1. editor@priyodesh.com : editor : Mohammad Moniruzzaman Khan
  2. monirktc@yahoo.com : স্টাফ রিপোর্টার :
  3. priyodesh@priyodesh.com : priyodesh :
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৩২ অপরাহ্ন

জাতীয় দলের স্বার্থে আমিতের পজিশন বদল, বিপাকে সিলেট

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১১ Time View

বাংলাদেশের টেস্ট পরিকল্পনায় আমিত হাসানের সর্বশেষ পরীক্ষা সিলেটের জন্য তৈরি করেছে নতুন দুশ্চিন্তা। জাতীয় ক্রিকেট লিগের নতুন মৌসুম সামনে রেখে ২৫ বছর বয়সী এই ব্যাটারকে মিডল অর্ডার থেকে তুলে আনা হচ্ছে ওপেনিংয়ে। জাতীয় দলের জন্য একজন ডানহাতি ওপেনারের সন্ধানে নেওয়া এই সিদ্ধান্তে আগে থেকেই খেলোয়াড়সংকটে থাকা সিলেটের দলটি আরও দুর্বল হয়ে পড়েছে।

চার দিনের এই প্রতিযোগিতার সাম্প্রতিক আসরগুলোতে সিলেট ছিল অন্যতম শক্তিশালী দল। ২০২৪-২৫ মৌসুমে প্রথমবারের মতো তারা শিরোপা জেতে। পরের মৌসুমে শেষ করে রানার্সআপ হয়ে। কিন্তু ৩ অক্টোবর শুরু হতে যাওয়া ২০২৬-২৭ মৌসুমের আগে ১৫ সদস্যের একটি দলও ঠিকঠাক গুছিয়ে উঠতে হিমশিম খাচ্ছে তারা। এর মধ্যেই আমিতকে ওপেনিংয়ে তুলে আনার সিদ্ধান্ত তাদের আগে থেকেই দুর্বল ব্যাটিং লাইনআপকে আরও দুর্বল করে দিয়েছে।

ডানহাতি এই ব্যাটার প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে কখনো ওপেন করেননি। সর্বশেষ দুই এনসিএল মৌসুমে চার নম্বরে ব্যাট করে তিনি করেছেন যথাক্রমে ৪৪০ ও ৭৮৫ রান। এবার তাকে সম্ভাব্য টেস্ট ওপেনার হিসেবে পরখ করা হচ্ছে। কারণ, বাংলাদেশ টেস্ট দলে একজন ডানহাতি ওপেনারের খোঁজ চালিয়ে যাচ্ছে।

জাতীয় দলের এই পরীক্ষার পেছনে রয়েছে টেস্টে ওপেনিং জুটি নিয়ে দীর্ঘদিনের উদ্বেগ। ডারউইন টেস্টে তানজিদ হাসান তামিম সেঞ্চুরি করলেও টেস্ট ক্রিকেটে তিনি এখনো তুলনামূলক নতুন। অন্যদিকে সাদমান ইসলাম, জাকির হাসান ও মাহমুদুল হাসান জয়ও ধারাবাহিকতা দেখাতে পারেননি।

আমিতকে ওপেনিংয়ে তুলে আনার সিদ্ধান্তটি আরও তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ মুশফিকুর রহিমের শেষ পর্যন্ত বিদায়ের পর তাকে দীর্ঘমেয়াদে মিডল অর্ডারের একজন সম্ভাব্য ব্যাটার হিসেবেও দেখা হচ্ছিল। জুনে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক হয় তার। এরপর অস্ট্রেলিয়া সফরে গেলেও ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি। পরে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের দল থেকেও বাদ পড়েন তিনি। প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার তখন জানিয়েছিলেন, দ্বিতীয় উইকেটকিপার হিসেবে জাকের আলীকে বিবেচনা করা হচ্ছে।

তাই আমিতকে ওপেনিংয়ে পাঠানোর সিদ্ধান্তটি শুধুই ব্যাটিং পজিশন বদলের বিষয় নয়। এনসিএল হয়ে উঠছে তার জন্য এক ধরনের অডিশন। আর সিলেটকে নিজেদের চার নম্বর ব্যাটারকে ছাড়াই দল সাজাতে হচ্ছে, যে জায়গায় এতদিন তারা আমিতের ওপর নির্ভর করেছে।

