1. editor@priyodesh.com : editor : Mohammad Moniruzzaman Khan
  2. monirktc@yahoo.com : স্টাফ রিপোর্টার :
  3. priyodesh@priyodesh.com : priyodesh :
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:১৯ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
মানুষ, প্রাণী ও প্রকৃতি: গ্রামীণ প্রেক্ষাপটে ওয়ান হেলথের গুরুত্ব বাংলাদেশের ইমার্জিং নেশনস ট্রফির দলে যাঁরা আছেন ইরান যুদ্ধের মধ্যে তৃতীয় প্রান্তিকে আরামকোর মুনাফা বেড়েছে ৯ শতাংশ ইমার্জিং ট্রফিতে পূর্ণ শক্তির দল ঘোষণা বাংলাদেশের, নতুন অধিনায়ক নাহিদা আইপিএলে খেলা নিয়ে মুখ খুললেন মোহাম্মদ আমির আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিলেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল সিডনিতে বাংলাদেশ উইমেন্স ফোরামের বসন্ত উৎসব তরুণদের বিনা জামানতে ২০ লাখ টাকা ঋণের আবেদন শুরু, করবেন যেভাবে বুড়িগঙ্গা থেকে সুন্দরবন: পরিবেশ রক্ষার অঙ্গীকার বনাম বিএনপি সরকারের সিদ্ধান্ত স্বপ্ন অপূর্ণ রেখেই বিদায় বললেন ম্যাক্সওয়েল

বুড়িগঙ্গা থেকে সুন্দরবন: পরিবেশ রক্ষার অঙ্গীকার বনাম বিএনপি সরকারের সিদ্ধান্ত

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬
  • ২০ Time View

নির্বাচনের আগে বিএনপি পরিবেশ রক্ষা ও টেকসই উন্নয়নে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। ক্ষমতায় আসার পর বৃক্ষরোপণ, নদী-খাল খননসহ এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বেশ কিছু উদ্যোগও নিয়েছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও নিয়মিত নদী, বন ও পরিবেশ রক্ষার গুরুত্বের কথা বলে চলেছেন। কিন্তু এরই মধ্যে পরিবেশ বিষয়ে সরকার এমন কিছু সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ নিয়েছে, যা বিএনপির নির্বাচনী অঙ্গীকার ও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক।

যেমন বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে ঢাকা শহরকে দূষণের কবল থেকে রক্ষায় দ্রুত যথাযথ ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। প্রাকৃতিক নিম্নভূমিগুলোকে জলাধার হিসেবে ব্যবহারের কথাও বলা হয়েছিল। (বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার, পৃষ্ঠা ২৬-২৭)।

সেই সঙ্গে নদীর পাড় ও খালের তীরে ‘গ্রিন ক্যানেল ব্যাংক মডেল’ চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল দলটি। এর মাধ্যমে বৃক্ষরোপণ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও পরিবেশবান্ধব পর্যটন উন্নয়নের মধ্য দিয়ে নতুন সবুজ অর্থনীতি গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছিল। (বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার, পৃষ্ঠা ২৬-২৭)।

চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকার চারপাশের নদ-নদীর দূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকারের মন্ত্রণালয়গুলোকে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দেন।

তিনি বলেন, ‘নিজেদের পাশাপাশি পরবর্তী প্রজন্মের জন্যও দূষণমুক্ত নদী ও একটি বাসযোগ্য পরিবেশ রেখে যাওয়ার চেষ্টা করতে হবে।’

অথচ সরকারের গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় যেভাবে বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ) সংশোধন করেছে, তাতে আবাসন ব্যবসায়ী ও শিল্পমালিকেরা লাভবান হচ্ছেন। তবে এর ফলে রাজধানীর চারপাশের নদীদূষণ ও জলাবদ্ধতা বাড়বে এবং নগরীর বাসযোগ্যতা আরও কমবে।

গত ১৪ অক্টোবর এ বিষয়ে জারি করা প্রজ্ঞাপনে ড্যাপের তিনটি সংশোধনীর কথা উল্লেখ করা হয়। এসব সংশোধনীর মাধ্যমে বুড়িগঙ্গার তীরবর্তী উন্মুক্ত স্থানে ভারী শিল্পকারখানা স্থাপনের অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

