বিদেশ ভ্রমণ ও দেশে ফেরার ক্ষেত্রে চীনা নাগরিকদের ওপর নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর করেছে বেইজিং। সমালোচকদের আশঙ্কা, এর মাধ্যমে দেশের বাইরে থাকা নাগরিকদের কর্মকাণ্ড ও বক্তব্যের ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ আরও বাড়তে পারে। খবর বিবিসির। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বিদেশে অবস্থানকালে কোনো চীনা নাগরিক জাতীয় নিরাপত্তা বা স্বার্থের ক্ষতি করেছেন বলে বিবেচিত হলে দেশে ফেরার পর তাকে সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত বিদেশ ভ্রমণ থেকে বিরত রাখা যাবে। প্রযুক্তি আমদানি-রপ্তানি সংক্রান্ত নিয়ম লঙ্ঘনের ক্ষেত্রেও ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হতে পারে। চীনা কর্তৃপক্ষের দাবি, জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় এসব বিধিনিষেধ আনা হয়েছে। সাধারণ নাগরিকদের বিদেশ ভ্রমণ সীমিত করার উদ্দেশ্য সরকারের নেই বলেও জানানো হয়েছে। তবে জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর এশিয়ান ল-এর নির্বাহী পরিচালক টম কেলগের মতে, বিদেশে চীনা নাগরিকদের কর্মকাণ্ড ও বক্তব্য নিয়ন্ত্রণে এটি সরকারের আরও একটি হাতিয়ার। তাঁর দাবি, বিদেশে চীন সরকারের সমালোচনা কিংবা অধিকার নিয়ে আন্দোলনে যুক্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ পাসপোর্ট দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে থাকে। চীনা সরকারের গুজব খণ্ডনকারী প্ল্যাটফর্ম পিয়াও অবশ্য বলেছে, নতুন নিয়মের উদ্দেশ্য সাধারণ নাগরিকদের ভ্রমণ সীমিত করা নয়। বিদেশে প্রতারণা, অবৈধ জুয়া ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ কর্মকাণ্ড ঠেকানো এবং উচ্চঝুঁকিপূর্ণ গন্তব্যে ভ্রমণের ক্ষেত্রে এটি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা। তবে কয়েকজন চীনা নাগরিক জানিয়েছেন, নতুন নিয়মের আগেও তারা অস্পষ্ট কারণে বিদেশ ভ্রমণে বাধার মুখে পড়েছেন। ২৬ বছর বয়সী পিপি নামে এক নাগরিক জানান, ২০১৯ সালে হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার পর ২০২৩ সালে তাঁর পাসপোর্টের আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়। এদিকে নতুন নিয়মে সীমান্ত কর্মকর্তাদের উচ্চঝুঁকিপূর্ণ দেশ ও অঞ্চলে ভ্রমণের বিষয়ে নাগরিকদের সতর্ক করার দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তা ও রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের মধ্যে অনেকের ওপর নির্দিষ্ট দেশে ভ্রমণে আগে থেকেই বিধিনিষেধ রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। টম কেলগ এই ক্রমবর্ধমান ভ্রমণ বিধিনিষেধকে উদ্বেগজনক হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, এটি প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের আমলে চীনে বাড়তে থাকা আদর্শিক নিয়ন্ত্রণের প্রতিফলন।