তবে আমিতই সিলেটের সমস্যার একমাত্র কারণ নন।

সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে তাদের পেস বোলিং বিভাগে। চোটের কারণে তানজিম হাসান সাকিব ও রেজাউর রহমান রাজা পুরো মৌসুমের জন্য ছিটকে গেছেন। জাতীয় দলের ব্যস্ততার কারণে খেলতে পারবেন না সৈয়দ খালেদ আহমেদ ও এবাদত হোসেনও। আবু জায়েদ রাহী সংযুক্ত আরব আমিরাতে ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ অব লেজেন্ডসে খেলবেন। বাংলাদেশ দলের সঙ্গে ইকবাল হোসেন ইমনও সেখানে যাবেন রিজার্ভ হিসেবে। ফলে সিলেটের হাতে পেস বোলিংয়ে থাকছেন অভিজ্ঞতাহীন তোফায়েল আহমেদ, মহিউদ্দিন তারেক ও অনিক দেব বর্মা।

আমিতকে ওপেনিংয়ে তুলে আনার ফলে ব্যাটিং বিভাগও আরও দুর্বল হয়েছে। আমিত ও জাকির হাসান ওপেন করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে মিডল অর্ডারে সিলেটকে নির্ভর করতে হবে আসাদুল্লাহ আল গালিব, শায়কত আলী ও মুবিন আহমেদ দিশানের ওপর। এনসিএলের ফিটনেস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি তৌফিক খান তুষার। অন্যদিকে মুশফিকুর রহিম ও জাকের আলীকে কেবল তৃতীয় রাউন্ড থেকে পাওয়া যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সিলেটের প্রধান কোচ রাজিন সালেহ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেছেন, ‘এই মুহূর্তে আমরা আমাদের মিডল অর্ডারের ব্যাটিং এবং পেস বোলিং নিয়ে সমস্যায় আছি। এখন আমরা খুবই দুর্বল অবস্থানে আছি।’

নাঈম জানিয়েছেন, আমিতকে ওপেনিংয়ে দীর্ঘ সময় সুযোগ দিতে প্রস্তুত নির্বাচকেরা। এই পরীক্ষার কারণে সিলেটের সাত ম্যাচের পাঁচটিতেই তাকে ওপেনার হিসেবে দেখা যেতে পারে।

নাঈম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘জাতীয় দলের স্বার্থেই তাকে ওপেন করতে বলা হয়েছে। তাই সেখানে যদি সে ব্যর্থও হয়, কোনো সমস্যা নেই। সে আবার তার আগের পজিশনে ফিরে যাবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আপনি যদি আমাদের জাতীয় দলের দিকে তাকান, আমাদের সেরা চার ব্যাটারই বাঁহাতি। তাই ঘরোয়া ক্রিকেটে আমরা এখন একজন ডানহাতি ওপেনারের সন্ধান করছি।’

সিলেটের পরিস্থিতি নিয়ে নাঈম বলেন, ‘সিলেটের ব্যাপারে (হাবিবুল বাশার) সুমন ভাই আজ রাজিন ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাদের দলের বেশির ভাগ খেলোয়াড়ই এশিয়ান গেমস এবং আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট দলের জন্য চলে গেছে। ফলে তাদের মিডল অর্ডারে গভীরতা নেই। প্রথম দুই ম্যাচ বাদ দিলে আমিত সম্ভবত বাকি পাঁচ ম্যাচে ওপেনার হিসেবে খেলবে।’

বাংলাদেশের টেস্ট দলে একজন ডানহাতি ওপেনার খুঁজে বের করার সর্বশেষ পরীক্ষার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন আমিত হাসান। এই পরীক্ষা দীর্ঘমেয়াদে কোনো সমাধান এনে দেবে কি না, তা সময়ই বলবে। তবে জাতীয় দলের সেই পরীক্ষার মূল্য ইতিমধ্যেই দিতে হচ্ছে সিলেটকে, নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ একজন ব্যাটারকে হারিয়ে আরও দুর্বল দল নিয়ে এনসিএল শুরু করতে হচ্ছে তাদের।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© ২০২৬ প্রিয়দেশ