1. editor@priyodesh.com : editor : Mohammad Moniruzzaman Khan
  2. monirktc@yahoo.com : স্টাফ রিপোর্টার :
  3. priyodesh@priyodesh.com : priyodesh :
শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৪৮ অপরাহ্ন

৭০ কিমি এলাকাজুড়ে তেল, হুমকির মুখে জীববৈচিত্র্য

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৪
  • ১২২ Time View

tankarশ্যালা নদীর আশপাশের নালা-খালগুলোতে ভাসছে তেল। বনের গাছের গায়ে তেলের কালো দাগ। বিস্তীর্ণ এলাকার যেদিকে চোখ যায় ফার্নেস অয়েলের ঘন কালো আস্তরণ।

শ্যালা নদীর শাখা-প্রশাখা ও অসংখ্য ছোট-বড় খালে ঘোলা পানির পরিবর্তে দেখা গেছে ঘনকালো ফার্নেস অয়েলের আস্তরণ। ট্যাংকার ডুবির পর তিনটি জোয়ারের ফলে প্রায় ৭০ কিলোমিটার বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে এ তেল ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে শ্যালা নদীর শাখা-প্রশাখা দিয়ে এ তেল প্রবেশ করেছে সুন্দরবনের গভীরে। যা জীববৈচিত্র্যকে মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলেছে।

সরেজমিন বুধবার বিকেল নাগাদ সুন্দরবনের জয়মনি, বেলতলা, নন্দবালা, আন্ধারমানিক, মৃগমারী প্রভৃতি এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। নদীতে তেলের আস্তরণের পাশাপাশি এর শাখা-প্রশাখায় এবং শাখা-প্রশাখা থেকে উৎপন্ন ছোট-বড় অসংখ্য খালে তেলের আস্তরণ দেখা গেছে।

ট্যাংকার ডুবির পরপরই তা থেকে ছড়িয়ে পড়ে তেল। খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক কার্ত্তিক চন্দ্র সরকার বলেন, ট্যাংকার ডুবির পর তিনটি জোয়ার হয়েছে। এতে অন্তত ৭০ কিলোমিটার এলাকা তেল ছড়িয়ে  পড়েছে।

সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আমীর হুসাঈন চৌধুরী বলেন, বিশ্বে ইরাবতী ডলফিনের (শুশুক) সবচেয়ে বড় বিচরণক্ষেত্র সুন্দরবন। শ্যালা নদীসংলগ্ন এলাকা এ জলজ প্রাণির ‘অভয়াশ্রম’ হিসেবে সরকারিভাবে ঘোষিত। কিন্তু ট্যাংকার ডুবির ঘটনায় মৃগমারী-নন্দবালা-আন্ধারমানিক ডলফিনের অভয়াশ্রম মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এখান থেকে ডলফিনের বসতি সরে যেতে পারে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক দিলীপ কুমার দত্ত বলেন, তেল ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় পানিতে দ্রবীভূত অঙিজেনের মাত্রা কমে যাবে। সেক্ষেত্রে ডলফিনসহ অন্য জলজ প্রাণী অঙিজেন সঙ্কটে পড়বে। এ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির সম্মুখীন হবে সুন্দরবনের শ্বাসমূলীয় সুন্দরী গাছসহ জলজ সম্পদ।

স্থানীয় লুৎফার রহমান ও তপন কুমার বলেন, জীবিকার জন্য মাছ শিকার করি। কিন্তু মঙ্গলবার সামান্য মাছ শিকার করতে পারলেও বুধবার নদীর সর্বত্র কালো তেল থাকায় আর মাছ শিকার করা সম্ভব হয়নি। মরা কিছু মাছ জালে ভেসে উঠেছে। বিষাক্ত বলে তা আবার নদীতে ফেলে দিতে হয়েছে।

এর আগে, ৩০ সেপ্টেম্বর মংলা বন্দরের পশুর চ্যানেলে জয়মনির ঘোল এলাকায় সিমেন্টের কাঁচামাল ক্লিংকার নিয়ে একটি কার্গো জাহাজ ডুবে যায়। এরও আগে ১২ সেপ্টেম্বর পশুর চ্যানেলের হাড়বাড়িয়া এলাকায়ও ক্লিংকারবাহী আর একটি কার্গো ডুবে যায়।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© ২০২৬ প্রিয়দেশ