ঢাকাই সিনেমার ইতিহাসে নায়করাজ রাজ্জাকের নাম একটি স্বতন্ত্র অধ্যায়। অভিনয়জীবনের শুরু থেকে একের পর এক সিনেমায় অভিনয় করে অল্প সময়েই দর্শকদের প্রিয় নায়কে পরিণত হন তিনি। রাজ্জাক অভিনীত শততম চলচ্চিত্রের মাইলফলক শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের ঘটনা ছিল না; এর সঙ্গে জড়িয়ে ছিল বাংলা সিনেমার ‘নায়করাজ’ হয়ে ওঠার গল্প।
১৯৭৬ সালের দিকে শততম সিনেমা মুক্তির সময় তাকে ‘নায়করাজ রাজ্জাক’ উপাধিতে ভূষিত করেন চলচ্চিত্রবিষয়ক 'চিত্রালী' পত্রিকার প্রখ্যাত সাংবাদিক আহমদ জামান চৌধুরী।
সে সময় রাজ্জাক অভিনীত 'প্রতিনিধি' সিনেমাটি মুক্তি পায়। ওই সিনেমায় নায়িকা ছিলেন সুজাতা। পরিচালনায় ছিলেন আজিম।
একই বছরের ১৫ জানুয়ারি চলচ্চিত্রবিষয়ক অপর পত্রিকা 'পূর্বাণী' জানায়, নায়ক সম্রাট রাজ্জাকের শততম সিনেমা উপলক্ষে সুজাতা প্রোডাকশনের আয়োজনে তাকে সংবর্ধনা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে উল্লেখ করা হয়, পরের দিন, অর্থাৎ ১৬ জানুয়ারি মুক্তি পেতে যাচ্ছে ‘প্রতিনিধি’।
সে হিসাবেই রাজ্জাকের শততম সিনেমা মুক্তির দিনটি জানা যায়।
আরও কয়েকটি পত্রিকা তাকে নিয়ে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে বলেও জানা যায় 'পূর্বাণী'র ওই সংস্করণে। এফডিসির কলাকুশলীরাও নায়করাজ রাজ্জাককে নিয়ে সংবর্ধনার আয়োজন করেন। এ ছাড়া 'বিচিত্রা ফিল্মস' নামে আরেকটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান বিশাল আয়োজন করেছিল।
নায়করাজ রাজ্জাকের চলচ্চিত্রজীবন শুরু ষাটের দশকে।
১৯৬৬ সালে জহির রায়হান পরিচালিত 'বেহুলা' সিনেমা দিয়ে নায়ক হিসেবে তার যাত্রা শুরু হয়। এরপর 'ময়না মতি', 'নীল আকাশের নিচে', 'জীবন থেকে নেয়া'র মতো সিনেমায় অভিনয় করে নিজের অবস্থান শক্ত করেন।
এ ছাড়া 'রংবাজ', 'অবুঝ মন', 'অনন্ত প্রেম', 'স্বরলিলি' সিনেমাগুলো তার অভিনয়জীবনের স্মরণীয় কাজ হিসেবে বিবেচিত।
তার অন্যান্য উল্লেখযোগ্য সিনেমার মধ্যে রয়েছে 'বাঁদী থেকে বেগম', 'কি যে করি', 'পাগলা রাজা', 'অশিক্ষিত', 'মাটির ঘর', 'ছুটির ঘণ্টা', 'আনারকলি', 'মৌ-চোর', 'রাজা সাহেব', 'বড় ভালো লোক ছিল', 'রজনীগন্ধা', 'বদনাম', 'লাইলী মজনু', 'তালাক', 'অভিযান', 'চন্দ্রনাথ', 'সৎভাই', 'শুভদা', 'যোগাযোগ' ও 'ঢাকা-৮৬'।
নায়করাজ রাজ্জাকের সঙ্গে নায়িকা হিসেবে সুচন্দা, কবরী, ববিতা, শাবানা, সুজাতা, শবনম, সুচরিতা, রোজিনা ও অঞ্জনার অভিনয় দর্শকদের মুগ্ধ করেছে।
এই নায়িকারা তার বিপরীতে বিভিন্ন চরিত্রে জুটি হয়ে অভিনয় করেন।
সুচন্দার সঙ্গে প্রথম জুটি হয়ে 'বেহুলা' সিনেমায় অভিনয় করেন রাজ্জাক। পরে সুচন্দার সঙ্গে 'আনোয়ারা', 'জুলেখা', 'দুই ভাই', 'সংসার', 'সখিনা', 'কুঁচবরণ কন্যা', 'মনের মতো বউ' ও 'জীবন থেকে নেয়া' সিনেমায় অভিনয় করেন।
কবরীর সঙ্গে তার প্রথম সিনেমা 'নিশি হলো ভোর'। এরপর 'বাঁশরী', 'ময়নামতি', 'নীল আকাশের নিচে', 'কখগঘঙ', 'দর্পচূর্ণ', 'দীপ নেভে নাই', 'স্মৃতিটুকু থাক', 'রংবাজ', 'বেঈমান', 'উপহার' ও 'গুন্ডা' সিনেমায় অভিনয় করেন।
শাবানার সঙ্গে 'মধুমিলন', 'অবুঝ মন', 'অতিথি', 'চাষীর মেয়ে', 'অমর প্রেম', 'অলংকার', 'মাটির ঘর', 'ছুটির ঘণ্টা', 'পুত্রবধূ' ও 'রজনীগন্ধা' সিনেমায় অভিনয় করেন রাজ্জাক। ববিতার সঙ্গে 'পীচ ঢালা পথ', 'বাঁদী থেকে বেগম', 'আকাঙ্ক্ষা', 'অনন্ত প্রেম', 'অগ্নিপরীক্ষা', 'আনারকলি' ও 'লাইলী মজনু' সিনেমায় অভিনয় করেন।