বিকেল গড়িয়ে গেছে। জঙ্গল সলিমপুরের পাহাড়ি পথ ধরে একের পর এক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গাড়ি ঢুকছে। চারপাশে বাড়তি নিরাপত্তা। কোথাও থেমে সদস্যরা কথা বলছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে, আবার কোথাও চলছে তল্লাশি। এরই মধ্যে এলাকায় পৌঁছান চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মাসুদ আলম।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলার সময় এলাকায় থাকা সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্যদের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চান তিনি। একপর্যায়ে এক বাসিন্দাকে উদ্দেশ করে এসপি মাসুদ আলম বলেন, ‘সন্ত্রাসী বাহিনী কই? এই যে জামাই ফারুক, ইয়াছিন—ওরা কই?’
বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি আরো বলেন, ‘সন্ত্রাসী বাহিনী যদি এদিকে আসে, তাহলে তাদের বইলো—এদিকে আসলে মাইরা ফেলামু একেবারে।’
এসপির প্রশ্নের জবাবে ওই বাসিন্দা বলেন, র্যাব ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আগের অভিযানের পর থেকে অপরিচিত লোকজন এখন আর এলাকায় আসে না। এর আগে অপরিচিত লোকজনের যাতায়াত ছিল।
এ সময় এসপি মাসুদ আলম বলেন, ‘অপরিচিত সন্ত্রাসীর খোঁজখবর পেলে খবর আছে।’
পরে তিনি আরেক নারী বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলেন। তাকে আশ্বস্ত করে এসপি বলেন, ‘ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আপনারা ভালো থাকেন।’
বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা থেকে জঙ্গল সলিমপুরের বিভিন্ন এলাকায় যৌথ অভিযান শুরু হয়। অভিযানে পুলিশ, এসআরবি ও বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অংশ নেন। বিভিন্ন দিক থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় প্রবেশ করতে দেখা যায়।
অভিযান শুরুর বিষয়টি বিকেল ৫টার দিকে নিশ্চিত করেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (জনসংযোগ) মোহাম্মদ রাসেল।
তিনি বলেন, বিকেল ৪টা থেকে জঙ্গল সলিমপুরের বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি ও অভিযান চালানো হচ্ছে। অপরাধীদের গ্রেপ্তার এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
অভিযানকে কেন্দ্র করে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বাড়তি উপস্থিতি দেখা যায়। পাহাড়ি বিভিন্ন পথ ও এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়। অভিযানে অংশ নেওয়া সদস্যরা স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গেও কথা বলেন এবং এলাকার পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অপরাধীদের গ্রেপ্তার এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এ অভিযানের অন্যতম উদ্দেশ্য।