1. editor@priyodesh.com : editor : Mohammad Moniruzzaman Khan
  2. monirktc@yahoo.com : স্টাফ রিপোর্টার :
  3. priyodesh@priyodesh.com : priyodesh :
বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৪৬ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ

সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেও হাম নিয়ন্ত্রণে আসতে দুই-তিন মাস লাগবে

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬
  • ৭ Time View

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত বলেছেন, হাম নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং সবকিছু ঠিকঠাক করতে অন্তত দুই থেকে তিন মাস সময় লাগবে। এই সময়ের মধ্যেই কাজ করতে হবে, মৃত্যুর সংখ্যা কমিয়ে আনতে হবে এবং উন্নত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের অডিটোরিয়ামে শিশুদের হাম নিয়ে করা গবেষণার ফলাফল অবহিতকরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিনের সমস্যা এক দিনে বা সামনের সপ্তাহে সমাধান হয়ে যাবে এমন কোনো অবাস্তব প্রত্যাশা রাখা যাবে না। স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বর্তমান চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে। দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও অবহেলার কারণে এই খাত নানা সংকটের মুখে পড়েছিল। অন্যদিকে বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বড় নেটওয়ার্ক থাকলেও সেখানে মান নিয়ন্ত্রণ ও মুনাফার বিষয়টি জড়িত থাকে। তবে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল, হলি ফ্যামিলি বা বারডেমের মতো স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারি ও বেসরকারি খাতের একটি সুন্দর ভারসাম্য তৈরি করেছে।

শিশু স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার শিশু স্বাস্থ্যকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। আগামী দুই-তিন মাসের মধ্যে দেশের ৫টি বিভাগীয় শহরে ৫টি পূর্ণাঙ্গ শিশু হাসপাতাল কাজ শুরু করবে। এছাড়া স্বাস্থ্য খাতের জনবল সংকট দূর করতে খুব দ্রুত ৫ হাজার নতুন চিকিৎসক, ১ হাজার নার্স এবং ১ লাখ নতুন মাঠকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে।

এদিকে অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট (বাশিহাই) এবং আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি)-এর যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত একটি গবেষণার ফলাফল তুলে ধরা হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শিশুদের ৬৫ শতাংশই অপুষ্টিতে ভুগছিল। এর মধ্যে ১২ শতাংশ শিশু তীব্র এবং ৫৩ শতাংশ শিশু মাঝারি অপুষ্টির শিকার ছিল।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শিশুদের ৪৩ শতাংশের বয়স ৩ থেকে ৯ মাসের মধ্যে। আক্রান্ত শিশুদের ৩৮ শতাংশ জন্মের পর প্রথম ছয় মাস পূর্ণাঙ্গভাবে মায়ের বুকের দুধ পায়নি। তবে মারা যাওয়া শিশুদের ক্ষেত্রে এই হার ছিল ৮২ শতাংশ। অর্থাৎ, হামে মারা যাওয়া শিশুদের একটি বড় অংশ জীবনের প্রথম ছয় মাস মায়ের বুকের দুধ থেকে বঞ্চিত ছিল। এছাড়া নিয়মিত টিকা পাওয়ার বয়স হয়নি (৯ মাসের কম বয়সি) এমন শিশুদের মধ্যে ৯৭ দশমিক ৩ শতাংশ এবং টিকা নেওয়ার বয়স হলেও কোনো ডোজ না পাওয়া শিশুদের মধ্যে ৯৭ শতাংশের হাম শনাক্ত হয়েছে।

বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট এর পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এ কে এম আজিজুল হকের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, পরিচালক মো. নুরুল ইসলাম এবং আইইডিসিআরের পরিচালক কাজী আহমেদ জাকী। গবেষণার মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন হাসপাতালটির পরিচালক অধ্যাপক মির্জা মোহাম্মদ জিয়াউল ইসলাম এবং আইসিডিডিআর,বির জ্যেষ্ঠ পরিচালক মুস্তাফিজুর রহমান।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© ২০২৬ প্রিয়দেশ