বিশ্বকাপের পর বাংলাদেশ-ভারতের এটাই প্রথম ওয়ানডে সিরিজ। এবং তা বাংলাদেশের মাটিতেই হচ্ছে। আর মাস তিনেক আগের বিশ্বকাপের কথা উঠতেই, গোটা বাংলাদেশের মনে উঁকি দেয় মেলবোর্নের সেই তিক্ত স্মৃতি। গত ১৯ মার্চ কোয়ার্টার ফাইনালে ভারতের কাছে ১০৯ রানে হেরে বিদায় নেয় বাংলাদেশ।
কিন্তু ম্যাচের অভ্যন্তরে ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনা দাগ কেটে যায় বাংলাদেশের ক্রিকেট ভক্তদের মনে। রোহিত শর্মার আউট হওয়া বলটি ‘নো’ ডাকা, ছক্কা হয়ে যাওয়া ক্যাচেও মাহমুদউল্লাহর আউট হওয়া। ম্যাচে স্পাইডার ক্যামেরা না থাকা। আম্পায়ারদের পক্ষপাতদুষ্ট সিদ্ধান্তের বলি হয় বাংলাদেশ। যে ম্যাচের কথা মনে করতে এখনও, টাইগারপ্রেমীদের ভেতরটা কেঁপে উঠে!
সেক্ষেত্রে বৃহস্পতিবার শুরু হতে চলা দুদলের ওয়ানডে সিরিজের যুতসই আবহ সংগীত হতে পারতো, বাংলাদেশের প্রতিশোধের মিশন।
কিন্তু সিরিজের এই ট্যাগ লাইনে সায় দিচ্ছেন না খোদ বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মতুর্জাই। মেলবোর্নের সেই ম্যাচে বাংলাদেশের অধিনায়ক ছিলেন মাশরাফিই। বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল লড়াইয়ের কোনো প্রভাবই এই সিরিজে থাকবে না বলে জানালেন তিনি। আর ভারতীয় অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনির মনে, ওই ম্যাচটি আছে বলেই তো মনে হলো না। বুধবার ম্যাচ পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে কয়েকবার প্রশ্ন করেও সেই ম্যাচের স্মৃতি জাগিয়ে তোলা সম্ভব হলো না ধোনির মাঝে।
বিশ্বকাপের ওই ম্যাচের বিতর্ক এই সিরিজে প্রভাব ফেলবে কিনা জানতে চাইলে ধোনি বলেন, “কোন বিতর্ক, কোন ম্যাচের কথা তুমি বলছ? এটা তো ৪-৫ মাস আগের। আমি কয়েকদিন আগের কথা মনে করতে পারি। সেখানে বাংলাদেশ আসছে না।” ওই ম্যাচের কথা ভাবলে তোমার মনে প্রথম কি আসে? কিছুক্ষণ ভেবে ধোনির উত্তর, “ওই টা একটা ক্রিকেট ম্যাচ ছিল।”
টাইগার অধিনায়ক মাশরাফি তো ধোনির চেয়ে পরিষ্কার ভাষায় জানিয়ে দিলেন, এই সিরিজে থাকছে না বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের ঝাঁঝ। সংবাদ সম্মেলনে মাশরাফি বলেন, “আমরা মাঠে অবশ্যই যুদ্ধ করি। কিন্তু এটা এমন না যে যুদ্ধই। সেটা মাঠে খেলার যুদ্ধ থাকেই। আমার মনে হয় না যে তিন-চার মাসে আগে যা হয়ে গেছে তা নিয়ে কোনো দলের ক্রিকেটার তা মনে রাখে। দূর্ঘটনাবশত অনেক কিছু হতে পারে। আমার মনে হয় না যে এটা নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করার কিছু আছে। এখন আমরা নতুন সিরিজের সামনে দাঁড়িয়ে আছি। বিশেষকরে তখনকার কথাগুলো স্বাভাবিক মানুষগুলো বলতে থাকবে। ক্রিকেটার হিসেবে এগুলো মনে রাখা ঠিক না, এগুলো মনে হয়ও না। মানুষের আবেগ তো বন্ধ করা কঠিন। তারা এগুলো বলতেই পারে। আমি তারপরও অনুরোধ করবো খেলার জায়গাটাকে খেলা হিসেবেই দেখতে। আমরা মাঠে খেলবো, হারতে পারি-জিততেও পারি। হারলে খারাপ লাগবে এটা স্বাভাবিক। আমরা অবশ্যই জেতার জন্যে খেলবো এবং আশা করবো সবাই যেন ওই জিনিসটা নিয়ে ভিন্ন চিন্তা না করে। এটা না হলেই ভালো।”