আইনি জটিলতায় সাত বছর ধরে বন্ধ থাকা ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মগবাজার-পেয়ারাবাগ অংশের নির্মাণ কাজ এবং এর নিচ দিয়ে চার লেনের রেলপথ নির্মাণের উন্নয়নকাজে বাধা কেটেছে।
বুধবার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হকের আদেশে সরকারের এসব উন্নয়ন কাজ পরিচালনায় আর কোনো বাধা থাকলো না বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। ফলে দীর্ঘদিন আটকে থাকা প্রকল্পের ওই অংশে কাজ এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
রেলওয়ের জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে এ জটিলতা তৈরি হয়। এ জমির একটি অংশের মালিকানা দাবি করেন এ এম মোস্তাফিজুর রহমান। অন্যদিকে জমিটি বাংলাদেশ রেলওয়ের বলে দাবি করে সরকার। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি দাবির কারণে মগবাজার-পেয়ারাবাগ অংশে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ এবং নিচে চার লেনের রেলপথ নির্মাণের কাজ দীর্ঘদিন ধরে বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, এ এম মোস্তাফিজুর রহমান ২০১৯ সালে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে জমির মালিকানা নিয়ে মামলা করেন। ওই মামলায় তাঁর পক্ষে রায় আসে বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী। পরে ল্যান্ড সার্ভে আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠিত হলে ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে সরকার। গত সেপ্টেম্বরে আপিল ট্রাইব্যুনালের রায় বাংলাদেশ রেলওয়ের পক্ষে যায়। ওই রায়ের বিরুদ্ধে এ এম মোস্তাফিজুর রহমান হাই কোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন নম্বর ১৩৮৯২/২০২৬ দায়ের করেন। গত ২৮ সেপ্টেম্বর হাই কোর্ট বিভাগ স্থিতাবস্থার আদেশ দেন। এতে উন্নয়নকাজ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
এরপর হাই কোর্টের ওই আদেশ চ্যালেঞ্জ করে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করে। সিভিল মিসলেনিয়াস পিটিশন নম্বর ৯৯৪/২০২৬-এর শুনানি শেষে বুধবার আদালত সরকারের পক্ষে আদেশ দেন। ফলে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মগবাজার-পেয়ারাবাগ অংশ এবং এর নিচ দিয়ে চার লেনের রেলপথ নির্মাণের উন্নয়নকাজ চালিয়ে যাওয়ার আইনি বাধা দূর হয়েছে।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে অংশ নেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল আশরাফ রুফ ও অনীক আর হক এবং ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল উসমান চৌধুরী। এ এম মোস্তাফিজুর রহমানের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী নুরুল আমিন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল জানান, জমির মালিকানা নিয়ে এ এম মোস্তাফিজুর রহমানের দাবি ও ক্ষতিপূরণ বা অ্যাওয়ার্ড মানি পাওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আদালত নির্দেশনা দিয়েছেন। তবে এ বিরোধের কারণে সরকারের উন্নয়নকাজ বন্ধ থাকবে না। আদালতের আদেশ অনুযায়ী এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও চার লেনের রেলপথ নির্মাণের কাজ এগিয়ে নেওয়া যাবে।
দীর্ঘ সাত বছর ধরে আটকে থাকা গুরুত্বপূর্ণ এ অংশের কাজ চালুর সুযোগ তৈরি হওয়ায় প্রকল্প বাস্তবায়নে নতুন গতি আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।