1. editor@priyodesh.com : editor : Mohammad Moniruzzaman Khan
  2. monirktc@yahoo.com : স্টাফ রিপোর্টার :
  3. priyodesh@priyodesh.com : priyodesh :
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:৪৩ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
‘ঘাড় থেকে মাথা সরিয়ে দেব’—বিএনপি নেতাকে হুমকি স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার মানুষ, প্রাণী ও প্রকৃতি: গ্রামীণ প্রেক্ষাপটে ওয়ান হেলথের গুরুত্ব বাংলাদেশের ইমার্জিং নেশনস ট্রফির দলে যাঁরা আছেন ইরান যুদ্ধের মধ্যে তৃতীয় প্রান্তিকে আরামকোর মুনাফা বেড়েছে ৯ শতাংশ ইমার্জিং ট্রফিতে পূর্ণ শক্তির দল ঘোষণা বাংলাদেশের, নতুন অধিনায়ক নাহিদা আইপিএলে খেলা নিয়ে মুখ খুললেন মোহাম্মদ আমির আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিলেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল সিডনিতে বাংলাদেশ উইমেন্স ফোরামের বসন্ত উৎসব তরুণদের বিনা জামানতে ২০ লাখ টাকা ঋণের আবেদন শুরু, করবেন যেভাবে বুড়িগঙ্গা থেকে সুন্দরবন: পরিবেশ রক্ষার অঙ্গীকার বনাম বিএনপি সরকারের সিদ্ধান্ত

রূপালী ব্যাংকের ১৯,৮০৫ কোটি টাকা খেলাপি ঋণের অর্ধেকই আটকে আছে ২০ ঋণগ্রহীতার কাছে

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬
  • ৩২ Time View

রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণের প্রায় অর্ধেকই আটকে আছে মাত্র ২০ ঋণগ্রহীতার কাছে। ব্যাংকটির শীর্ষ ২০ খেলাপির কাছে আটকে থাকা ঋণের পরিমাণ ৯ হাজার ৮৫৯ কোটি টাকা। অথচ চলতি বছরের প্রথম ৬ মাসে এসব খেলাপির কাছ থেকে ব্যাংকটি আদায় করতে পেরেছে মাত্র ৪.০৩ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সুপারভাইজরি ডাটা ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড অ্যানালিটিক্স ডিপার্টমেন্টের তৈরি করা এক প্রতিবেদন অনুসারে, জুনে ব্যাংকটির মোট খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ৮০৪.৫৯ কোটি টাকা, যা বিতরণ করা মোট অনাদায়ী ঋণের ৩৭.৯৮ শতাংশ। একই সময়ে ব্যাংকটির প্রকৃত মূলধন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ২৬ কোটি টাকা।

এ পরিসংখ্যান বড় অঙ্কের খেলাপি ঋণ আদায়ে ব্যাংকটির দীর্ঘদিনের সংগ্রামকে সামনে নিয়ে এসেছে। আদায় কার্যক্রমে দুর্বলতা, ঋণ অবলোপন ও দীর্ঘসূত্রতার মুখে পড়া আইনি লড়াই ব্যাংকটির আর্থিক অবস্থাকে আরও চাপে ফেলেছে।

শীর্ষ খেলাপিদের কাছ থেকে রূপালী ব্যাংকের আদায়ের চিত্র গত কয়েক বছর ধরেই ওঠানামা করছে। ২০২৪ সালে শীর্ষ ঋণ খেলাপিদের কাছ থেকে ব্যাংকটি ৪৫.৭০ কোটি টাকা আদায় করেছিল। ২০২৫ সালে আদায় বেড়ে দাঁড়ায় ৩৬১ কোটি টাকা। কিন্তু চলতি বছরের প্রথম ৬ মাসে সেই আদায় নেমে এসেছে মাত্র ৪.০৩ কোটি টাকায়।

সামগ্রিকভাবে খেলাপি ঋণ থেকে ২০২৪ সালে ৩৮১ কোটি টাকা ও ২০২৫ সালে ১ হাজার ২৭৪ কোটি টাকা আদায় করেছিল রূপালী ব্যাংক। ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত আদায় হয়েছে মাত্র ৩৩০ কোটি টাকা। যদিও এ বছর খেলাপি ঋণ থেকে ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে ব্যাংকটি।

