পটুয়াখালী জেলা মডেল মসজিদের পেশ ইমামসহ তিনজনের বিরুদ্ধে ১২ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলাটি পুলিশের তদন্তে মিথ্যা প্রমাণ হয়েছে। আদালত মামলাটি খারিজ করে দিয়েছেন। সেই সঙ্গে, মিথ্যা মামলা করে হয়রানির অভিযোগে মামলার বাদী জাহানারা বেগমকে (৬৩) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আদালত ও পুলিশ সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর পটুয়াখালীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলাটি দায়ের করেন জাহানারা বেগম। অভিযোগে বলা হয়, তার ১২ বছর বয়সী নাতনি মসজিদে আরবি পড়তে যেত। ১২ নভেম্বর সন্ধ্যায় তাকে মক্তবের পাশের একটি স্টোররুমে নিয়ে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা মো. তানভিরুল ইসলাম, খাদেম সাব্বির ও আহমাদুল্লাহ ধর্ষণ করেন।
মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তারা সিসিটিভি ফুটেজ, সাক্ষীদের বক্তব্য এবং হাসপাতালের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে। তদন্তে ধর্ষণের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। গত ২৯ জুন আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে পিবিআই। প্রতিবেদনে মামলাটিকে মিথ্যা, কাল্পনিক ও ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করা হয়।
পিবিআইয়ের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গত ২৮ জুলাই শুনানি শেষে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামলাটি খারিজ করে দেন। মিথ্যা মামলা করে আদালতকে বিভ্রান্ত করা এবং নির্দোষ ব্যক্তিদের হয়রানির অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১৭ ধারায় বাদী জাহানারা বেগমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।
পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, ‘গত বছরের ১২ নভেম্বর মডেল মসজিদে চুরির অভিযোগে জাহানারা বেগমের দুই নাতিকে আটক করা হয়েছিল। অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় পরে মুচলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। মূলত ওই ঘটনার জের ধরেই মসজিদের ইমাম ও খাদেমদের হয়রানি করতে মিথ্যা মামলা করা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।’
ওসি আরও জানান, আদালতের নির্দেশে গত ২১ সেপ্টেম্বর জাহানারা বেগমকে গ্রেপ্তার করেছে সদর থানা-পুলিশ। তাকে আদালতে সোপর্দ করার আইনি প্রক্রিয়া চলছে।