নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে ছোট পর্দায় অভিষেক হয় সুরাইয়া হুদা রাত্রির। দর্শকদের কাছে তিনি রাত্রি নামেই পরিচিত। ‘ধূসর বসন্ত’ তার অভিনীত প্রথম নাটক। এরপর ‘আত্মাহুতির পালা’ নাটকে অভিনয় করেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধের গল্পনির্ভর এই নাটক তাকে বেশ পরিচিতি এনে দেয়। এতে অভিনয় করেছিলেন গোলাম মুস্তাফার মতো বিখ্যাত অভিনেতাও।
এরপর প্রচারিত হয় ‘রাতের পাখি’ নামে এক ঘণ্টার একটি নাটক। এতে রাত্রির বিপরীতে অভিনয় করেন আজিজুল হাকিম। নাটকটি দর্শকপ্রিয়তা পায়। এরপর আজিজুল হাকিম ও রাত্রি জুটি হয়ে বেশ কয়েকটি নাটকে অভিনয় করেন।
বর্তমানে আমেরিকায় আছেন রাত্রি। অনেক বছর ধরে সেখানেই বসবাস করছেন তিনি। নিজের অভিনয়জীবনের শুরুর দিকের স্মৃতিচারণা করে রাত্রি দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আত্মাহুতির পালা নাটকটি প্রচারিত হওয়ার পর আমার ক্যারিয়ার পুরোপুরি বদলে যায়। চারদিক থেকে অনেক সাড়া পাই। সেই সঙ্গে সিনেমার অনেক পরিচালক তখন আমাকে বড় পর্দায় অভিনয়ের প্রস্তাব দেন। বাসায়ও পরিচালকেরা আসতে শুরু করেন। কিন্তু সিনেমায় অভিনয় করা হয়নি।’
এই অভিনেত্রী জানান, টিভি নাটকে অভিনয়ের ব্যাপারে তার পরিবার রাজি ছিল না। একটি নাটকে অভিনয় করবেন—এ কথা বলেই তিনি পরিবারকে রাজি করিয়েছিলেন।
‘আগন্তুক’ নামের একটি টেলিফিল্মে অভিনয় করেও দর্শকদের সাড়া পান তিনি। ‘হীরামন’ নাটকে অভিনয় করে প্রশংসা কুড়ান। অভিনয় করেন মামুনুর রশীদের পরিচালনায় ‘দানব’ ধারাবাহিকে। এতে আজিজুল হাকিমের বিপরীতে ছিলেন তিনি।
‘দানব নাটকে অভিনয় করে সবার কাছ থেকে প্রশংসা পেয়েছি। যতগুলো নাটকে অভিনয় করেছি, সবগুলোর জন্যই দর্শকদের ভালোবাসা পেয়েছি।’
জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকার সময়ই আমেরিকায় পাড়ি জমান রাত্রি। তবে প্রথমবার দেশ ছাড়ার ছয় বছর পর ফিরে এসে এস এ হক অলিকের পরিচালনায় ‘জল পড়ে পাতা নড়ে’ ধারাবাহিকে অভিনয় করেন।
রাত্রি বলেন, ‘ওই বছর বিমানবন্দর থেকে নেমেই সোজা শুটিং করতে গিয়েছিলাম। ছয় বছর পর দেশে ফিরেও দেখেছি, অনেকেই আমার অভিনীত নাটকগুলোর কথা মনে রেখেছেন।’
‘ওই সময় তো নাটকের সিডি পাওয়া যেত। নিউইয়র্কে আমার অভিনীত নাটকের সিডি বিক্রি হতো। অনেকেই আমাকে বিভিন্ন নাটকের নাম ধরে ধরে বলতেন। ভালো লাগত।’
তিনি বলেন, ‘দেশ থেকে অনেক দূরে আছি। অনেক দিন হলো বিদেশে আছি। তারপরও মানুষের ভালোবাসা পাই। অনেকেই আমাকে মনে রেখেছেন। কেউ যখন বলেন, “রাত্রি না? আপনার নাটক দেখেছি”, তখন আনন্দ পাই। অন্য রকম ভালো লাগা কাজ করে।’
আমেরিকায় সময় কাটছে কীভাবে, জানতে চাইলে রাত্রি বলেন, ‘এখানে একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করি। অনেক ব্যস্ত থাকতে হয়। তারপরও ভালো আছি। অনেক বছর হয়ে গেছে এখানে এসেছি। যেখানে আছি, সেখানে অনেক বাঙালি আছেন।’