1. editor@priyodesh.com : editor : Mohammad Moniruzzaman Khan
  2. monirktc@yahoo.com : স্টাফ রিপোর্টার :
  3. priyodesh@priyodesh.com : priyodesh :
শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১২:৩৭ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সংকট সমাধানের আশ্বাস শিক্ষামন্ত্রীর ফোনের অ্যালার্ট কীভাবে ভূমিকম্পের কয়েক সেকেন্ড আগে লাখ লাখ মানুষকে সতর্ক করে ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৩৫, আহত ৪৩০০ ছাড়াল নির্বাচনি ব্যয়ের হিসাব না দেওয়ায় এনসিপিসহ সাত দলকে শোকজ চীনের তিয়েনআনমেন স্কয়ারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী সেনাপ্রধানের সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাক্ষাৎ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদারের অঙ্গীকার বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়ার সৌদি আরবে প্রবাসীদের সাদা কাগজে স্বাক্ষর কিংবা টিপসই দেওয়া থেকে বিরত থাকতে সতর্ক করেছে দূতাবাস দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো নকআউটে দক্ষিণ আফ্রিকা

ফোনের অ্যালার্ট কীভাবে ভূমিকম্পের কয়েক সেকেন্ড আগে লাখ লাখ মানুষকে সতর্ক করে

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬
  • ৮ Time View

ক্যালিফোর্নিয়া, ভেনেজুয়েলা এবং জাপানে সম্প্রতি বেশ কিছু ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। জুন মাসের শুরুতে ফিলিপাইনের মিন্দানাওয়ের কাছে ভূমিকম্পে ৩৭ জন মারা যান। এসকল বিপদের সময় লাখ লাখ মানুষের মোবাইল ফোনে সতর্কবার্তা পৌঁছে যায়। এতে তারা নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ কয়েক সেকেন্ড সময় পান।

যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো, জাপান, তুরস্ক, রোমানিয়া, চীন, ইতালি ও তাইওয়ানের মতো কয়েকটি দেশে ভূমিকম্পের আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা এ তথ্য জানিয়েছে।

কিন্তু ভেনেজুয়েলায় এমন কোনো জাতীয় ব্যবস্থা নেই। বুধবার রাতে সেখানে ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এটি গত এক শতাব্দীর মধ্যে দেশটিতে সবচেয়ে ভয়াবহ ছিল। তবে গুগলের অ্যান্ড্রয়েড আর্থকোয়েক অ্যালার্টের কারণে সেখানকার কিছু মানুষ ভূমিকম্পের কাঁপুনি শুরুর কয়েক সেকেন্ড বা মিনিট আগে সতর্কতা পেয়েছিলেন।

গুগলের এই ব্যবস্থাটি মানুষের মোবাইল ফোনের সেন্সর থেকে তথ্য সংগ্রহ করে কাজ করে। বার্কলে সিসমোলজি ল্যাবের পরিচালক রিচার্ড অ্যালেন জানান, ২০২০ সালে চালুর পর থেকে এই সিস্টেমটি ব্যাপকভাবে বড় হয়েছে। তখন ২৫ কোটি মানুষ অ্যালার্ট পেত, আর এখন ২৫০ কোটির বেশি মানুষ এটি পাচ্ছে। প্রতি মাসে গড়ে ৬০টি ভূমিকম্পের সতর্কতা প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ ফোনে পাঠানো হয়।

ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসের বাসিন্দা ৩৯ বছর বয়সী লেখক পেরিক্লিস সানচেজ বলেন, তিনি ভূমিকম্প তার বাড়িতে পৌঁছানোর কয়েক মিনিট আগে অ্যান্ড্রয়েড ফোনে অ্যালার্ট পেয়েছিলেন। এতে তিনি দৌড়ে বাইরে বেরিয়ে যাওয়ার সময় পান। সানচেজ জানান, বাইরে আসার পর তারা কাঁপুনি অনুভব করেন এবং তাদের বাড়ির কোনো ক্ষতি হয়নি।

কলম্বিয়ার বোগোটায় বসবাসকারী ভেনেজুয়েলার প্রবাসী ৩৬ বছর বয়সী ডায়োজেনেস লোপেজ তার ফোনে সতর্কতা পান। তিনি ম্যাপে দেখেন যে ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল তার নিজ শহরের কাছে। পরে তার বোন মেসেজ দিয়ে জানান যে তাদের পরিবার নিরাপদে আছে। লোপেজ বলেন, চিলি বা জাপানের মতো ভেনেজুয়েলার মানুষের ভূমিকম্পের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার অভ্যাস নেই।

কীভাবে কাজ করে এই সতর্কতা ব্যবস্থা:
ভূমিকম্পে কয়েক ধরনের তরঙ্গ বা ঢেউ তৈরি হয়। ‘পি-ওয়েভ’ (P-wave) সবচেয়ে দ্রুত ছড়ায় এবং ছোট কম্পন সৃষ্টি করে। ‘এস-ওয়েভ’ (S-wave) একটু ধীর হলেও বড় ধরনের বিপজ্জনক কম্পন তৈরি করে। ‘এল-ওয়েভ’ (L-wave) সবার শেষে আসে এবং এটি সবচেয়ে বেশি ধ্বংসাত্মক।
মোবাইলের সেন্সর প্রথম ‘পি-ওয়েভ’ শনাক্ত করলে গুগলের সেন্টারে সংকেত পাঠায়। এরপর গুগলের সেন্টার আশপাশের অন্যান্য ফোনের তথ্য যাচাই করে দ্রুত অন্য ব্যবহারকারীদের কাছে অ্যালার্ট পাঠিয়ে দেয়।

যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূলে ইউএসজিএস ‘শেকঅ্যালার্ট’ নামে একটি ব্যবস্থা পরিচালনা করে। ক্যালিফোর্নিয়া, ওরেগন ও ওয়াশিংটনে বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে এটি কাজ করে। এর বিজ্ঞানী রবার্ট ডি গ্রুট বলেন, বুধবারের ভূমিকম্পে ৪০ লাখেরও বেশি মানুষকে সতর্ক করা হয়েছিল। বিপদ সম্পর্কে জানার একাধিক উপায় থাকা সবসময় ভালো বলে তিনি জানান।

১৯৯১ সালে মেক্সিকোতে প্রথম সাধারণ মানুষের জন্য আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা চালু হয়। এখন মেক্সিকো সিটিতে ভূমিকম্প মোকাবিলার মহড়াও দেওয়া হয়। অন্যদিকে জাপান ২০১১ সালে ৯.০ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্প ও সুনামির পর তাদের সতর্কীকরণ ব্যবস্থা সমুদ্রের তলদেশ পর্যন্ত বাড়িয়েছে। ওই দুর্যোগে ২২ হাজারের বেশি মানুষ মারা গিয়েছিল এবং ফুকুশিমা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটেছিল। জাপানের এই সমুদ্রতলদেশীয় আধুনিক ব্যবস্থা (S-Net) ভূমিকম্পের সতর্কতা ২০ সেকেন্ড এবং সুনামির সতর্কতা ২০ মিনিট আগে দিতে পারে।

যারা ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলের সবচেয়ে কাছে থাকেন, তারা সতর্ক হওয়ার সময় সবচেয়ে কম পান। অনেক সময় ভারী কাঁপুনি শুরুর আগে তারা অ্যালার্ট পান না। আর যারা দূরে থাকেন, তারা প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য কয়েক সেকেন্ড সময় বেশি পান।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© ২০২৫ প্রিয়দেশ