একই সঙ্গে কৌশলগত বন্যাপ্রবাহ এলাকা সংরক্ষণের বাধ্যবাধকতা তুলে নেওয়া হয়েছে। ফলে এসব এলাকায় আবাসন প্রকল্প নির্মাণের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

বিস্ময়কর বিষয় হলো, এই সংশোধনীর ক্ষেত্রে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) সংশ্লিষ্ট কারিগরি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। অংশীজনদের মতামতও নেওয়া হয়নি।

বুড়িগঙ্গার তীরবর্তী উন্মুক্ত স্থানে ভারী শিল্পকারখানা স্থাপন করা হলে পানি, বায়ু ও শব্দদূষণ আরও বাড়বে। বন্যাপ্রবাহ এলাকায় আবাসন প্রকল্প নির্মাণ করা হলে বন্যার পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হবে। এতে জলাবদ্ধতা বাড়বে এবং আশপাশের এলাকায় বন্যার ঝুঁকি তৈরি হবে। ফলে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিশ্রুত ‘নতুন সবুজ অর্থনীতি’ গড়ে ওঠার বদলে বিদ্যমান ‘দূষণের অর্থনীতি’ আরও বিস্তৃত হবে।

বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে জাহাজভাঙা শিল্পের জন্য আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। পরিবেশ রক্ষা ও শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের কথাও বলা হয়েছিল।

হংকং কনভেনশন অনুযায়ী নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ নিশ্চিত করতে পরিবেশবান্ধব জাহাজভাঙা শিল্পে রূপান্তরের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিল দলটি। (বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার, পৃষ্ঠা ৩৬)।

কিন্তু বাস্তবে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার জাহাজভাঙা শিল্পের বিদ্যমান নিয়ন্ত্রণব্যবস্থায় এমন পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা পরিবেশ ও শ্রমিকদের জন্য এ শিল্পকে আরও বিপজ্জনক করে তুলতে পারে।

গত ২৯ সেপ্টেম্বর জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পসংক্রান্ত সরকারি একটি কমিটি জাহাজভাঙা শিল্পকে ‘লাল’ থেকে ‘কমলা’ শ্রেণিতে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয়। জাহাজভাঙা ইয়ার্ডের মালিকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এটি বাস্তবায়িত হলে ইয়ার্ড স্থাপনের আগে পরিবেশগত প্রভাব সমীক্ষা করার বাধ্যবাধকতা উঠে যাবে।

গত আগস্টে জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের বিদ্যমান আইন, বিধি, নীতিমালা ও সংশ্লিষ্ট বিষয় পর্যালোচনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এ কমিটি গঠন করা হয়।

কমিটির সভাপতি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন শিল্পমন্ত্রী, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, অর্থ বিভাগের সচিব এবং আইন ও সংসদবিষয়ক বিভাগের সচিব। লক্ষণীয় বিষয় হলো, এ কমিটিতে কোনো পরিবেশবাদী সংগঠনের প্রতিনিধি বা পরিবেশ বিশেষজ্ঞকে রাখা হয়নি।

এই সিদ্ধান্তের ফলে জাহাজভাঙা শিল্পের মালিকেরা আগের চেয়ে কম সময়ে ইয়ার্ড স্থাপন করতে পারবেন। কিন্তু বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী শিল্পটি আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব হয়ে ওঠার বদলে আরও দূষণকারী ও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। এতে উপকূলীয় এলাকায় পরিবেশদূষণ বাড়বে এবং শ্রমিকদের জন্য এ শিল্প আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে।

বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে বন উজাড়, বন দখল ও ম্যানগ্রোভ বনের ক্ষতিসাধনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ও অভয়ারণ্য এলাকায় শিল্পকারখানা স্থাপন নিরুৎসাহিত করার কথাও বলা হয়েছিল। বিদ্যমান বন রক্ষার পাশাপাশি দেশের বনাঞ্চল পুনরুজ্জীবিত করতে যথাযথ উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল দলটি। (বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার, পৃষ্ঠা ২৬-২৭)।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২৫ কোটি গাছ লাগানোর উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি বিদ্যমান বনগুলোর ‘মাদার ট্রি’ চিহ্নিত করে সেগুলো সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন। পার্বত্য চট্টগ্রামে বনাঞ্চলের পরিমাণ বাড়ানোর উপায় বের করার কথাও বলেছেন।