৯৯৪ কোটি টাকার অনাদায়ী ঋণ নিয়ে ব্যাংকটির শীর্ষ ২০ খেলাপির তালিকার শীর্ষে রয়েছে বেক্সিমকো গ্রুপ। ৯০৮ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশন।

নারায়ণগঞ্জের ক্রোনী গ্রুপের কাছে রূপালী ব্যাংকের পাওনা ৮৭২ কোটি টাকা। খুলনার জুট টেক্সটাইল মিলসের কাছে ৭২৪ কোটি টাকা, চট্টগ্রামের নূরজাহান গ্রুপের কাছে ৬৩০ কোটি টাকা ও চট্টগ্রামের এইচ এস কম্পোজিটের কাছে ৬২০ কোটি টাকা আটকে আছে।

এ ছাড়া মাদারীপুর স্পিনিং মিলসের কাছে ৬১৮ কোটি টাকা, ব্লু প্লানেট গ্রুপের বদর স্পিনিং মিলসের কাছে ৬০৪ কোটি টাকা, ডলি কনস্ট্রাকশনের কাছে ৫০৬ কোটি টাকা ও সাত্তার গ্রুপের কাছে ৪০৩ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে ব্যাংকটির।

শীর্ষ খেলাপিদের মধ্যে বেনিটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজের কাছে ৩৭১ কোটি টাকা, খুলনার ক্রিসেন্ট জুট মিলের কাছে ৩২৫ কোটি টাকা, এস আলম গ্রুপের গ্লোবাল ট্রেডিং কর্পোরেশন ও সোনালী ট্রেডার্সের কাছে ৩১৬ কোটি টাকা, বসুন্ধরা গ্রুপের বসুন্ধরা মাল্টি পেপার ইন্ডাস্ট্রিজ ও বসুন্ধরা পেপার মিল লিমিটেডের কাছে ৩০৯ কোটি টাকা এবং থার্মেক্স গ্রুপের ৫টি প্রতিষ্ঠানের কাছে ৩০২ কোটি টাকা আটকে আছে।

এছাড়া গ্যালকো স্টীল (বাংলাদেশ) লিমিটেডের কাছে ২৮৭ কোটি টাকা, ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল লিমিটেডের কাছে ২৮৫ কোটি টাকা, বেঙ্গল লেদারের কাছে ২৭৫ কোটি টাকা, জাপান বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ পেপার লিমিটেডের কাছে ২৭০ কোটি টাকা ও ভার্গো মিডিয়ার কাছে ২৪০ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে।

তবে রূপালী ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংককে জানিয়েছে, বসুন্ধরা পেপার মিল লিমিটেড ও ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল লিমিটেড এপ্রিলে এবং বেনিটেক্স ও জুট টেক্সটাইল মে মাসে পুনঃতফসিলের মাধ্যমে খেলাপি অবস্থা থেকে বের হয়ে এসেছে।

ঋণ আদায়ে বাধা অবলোপন ও আদালতের মামলা

খেলাপি ঋণের বিপরীতে আদায় কম হলেও ঋণ অবলোপনের পরিমাণও কমেনি। চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ব্যাংকটি ৪৯০ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ অবলোপন করেছে। এর আগে ২০২৪ সালে ৫১৮ কোটি টাকা ও ২০২৫ সালে ৪৯৪ কোটি টাকা অবলোপন করা হয়েছিল।

অবলোপনের মাধ্যমে খেলাপি ঋণ ব্যাংকের মূল হিসাব (ব্যালান্স শিট) থেকে সরিয়ে রাখা হয়।

তবে অবলোপন করা ঋণ থেকে আদায়ের চিত্র আরও দুর্বল। চলতি বছরের প্রথম ৬ মাসে অবলোপন করা ঋণ থেকে রূপালী ব্যাংক আদায় করেছে মাত্র ৪.১৪ কোটি টাকা। ২০২৪ সালে এ খাত থেকে আদায় হয়েছিল ৪৪.২৫ কোটি টাকা এবং ২০২৫ সালে ২৫.১৮ কোটি টাকা।

