বহুল কাঙ্খিত ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ডুমসডে’ মুক্তি পাবে ডিসেম্বরে। ভক্তরা যখন সেই অপেক্ষার প্রহর গুনছেন তখন আরেক ধামাকা নিয়ে এসেছে মার্ভেল সিনেমাটিক ইউনিভার্স। ২০১৯ সালে মুক্তি পাওয়া ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’ পর্দায় ফিরিয়ে আনছে আবার। তবে ঠিক পুরনো সিনেমাটিই নয়, তার সঙ্গে থাকছে নতুন সংযোজন। আর এখানেই লুকিয়ে আছে রহস্য। যে রহস্য উন্মোচন করার জন্য শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) পর্দায় এলো ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম এনকোর’। সারাবিশ্বের সঙ্গে একই দিনে বাংলাদেশের স্টার সিনেপ্লেক্সেও মুক্তি পেয়েছে সিনেমাটি। সেই সাথে আছে জেসন স্ট্যাথাম ভক্তদের জন্য নতুন উপহার। জনপ্রিয় এই হলিউড তারকার নতুন সিনেমা ‘মিউটিনি’ স্টার সিনেপ্লেক্সে দেখা যাচ্ছে ২৫ সেপ্টেম্বর থেকেই। অ্যাভেঞ্জার্স ভক্তদের দরজায় কড়া নাড়ছে দারুণ খবর। আগামী ডিসেম্বরে মুক্তি পেতে যাওয়া ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ডুমসডে’র মূল প্রেক্ষাপট সহজে বুঝতে দর্শকদের জন্য ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ সিনেমা ও সিরিজের একটি বিশেষ তালিকা সাজিয়েছে মার্ভেল। এর পাশাপাশি পুরোনো গল্পের যোগসূত্র ঝালিয়ে নিতে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্দায় আসছে ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম এনকোর’। ২০১৯ সালের মূল সিনেমাটির সঙ্গে নতুন কিছু দৃশ্য যুক্ত করে এই বিশেষ সংস্করণটি তৈরি করা হয়েছে, যা দর্শকদের ‘ডুমসডে’র গল্পের সঙ্গে সংযোগ তৈরিতে সাহায্য করবে। তাই এই সিনেমাটি নিয়ে দর্শকদের বিশেষ কৌতুহল রয়েছে। সাত বছর আগে যে সিনেমা শেষ করে দিয়েছিল মার্ভেল সিনেমাটিক ইউনিভার্সের একটি যুগ, সেটিই আবার ফিরছে বড় পর্দায়। তবে শুধু পুরোনো স্মৃতি স্মরণ করিয়ে দিতে নয়, এবার ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’ ফিরছে নতুন চমক নিয়ে। মূল সিনেমার গল্প ও পরিচিত দৃশ্যগুলো থাকছে আগের মতোই। তবে যোগ হচ্ছে প্রায় চার মিনিটের নতুন দৃশ্য। ফলে সিনেমাটির দৈর্ঘ্য বেড়ে দাঁড়াবে ১৮৫ মিনিটে। অন্যদিকে একইদিনে হলিউডের জনপ্রিয় এই অ্যাকশন তারকা জেসন স্ট্যাথামের নতুন সিনেমা ‘মিউটিনি’ও দেখতে পারছেন বাংলাদেশের দর্শক। জ্যাঁ-ফ্রাঁসোয়া রিশে পরিচালিত এই অ্যাকশন থ্রিলারধর্মী সিনেমায় স্ট্যাথামের পাশাপাশি অভিনয় করেছেন অ্যানাবেল ওয়ালিস, রোল্যান্ড মোলার, অ্যাড্রিয়ান লেস্টার, জেসন ওং, আরনাস ফেদারাভিচুসহ অনেকে। বিশাল কার্গো জাহাজের ভেতরে বন্দুকযুদ্ধ, মারামারি, ধাওয়া এবং বিস্ফোরণের পাশাপাশি জেসন স্ট্যাথামের পরিচিত সেই অ্যাকশন দৃশ্য। কখনও তাকে একাধিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে লড়তে দেখা যায়, কখনও আবার বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে বুদ্ধি খাটিয়ে বেরিয়ে আসতে দেখা যায়। এক দিকে সমুদ্রের বিশালতা, অন্যদিকে জাহাজের সীমিত পরিসরে সংঘাতের তীব্র্রতা অন্যরকম এক আবহ তৈরি করে। সিনেমার প্রধান চরিত্র কোল রিডের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন জেসন স্ট্যাথাম। একসময় নিউইয়র্ক পুলিশের কর্মকর্তা ছিলেন রিড। স্পেশাল ফোর্সের সদস্য ছিলেন। ঘটনাক্রমে তার ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যায়। এরপর তিনি বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ শুরু করেন। শীর্ষস্থানীয় এক শিল্পপতি তার বস। আচমকা রিডের চোখের সামনে তার বসকে হত্যা করা হয়। আরও ভয়াবহ বিষয় হলো, সেই খুনের দায় চাপানো হয় রিডের ওপর। পালিয়ে গিয়ে সত্যিকারের হত্যাকারীকে খুঁজে বের করার মিশন শুরু করেন রিড। উঠে পড়েন একটি কার্গো জাহাজে। সমুদ্রের মাঝখানে সেই জাহাজেই শুরু হয় প্রতিশোধের অভিযান। খুব দ্রæতই রিড বুঝতে পারেন, ঘটনাটি কেবল একজন ধনকুবেরের হত্যাকান্ড নয়। এর পেছনে রয়েছে আরও বড় একটি আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র। এখানেই ‘মিউটিনি’র গল্পে যোগ হয় নতুন মাত্রা। পথে পথে রিডকে মুখোমুখি হতে হয় ভাড়াটে যোদ্ধা ও অপরাধচক্রের। সমুদ্রের মাঝখানে সাহায্য পাওয়ার সুযোগও সীমিত। ফলে নিজের প্রশিক্ষণ, অভিজ্ঞতা এবং শারীরিক সামর্থ্যরে ওপরই নির্ভর করতে হয় তাকে। রিডের সামনে একদিকে যেমন রয়েছে তার বসের হত্যাকারীকে খুঁজে বের করার চ্যালেঞ্জ, অন্যদিকে তাকে আন্তর্জাতিক এক শক্তির মোকাবিলা করতে হবে। স্ট্যাথামের পারফরম্যান্স সম্পর্কে যারা জানেন তাদেরকে বলার অবকাশ নেই এ ধরণের চরিত্রে তিনি কতটা দুর্দান্ত। এই সিনেমায়ও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দর্শকদের মনোযোগ ধরে রাখবেন তিনিই।