1. editor@priyodesh.com : editor : Mohammad Moniruzzaman Khan
  2. monirktc@yahoo.com : স্টাফ রিপোর্টার :
  3. priyodesh@priyodesh.com : priyodesh :
বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০৯ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ

‘৩০ মিনিটের খেলোয়াড়’ জামাল এবার দিলেন ৯০ মিনিটের বার্তা

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৬ Time View

গত কয়েক বছরে বাংলাদেশ দলের একাদশের চেয়ে বেঞ্চেই যেন বেশি পরিচিত হয়ে উঠেছিলেন জামাল ভূঁইয়া। তবে সোমবার ফিফা আসিয়ান কাপে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে অবশেষে পুরো ৯০ মিনিট মাঠে থাকার সুযোগ পেলেন অভিজ্ঞ এই মিডফিল্ডার। আর সেই ম্যাচেই যেন মনে করিয়ে দিলেন, মাঝমাঠে কী মিস করছিল বাংলাদেশ দল।

২০১৩ সালে বাংলাদেশের জার্সিতে অভিষেক জামালের। এরপর জাতীয় দলের হয়ে ৯৪ ম্যাচে একটি গোল ও ছয়টি অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি। একটা সময় নিয়মিত একাদশের খেলোয়াড়ের পাশাপাশি জাতীয় দলের অধিনায়কও হন জামাল। তবে ২০২৪ সালের মার্চে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ফিলিস্তিনের বিপক্ষে পুরো ৯০ মিনিট খেলার পর বদলে যায় তার ভূমিকা।

তৎকালীন কোচ হাভিয়ের কাবরেরার অধীনে জামালকে মূলত স্বল্প সময়ের জন্যই মাঠে নামানো হতো। প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে প্রায়ই এক ঘণ্টা পার হওয়ার পর তাকে মাঠে নামানো হতো, আবার প্রীতি ম্যাচে ৩০ থেকে ৩৫ মিনিট পরই তুলে নেওয়া হতো। এভাবেই তার গায়ে লেগে যায় ‘৩০ মিনিটের খেলোয়াড়’ তকমা।

এরপর গত বছর এএফসি এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বে ভারত ও সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে দুটি ম্যাচেই ছিলেন না জামাল। বাংলাদেশ দলের আসিয়ান কাপের উদ্বোধনী ম্যাচেও মালয়েশিয়ার বিপক্ষে তাকে একাদশে রাখা হয়নি। ফলে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে শুরু থেকে মাঠে নামার আগে প্রায় আড়াই বছর কেটে গেছে জামালের সর্বশেষ পূর্ণ আন্তর্জাতিক ম্যাচের পর। এই সময়ে বাংলাদেশ খেলেছে ১৯টি ম্যাচ।

জামালকে বাদ দেওয়ায় বাংলাদেশ হঠাৎ করে অন্য কোনো দলে পরিণত হয়ে গিয়েছিল, বিষয়টা এমন নয়। তবে তাকে বাইরে রাখার ফলে মাঝমাঠে প্রায়ই একটা শূন্যতা তৈরি হয়েছে। বিকল্প খেলোয়াড়েরা সেই জায়গায় নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পারেননি, কিংবা নিজেদের উপস্থিতি সেভাবে জানান দিতে পারেননি।

নতুন কোচ থমাস ডুলিও শুরুতে কাবরেরার পথেই হাঁটেন এবং জামালকে বাইরে রাখেন। বাংলাদেশ মাঠে তেমন একটা প্রভাব ফেলতে পারছিল না। একই সময়ে ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হিসেবে মাঠের অধিনায়ক সোহেল রানা সিনিয়রের পারফরম্যান্স নিয়েও সমালোচনা হচ্ছিল।

সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে সোহেলের জায়গায় জামালকে নামানো হলে মাঝমাঠে দেখা গেল ভিন্ন এক চিত্র। তার অভিজ্ঞতা ও কারিগরি দক্ষতা তাকে শক্তিশালী মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরীর সঙ্গে কার্যকরভাবে সমন্বয় করতে সাহায্য করেছে। বাংলাদেশ যে অল্প কয়েকটি কর্নার আদায় করেছিল, সেগুলোর দায়িত্বও নেন জামাল। তাতে সমতায় ফেরার সম্ভাবনাও কিছুটা বাড়ে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, নিচ থেকে খেলা পরিচালনা করতে বেশ স্বাচ্ছন্দ্যেই দেখা গেছে জামালকে। তার উপস্থিতিতে বাংলাদেশও আগের ম্যাচের তুলনায় চোখে পড়ার মতো উন্নত পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছে।

অবশ্য একটি ম্যাচই ৩৬ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডারকে ঘিরে থাকা সব প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দেয় না। একইভাবে, এই একটি ম্যাচের ভিত্তিতে এটাও নিশ্চিত হয়ে যায় না যে জামালকে স্থায়ীভাবে আবার একাদশে ফিরিয়ে আনা উচিত। তবে এটি অন্তত একটা ইঙ্গিত দেয়, এক দশকেরও বেশি সময় ধরে জাতীয় দলের সঙ্গে থাকা এবং আন্তর্জাতিক ফুটবলের চাহিদা সম্পর্কে ভালোভাবে জানা এই খেলোয়াড়কে দিয়ে বাংলাদেশের এখনো কিছু কাজ আদায় করে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

আসিয়ান কাপের আগে মাত্র একটি ফিফা আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছেন ডুলি। প্রস্তুতির সময়ও ছিল সীমিত। ফলে এখনো সেরা সমন্বয় খুঁজছেন নতুন এই কোচ।

নতুন কোচের অধীনে নিজেদের পরিচয় প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা বাংলাদেশের জন্য তাই প্রশ্নটা হয়তো আর ‘জামাল অবদান রাখতে পারবেন কি না,’ এমন নয়। বরং প্রশ্নটা হতে পারে, তার এখনো যা দেওয়ার আছে, সেটাকে সবচেয়ে ভালোভাবে কীভাবে কাজে লাগানো যায়।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© ২০২৬ প্রিয়দেশ