চট্টগ্রামের পটিয়ায় স্থানীয় এক বিএনপি নেতা কে শাসিয়েছেন সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম । স্থানীয় ওই বিএনপি নেতার নাম সেলিম উদ্দিন। তিনি চট্টগ্রামের পটিয়ার জঙ্গলখাইন ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার নাইখাইন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ফুলকলি ফ্যাক্টরির দূষণ নিয়ে ‘ভুল তথ্য’ দেওয়ার অভিযোগে ওই নেতাকে শাসিয়েছেন সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম। বিএনপি নেতা সেলিমকে উদ্দেশ্যে করে এমপি এনাম বলেন, ‘তোঁয়াই গন্ধ নাই হইলা, তোয়ার স্বার্থ বড়,নাকি জনগণ বড়’ (আপনি গন্ধ নেই বলেছিলেন, এখানে আপনার স্বার্থ বড় নাকি জনগণের স্বার্থ বড়)।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার নাইখাইন এলাকায় ফুলকলি ফ্যাক্টরির দূষণ পরিস্থিতি দেখতে যান এমপি এনামুল হক এনাম। এ সময় তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে কারখানাটির বর্জ্য, দুর্গন্ধ ও পরিবেশ দূষণের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চান এনাম। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, কারখানাটিকে ঘিরে এখনো দুর্গন্ধ ও পরিবেশ দূষণের সমস্যা রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ শোনার পর, সেখানে উপস্থিত বিএনপি নেতা সেলিম উদ্দিনের কাছেও বিষয়টি জানতে চান এমপি এনাম। একপর্যায়ে তাকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘তুমি তো দুর্গন্ধ নেই বলেছিলে। তোমার স্বার্থ বড় নাকি জনগণের স্বার্থ বড়? তুমি ভিন্ন কথা (ভুল তথ্য) বলেছিলে কেন?’
জানা গেছে, এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার সময় নাইখাইন এলাকায় গিয়ে ফুলকলি ফ্যাক্টরির দূষণ ও তীব্র দুর্গন্ধের বিষয়ে স্থানীয়দের অভিযোগ শুনেছিলেন এনামুল হক এনাম। নির্বাচিত হওয়ার পরও তিনি একাধিকবার ফ্যাক্টরি ও আশপাশের এলাকা পরিদর্শন করেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতেও তিনি কারখানাটি পরিদর্শন করে দূষণ ও দুর্গন্ধের সমস্যা সমাধানে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন।
এ ছাড়া গত মে মাসে ফুলকলি ফ্যাক্টরিতে অভিযান চালিয়ে দূষিত বর্জ্য ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের অভিযোগে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠানটিকে দেড় লাখ টাকা জরিমানা করে। ওই সময় এমপি এনামুল হক এনামও কারখানাটি পরিদর্শন করেন এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য ইটিপি চালুর বিষয়ে তিনি নির্দেশনা দেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ফুলকলি ফ্যাক্টরির বর্জ্য সার্জেন্ট মহি আলম খালে পড়ার কারণে খালের পানি দূষিত হচ্ছে। এতে আশপাশের কৃষিজমি ও জনজীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
এর আগে ২০১৯ সালে ইটিপি অকার্যকর রেখে অপরিশোধিত তরল বর্জ্য খালে ফেলার অভিযোগে পরিবেশ অধিদপ্তর ফুলকলি ফ্যাক্টরিকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করেছিল।
তবে, স্থানীয় এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন, স্থানীয় প্রভাবশালীদের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে কারখানাটির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে বিএনপি নেতা সেলিমউদ্দিনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।