খেলাপি ঋণ আদায়ে মামলার দীর্ঘসূত্রতাও ব্যাংকের অর্থ আটকে থাকার অন্যতম কারণ। গত জুন পর্যন্ত অর্থঋণ আদালতে রূপালী ব্যাংকের ২ হাজার ৫৯৬টি মামলা রয়েছে। এসব মামলায় আটকে থাকা অর্থের পরিমাণ ১২ হাজার ৬৬৪ কোটি টাকা।

মূলধন ঘাটতি ও লোকসানে ঘনীভূত হচ্ছে সংকট

উচ্চ খেলাপি ঋণের হারের পাশাপাশি তীব্র মূলধন সংকটে ভুগছে রূপালী ব্যাংক। জুনে রূপালী ব্যাংকের প্রকৃত মূলধন ঘাটতি ছিল ১৮ হাজার ২৬ কোটি টাকা। তবে রেগুলেটরি ফারবিয়ারেন্সের পর মূলধন ঘাটতি কমে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ২৩২ কোটি টাকা।

এছাড়া জুন পর্যন্ত ব্যাংকটির পরিচালন লোকসান হয়েছে ২৩৩ কোটি টাকা এবং নিট লোকসান হয়েছে ৩৯৭ কোটি টাকা।

জুন শেষে রূপালী ব্যাংকের আমানতের পরিমাণ ছিল ৭২ হাজার ৬৩৬ কোটি টাকা। বিপরীতে বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ৪৭ হাজার ৯০৬ কোটি টাকা। জুন শেষে ব্যাংকটির ঋণ-আমানত অনুপাত দাঁড়িয়েছে ৭০.৪৩ শতাংশ।

ব্যাংক খাতের বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি খেলাপি ঋণের কারণে ব্যাংকগুলোতে গুরুতর সংকট তৈরি হচ্ছে। এর অন্যতম বড় প্রভাব পড়ছে তারল্যের ওপর। আমানতের অর্থ খেলাপি ঋণের বিপরীতে প্রভিশন সংরক্ষণে আটকে যাওয়ায় ব্যাংকগুলোর নতুন করে লাভজনক খাতে ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা কমে যাচ্ছে। একই সঙ্গে মূলধন সংকট তৈরি হচ্ছে, যা পুরো আর্থিক খাতের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

শনিবার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে জাতীয় অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ বলেন, দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ এখন মোট ঋণের ৩২ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। এটি ঋণ আদায় ও পুনর্বিনিয়োগের স্বাভাবিক চক্রকে ব্যাহত করছে। সেইসঙ্গে তা ব্যাংকের মুনাফা অর্জন, মূলধন পর্যাপ্ততা, নতুন ঋণ বিতরণ ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।

রূপালী ব্যাংক ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হওয়ায় নিয়মিত লোকসান ও মূলধন ঘাটতি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থাতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে এবং শেয়ারের দরপতনের চাপ তৈরি করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে কৃষি ঋণ বিতরণ

তবে আর্থিক সংকটের মধ্যেও কৃষি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতে ঋণ বিতরণে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করেছে রূপালী ব্যাংক। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৪০০ কোটি টাকা এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৫০৫ কোটি টাকা কৃষি ঋণ বিতরণ করেছে ব্যাংকটি। উভয় ক্ষেত্রেই বিতরণের পরিমাণ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ছিল।

খেলাপি ঋণ কমানো এবং রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে সুশাসন ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ ব্যাংকও বেশ কিছু কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। মূলধন ঘাটতি ও উচ্চ খেলাপি ঋণে থাকা ব্যাংকগুলোর ওপর প্রাতিষ্ঠানিক নজরদারি জোরদার করতে প্রম্পট কারেক্টিভ অ্যাকশন (সিপিএ) নীতিমালা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

এছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংক অবলোপন নীতিমালা আধুনিকায়ন করেছে এবং অর্থঋণ আদালতে থাকা মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য তাগিদ দিচ্ছে। ঋণ পুনর্গঠন ও পুনঃতফসিলের সুযোগ সীমিত করে শীর্ষ ২০ খেলাপির কাছ থেকে সরাসরি নগদ আদায়ে মাসিক ও ত্রৈমাসিক লক্ষ্যমাত্রাও নির্ধারণ করে দিয়েছে।

While most comments will be posted if they are on-topic and not abusive, moderation decisions are subjective. Published comments are readers’ own views and The Business Standard does not endorse any of the readers’ comments.

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© ২০২৬ প্রিয়দেশ