1. editor@priyodesh.com : editor : Mohammad Moniruzzaman Khan
  2. monirktc@yahoo.com : স্টাফ রিপোর্টার :
  3. priyodesh@priyodesh.com : priyodesh :
বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩৪ পূর্বাহ্ন

সংস্কারেও দুর্ভোগ কাটছে না ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কে

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১৭ Time View

উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক এখন যাত্রী ও চালকদের জন্য এক বিপজ্জনক পথে পরিণত হয়েছে। বেলপুকুরিয়া থেকে শুরু করে বানেশ্বর, শিবপুর, বিড়ালদহ, পুঠিয়া সদর হয়ে ঝলমলিয়া পর্যন্ত মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে পিচ উঠে গিয়ে তৈরি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য খানাখন্দ। সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) মাঝে মাঝে জোড়াতালির মেরামত করলেও মিলছে না কোনো স্থায়ী সমাধান। ফলে প্রতিদিন চরম ঝুঁকি ও আতঙ্ক নিয়ে চলাচল করছে হাজার হাজার যানবাহন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পুঠিয়া সদর ও ঝলমলিয়া বাজারসহ মহাসড়কের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে পিচ ও খোয়া উঠে গিয়ে বড়বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুতগতির এই মহাসড়কে চলতে গিয়ে হঠাৎ এসব গর্ত সামনে পড়ায় চালকেরা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলছেন। বিশেষ করে মোটরসাইকেল আরোহীদের জন্য এই পথ যেন মৃত্যুর ফাঁদ। এর ওপর মহাসড়কে নিষিদ্ধ তিন চাকার যানের অবাধ চলাচল দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।

সম্প্রতি নাটোর থেকে মোটরসাইকেলে রাজশাহী যাওয়ার পথে পুঠিয়া এলাকায় অল্পের জন্য রক্ষা পাওয়া সাইফুল ইসলাম নামে এক আরোহী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘দ্রুতগতির মহাসড়কে এমন ভাঙাচোরা গর্ত থাকলে দুর্ঘটনা এড়ানো অসম্ভব। আজ আমি অলৌকিকভাবে বেঁচে গেছি। মহাসড়কের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের কি এসব চোখে পড়ে না?’

মহাসড়কের দুরবস্থা শুধু খানাখন্দেই সীমাবদ্ধ নেই, বানেশ্বর হাট এলাকায় দুর্ভোগের মাত্রা বহুগুণ বেশি। ব্যস্ত মহাসড়কের ওপরই বসছে হাট, যার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তীব্র ধুলাবালি ও যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ। একদিকে খানাখন্দের কারণে ধীরগতি, অন্যদিকে হাটের কারণে তৈরি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট। বাতাসে ওড়া ধুলাবালিতে আচ্ছন্ন পুরো পরিবেশ জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সওজ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাজশাহী অঞ্চলের প্রায় ৪২৪ কিলোমিটার সড়কের জরুরি মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় মালামাল কিনতে প্রায় ৮০ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। তবে এই বরাদ্দের কত অংশ ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কের পুঠিয়া-ঝলমলিয়া অংশে ব্যয় হয়েছে এবং সেই কাজের মান কেমন ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। বাসিন্দাদের অভিযোগ, সওজ কর্মীরা গর্তে কিছু খোয়া-পাথর ফেলে জোড়াতালি দেয়, কিন্তু কয়েকদিন যেতে না যেতেই সেই পিচ উঠে আবার আগের চেয়ে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়। ফলে সরকারি অর্থের অপচয় হলেও সাধারণ মানুষ দীর্ঘস্থায়ী কোনো সুফল পাচ্ছে না।

বারবার মেরামতের পরও কেন সড়ক টেকসই হচ্ছে না—জানতে চাইলে রাজশাহী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবীব কাজের সীমাবদ্ধতার কথা অকপটে স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘জরুরি মেরামতের কাজে যে উপকরণ ব্যবহার করা হয়, সেই কাজ খুব একটা টেকসই হয় না। এটি আসলে ব্যথানাশক ওষুধ (পেইন কিলার) খাওয়ার মতো; প্রাথমিকভাবে বড় দুর্ঘটনা এড়াতে এই সাময়িক কাজটুকু করা হয়।’

তবে ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ ও চালকদের প্রশ্ন—জরুরি মেরামত যদি কেবল সাময়িক স্বস্তিই দেয়, তবে এই মহাসড়কের টেকসই ও স্থায়ী সংস্কারের মূল উদ্যোগ কবে নেওয়া হবে? বানেশ্বর হাটের যানজট ও ধুলাবালি নিয়ন্ত্রণ এবং মহাসড়কের ঝুঁকিপূর্ণ খানাখন্দ দ্রুত স্থায়ীভাবে সংস্কার করা না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© ২০২৬ প্রিয়দেশ