স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগের বিকল্প কোনো মাধ্যম না থাকায় পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দারা।
এ বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ সংকটে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যও ব্যাহত হয়েছে। ছবি: ম্যাগনিফিক
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস
কেবল বা তার চুরির কারণে টানা দুই দিন ধরে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ও টেলিফোন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যুক্তরাজ্যের সাউথ ইয়র্কশায়ারের একটি গ্রামের হাজার হাজার বাসিন্দা।
বিবিসি লিখেছে, শুক্রবার ও শনিবার সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েন ‘থার্নস্কো’ ও তার আশপাশের এলাকার প্রবীণ বাসিন্দারা। স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগের বিকল্প কোনো মাধ্যম না থাকায় পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন তারা।
সাউথ ইয়র্কশায়ার পুলিশ বলেছে, শুক্রবার সকালে গোলথর্পের নিকোলাস লেন এলাকায় ম্যানহোলের ঢাকনা চুরি ও ভেতরের তার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় তদন্ত শুরুর কথা জানিয়েছেন সংস্থাটির একজন মুখপাত্র।
যোগাযোগ সেবাদাতা কোম্পানি ‘ওপেনরিচ’-এর একজন মুখপাত্র উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য দুঃখ প্রকাশ করে বলেছেন, “যারা এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন সবার কাছে আমরা আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাইছি।
“তার চুরি একটি গুরুতর অপরাধ ও এটা স্থানীয় সাধারণ জীবনের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে।”
মুখপাত্র আরও বলেছেন, বড় ধরনের এই ক্ষয়ক্ষতি সামাল দিয়ে দ্রুত সংযোগ ফেরাতে তাদের প্রকৌশলীরা দিনরাত কাজ করেছেন।
কেবল বসতবাড়িই নয়, এই বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ সংকটে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যও ব্যাহত হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার ‘রিফর্ম ইউকে’ দলের স্থানীয় কাউন্সিলর লুক হুইট এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, “বিবেকহীন এই অপরাধমূলক চুরির জের এখনো আমাদের পুরো এলাকায় বয়ে বেড়াতে হচ্ছে।
“আমাদের এলাকার অনেক বয়স্ক ও অসহায় মানুষের জন্য বাইরের জগতের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম ছিল ফোন ও ইন্টারনেট লাইন। যারা এই কাজের জন্য দায়ী, তারা সমাজের কলঙ্ক, তাদের লজ্জায় মাথা নত করা উচিত।”
ভবিষ্যতে যেন কোনো এলাকা এমন হীন অপরাধের শিকার না হয় সে জন্য পুলিশি নজরদারি জোরদার ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে তিনি সাউথ ইয়র্কশায়ারের মেয়র অলিভার কোপার্ড ও স্থানীয় সংসদ সদস্যদের কাছে চিঠি দেবেন।
থার্নস্কো ও তার আশপাশের এলাকাই নয়, কেবল বা তার চুরির কারণে গেল সপ্তাহে ডনকাস্টারের কারক্রফট এলাকার বাসিন্দারাও ওয়াই-ফাই ও টেলিফোন সংযোগহীন হয়ে পড়েন।
পুলিশ পরিদর্শক অ্যালিসন কার বলেছেন, গ্রীষ্মের শুরু থেকেই ডনকাস্টারজুড়ে তার চুরির ঘটনা অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে।
“চুরির এ প্রবণতা শুরু হওয়ার পর থেকে আমরা ডনকাস্টার এলাকা থেকে প্রায় ১০ লাখ পাউন্ডের তামা উদ্ধার করেছি।
“এ অংকের সঙ্গে তার বসানো বা যেখান থেকে এগুলো চুরি করা হয়েছে সেই এলাকাগুলো সারানোর খরচ অন্তর্ভুক্ত নয়, বাস্তব ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি।”
তার চুরিকে জননিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি হিসেবে বর্ণনা করে পরিদর্শক অ্যালিসন কার বলেছেন, “এসব তার প্রায়শই ট্রাফিক লাইট ও টেলিফোন লাইনের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত পয়েন্টগুলোতে বসানো থাকে। ফলে এগুলো সরালে বড় ধরনের বিপত্তি তৈরি হয়।”
আফিম থেকে ইয়াবা: মিয়ানমারের মাদক-যুদ্ধে ভুক্তভোগী বাংলাদেশ
আমেরিকা কি সত্যি ধর্মীয় ফ্যাসিবাদের পথে যাচ্ছে?
প্রবাসী বন্ড ও সমন্বিত উন্নয়ন: সিলেটের সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ
অনাগত বেতনের আগাম দহন: ২০২৬ নোবেলজয়ীদের তত্ত্বে পে স্কেল ও প্রত্যাশার নোঙর