ব্যাটিংয়ে শুরুটা ভালো না হলেও দলের হাল ধরলেন মিডলঅর্ডার ব্যাটাররা। তাদের ঝড়ো ইনিংসে লড়াকু পুঁজি দাঁড় করাল বাংলাদেশ অনুর্ধ্ব-১৯ নারী ক্রিকেট দল। এরপর বাকি কাজটা সারেন বোলাররা। দারুণ বোলিংয়ে পাকিস্তানকে কোনো সুযোগই দেয়নি যুবা টাইগ্রেসরা। স্বাগতিকদের হারিয়ে জায়গা করে নিয়েছে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে।
আজ রোববার (১১ অক্টোবর) ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজে পাকিস্তানের লাহোরে প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৩৬ রান করে বাংলাদেশ। জবাব দিতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১০৪ রান তুলতে পারে পাকিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ নারী ক্রিকেট দল। বাংলাদেশ জয় পায় ৩২ রানের।
পাঁচ ম্যাচে ৩ জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করল বাংলাদেশ। শিরোপার লড়াইয়ে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা অনূর্ধ্ব-১৯ নারী ক্রিকেট দল।
রান তাড়ায় নেমে শুরু থেকেই বাংলাদেশি বোলারদের তোপের মুখে পড়ে পাকিস্তান। পুরো ইনিংস জুড়ে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলে নিতে থাকেন যুবা টাইগ্রেসরা বোলাররা। সেখান থেকে আর বের হতে পারেনি তারা। পুরো ইনিংসে মাত্র চারজন ব্যাটার দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পেরেছেন।
পাকিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ নারী দলের হয়ে সর্বোচ্চ ২৬ বলে ৩৬ রান করেন রাভাইল ফারহান। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩২ বলে ২৩ রান করেন আকসা হাবিব। দুই অঙ্কের ঘর স্পর্শ করা বাকি দুই ব্যাটার হলেন- রাহিমা সায়েদ (১৭ বলে ১২) ও রোজিনা আকরাম (১৬ বলে ১৩)।
বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৩টি উইকেট নেন ফারজানা ইয়াসমিন মেধা। দুটি উইকেট নেন নিশিতা আক্তার নিশি। আর একটি করে উইকেট যায় তিথি দাস অর্পনা, আফরিন মিম ও জান্নাতুল ফেরদৌসির ঝুলিতে।
এর আগে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। কোনো রান না করেই ফিরে যান ওপেনার অচেনা জান্নাত ইমান্ত। শুরুর সেই ধাক্কা সামলে এগিয়ে জুটি বেধে এগিয়ে যাচ্ছিলেন আরেক ওপেনার মায়মুনা আর নিশিতা আক্তার।
তবে কিছুটা ধীরগতির ব্যাটিং করা মায়মুনা ইনিংস লম্বা করতে পারেননি। ২৪ বলে ১৩ রান করে ফেরেন তিনি। দ্রুতই একই পথে হাটেন নিশিতাও। ২০ বলে ২০ রান করে আউট হন তিনি। এত তিন উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ।
সেখান থেকে দায়িত্ব নেন চারে নামা শিরিন আর সাদিয়া ইসলাম। তবে দুজনের ব্যাটিংয়ের ধরণ ছিল দ্বিমুখী। সাদিয়া হাত খুলে খেললেও ধীরগতির ব্যাটিং করেন শিরিন। ৪০ বলে ৩২ রান করে রিটায়ার্ড হার্ট ফিরে যান শিরিন।
তবে এরপরও লড়াই চালিয়ে যান সাদিয়া। শেষ বলে আউট হওয়ার আগে ২৮ বলে ৪০ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন তিনি। তাকে সঙ্গ দিতে নামা অধিনায়ক সাদিয়া আক্তার অপরাজিত থাকেন ৭ বলে ১৪ রান করে। এতে বাংলাদেশের পুঁজি দাঁড়ায় ১৩৬ রানে।