ম্যানগ্রোভ বনের ক্ষতিসাধনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় এসে নিজেই সুন্দরবনের পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর পরিকল্পনা করছে।

সরকার সুন্দরবনের ভেতরে জীববৈচিত্র্যের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ আকরাম পয়েন্ট এবং সুন্দরবন-সংলগ্ন নলিয়ান গ্রামে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ভাসমান টার্মিনাল ও পুনর্গ্যাসীকরণ টার্মিনাল (এফএসআরইউ) নির্মাণের পরিকল্পনা করছে।

পাশাপাশি সেখান থেকে মোংলা পর্যন্ত গ্যাস সঞ্চালনের পাইপলাইন নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে বলে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।

মোংলাকেন্দ্রিক শিল্পকারখানা ও রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের দূষণসহ নানা কারণে সুন্দরবন এমনিতেই চাপের মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে আকরাম পয়েন্টের দুই কিলোমিটারের মধ্যে এক পাশে সুন্দরবন দক্ষিণ বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য এবং অন্য পাশে সুন্দরবন পূর্ব বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য অবস্থিত। এ দুটি অভয়ারণ্যই জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেসকো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ।

সুন্দরবনের মধ্যে এলএনজি টার্মিনাল ও গ্যাসের পাইপলাইন নির্মাণ নানা কারণে ম্যানগ্রোভ বাস্তুতন্ত্র ও এর অনন্য জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করবে। এলএনজি টার্মিনালের কারণে বড় বড় বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচল বাড়বে। এতে শব্দ ও পানিদূষণ বাড়বে, যা বিপন্ন ইরাবতী ও গাঙ্গেয় ডলফিনসহ ম্যানগ্রোভের উদ্ভিদ ও প্রাণিকুল এবং সামগ্রিক পরিবেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

এছাড়া আকরাম পয়েন্ট থেকে মোংলা পর্যন্ত পাইপলাইন নির্মাণের সময় খননকাজের কারণে বনের মাটির স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হবে। মাটির গভীরে থাকা ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদের বিশেষ শ্বাসমূলও (নিউমাটোফোর) নষ্ট হবে।

এলএনজি প্ল্যান্ট থেকে নির্গত রাসায়নিকসমৃদ্ধ শীতল তরল বর্জ্য সুন্দরবনের নদীর পানির তাপীয় ও রাসায়নিক ভারসাম্য নষ্ট করবে। আকস্মিক কারিগরি ত্রুটি, পাইপলাইনে ছিদ্র কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে অগ্নিকাণ্ড বা বিস্ফোরণ ঘটলে সুন্দরবনের সংবেদনশীল প্রতিবেশ মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে।

চলতি বছরের জুলাইয়ে মহেশখালীর একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা দেখিয়েছে, এ আশঙ্কা অমূলক নয়। সুন্দরবন অঞ্চলে শিল্পায়ন ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বাড়লে কী ঘটতে পারে, তা সুন্দরবনের নদীতে তেলবাহী ট্যাংকার ও কয়লাবোঝাই জাহাজডুবির ঘটনা থেকেই স্পষ্ট হয়েছে।

দেশের জ্বালানি সমস্যা সমাধানে নতুন এলএনজি টার্মিনাল কতটা ভূমিকা রাখতে পারবে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। কারণ বিদ্যমান দুটি টার্মিনালের জন্য প্রয়োজনীয় এলএনজি আমদানি করতেই সরকার হিমশিম খাচ্ছে।

এমন পরিস্থিতিতে ব্যয়বহুল আমদানি করা এলএনজির জন্য নতুন টার্মিনাল নির্মাণ করলে তা দেশের অর্থনীতির ওপর আরও চাপ তৈরি করবে। এর ওপর টার্মিনালটি যদি সুন্দরবনের ভেতরে নির্মাণ করা হয়, তাহলে পরিবেশ ও অর্থনীতি, দুই দিক থেকেই বাড়তি বিপদ ও বোঝা তৈরি হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© ২০২৬ প্রিয়দেশ