতিন দাবি করেছিলেন, গত জুনেই কোস্তিয়ান্তিনিভকা শহরটি রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে এসেছে, তবে তিনি এর পক্ষে কোনো প্রমাণ দেননি। পুতিনের এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে জেলেনস্কি তীব্র কটাক্ষ করে টেলিগ্রামে লিখেছেন, কোস্তিয়ান্তিনিভকা যদি সত্যিই রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকে, তবে পুতিন নিশ্চয়ই সেখানে এসে তার সাথে দেখা করতে এবং যুদ্ধ শেষ করার কূটনৈতিক সমাধান খুঁজতে কোনো সমস্যা বোধ করবেন না। কিন্তু বাস্তবতা হলো পুতিন কখনোই ফ্রন্ট লাইন অতিক্রম করবেন না, কারণ সত্য পুতিনের কথার চেয়ে অনেক আলাদা।

অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের সর্বশেষ বুলেটিনে জানিয়েছে যে তারা রাতভর এবং সকালে ইউক্রেনের ছোঁড়া ৫০০টিরও বেশি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। রুশ মন্ত্রণালয়ের দাবি, গত ২ জুলাই ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাশিয়ার চালানো ভয়াবহ ও প্রাণঘাতী হামলার ক্ষয়ক্ষতি এবং কোস্তিয়ান্তিনিভকাতে ইউক্রেনীয় বাহিনীর ‘বিপর্যয়কর ব্যর্থতা’ থেকে দেশের জনগণ ও বিদেশি দাতাদের মনোযোগ সরিয়ে নিতেই জেলেনস্কি এই হামলার নাটক করছেন। রাশিয়ার বেসামরিক স্থাপনায় ইউক্রেনের এই হামলা কখনোই অনুত্তরিত থাকবে না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে মস্কো।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© ২০২৬ প্রিয়দেশ