বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস
সিলেটে মাউন্ট এডোরা হাসপাতালের ‘মেন্টারনিটি কেয়ার ইউনিটে’ রোগী ভর্তি বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়।
এক নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনার গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে এই নির্দেশনা দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন সিলেটের সিভিল সার্জন মো. নাসির উদ্দিন।
তিনি বলেন, “মাউন্ট এডোরা হাসপতালের ওল উইমেন মেন্টারনিটি কেয়ার ইউনিটে প্রয়োজনীয় গাইনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, স্থায়ী অ্যানেস্থেশিওলজিস্টসহ দক্ষ জনবল নিয়োগ দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। নিয়োগ না দেওয়া পর্যন্ত ওই ইউনিট বন্ধ রাখার জন্য বলা হয়েছে। মাউন্ট এডোরা হাসপতাল কর্তৃপক্ষ চিঠি দিয়ে জানিয়েছে, তারা ওই ইউনিট বন্ধ রেখেছেন।”
তিনি বলেন, “জনবল নিয়োগ দেওয়ার পর পরিদর্শন করে পুনরায় চালুর নির্দেশনা দেওয়া হবে।”
সিলেটের ডেপুটি সিভিল সার্জন জন্মেজয় দত্ত বলেন, “গত বৃহস্পতিবার তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রতিবেদনে সুপারিশের আলোকে মাউন্ট এডোরা কর্তৃপক্ষকে তাদের মেটারনিটি ইউনিট বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়। তবে নির্দেশনা না মানলে পরবর্তীতে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
৯ অক্টোবর সিলেট নগরীর আখায়িলা এলাকার মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে ডেলিভারির সময় এক নবজাতকের মৃত্যু হয়। এ সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে চিকিৎসা অবহেলায় অভিযোগ তুলেন নিহতদের স্বজনরা।
স্বজনদের দাবি, সময়মতো প্রসূতির সিজারিয়ান অপারেশন না করে জোরপূর্বক স্বাভাবিক প্রসবের (নরমাল ডেলিভারি) চেষ্টা চালানোর কারণেই নবজাতকটির মৃত্যু হয়েছে।
ঘটনার দুদিন আগে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারের অন্তঃসত্ত্বা নবজাতকের নাজমা বেগমকে সন্তান প্রসবের জন্য মাউন্ড এডোরা হাসপাতালে ভর্তি করেন স্বজনরা। তিনি ওই হাসপাতালে সহকারী অধ্যাপক রেজওয়ানা মির্জার অধীনে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
স্বজনদের অভিযোগ, আল্ট্রাসোনোগ্রাম রিপোর্ট অনুযায়ী, বাচ্চার ওজন সাড়ে তিন থেকে চার কেজি হওয়ায় তারা শুরু থেকেই চিকিৎসকদের সিজারিয়ান ডেলিভারির অনুরোধ জানান। স্বজনদের বার বার তাগিদ সত্ত্বেও দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকরা জানান, মা ও শিশু উভয়েই সুস্থ আছেন এবং স্বাভাবিক প্রসব সম্ভব। কিন্তু সময় গড়িয়ে গেলেও কোনো সঠিক ব্যবস্থা না নিয়ে কালক্ষেপণ করা হয়।
তাদের অভিযোগ, প্রসূতির গর্ভ থেকে নবজাতকের মাথা বের হলেও শরীরের বাকি অংশ (কাঁধ) আটকে যায়। এই পরিস্থিতিতে চিকিৎসকদের অপরিকল্পিত টানাটানির কারণে নবজাতকটির গলায়, পিঠে ও মাথায় মারাত্মক জখম হয় এবং শ্বাসরুদ্ধ হয়ে শিশুটি মারা যায়। পরবর্তীতে জটিলতা তীব্র আকার ধারণ করলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে খবর দেওয়া হয়, কিন্তু ততক্ষণে নবজাতক মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।
এই ঘটনায় চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগ এনে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ করেন নাজমা বেগমের স্বজনরা। এই অভিযোগ পেয়ে সিলেটের ডেপুটি সিভিল সার্জনকে প্রধান করেন চার সদস্যের তদন্ত কমিটি করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
রোগী ভর্তি বন্ধের বিষয়ে জানতে মাউন্ট এডোরা হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অধ্যাপক কে এম আখতারুজ্জামান বলেন, “আমি এখন হাসপাতালের দায়িত্বে নেই। যারা দায়িত্বে আছেন তাদের কাছে জানতে পারেন।”
পরে হাসপাতালের কাস্টমার কেয়ারে মোবাইল করা হলে হাবিবুর রহমান নামের একজন কর্মকর্তা বলেন, “ এখন ‘মেন্টারনিটি কেয়ার ইউনিটে’ রোগী ভর্তি বন্ধ আছে।”
পশুপাখির প্রতি নিষ্ঠুরতা: নিজের পায়ে কুড়াল মারার দীর্ঘ ইতিহাস
তীব্র তাপপ্রবাহ: অনাগত প্রজন্মের জন্য নীরব বিপদ
হাইড্রোজেনের ভবিষ্যৎ: সম্ভাবনা বিপুল, কিন্তু অর্থনীতির পরীক্ষায় এখনো প্রস্তুত নয়
ব্রাজিলে লুলা দ্য সিলভার বিজয়ের বৈশ্বিক গুরুত্ব