নারায়ণগঞ্জ শহরে আওয়ামী লীগের অর্থদাতা আখ্যা দিয়ে এক ব্যবসায়ীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপুর বিরুদ্ধে।
চাষাঢ়ায় সায়াম প্লাজা মার্কেটের নিচতলায় একটি প্রসাধনী পণ্য বিক্রির দোকানে গতকাল শনিবার রাত ১০টার দিকে মারধরের ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী ওই দোকানের স্বত্বাধিকারী হাসান ইমাম (৭০) সায়াম প্লাজা দোকান মালিক সমিতির সভাপতি এবং জেলা দোকান মালিক সমিতির সহসভাপতি। তাকে মারধরের ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে।
ভিডিওতে দেখা যায়, ইউসুফ খান টিপুর নেতৃত্বে একদল যুবক দোকানটিতে ঢোকেন। একপর্যায়ে তারা হাসান ইমামকে বাইরে বের করে মারধর করেন।
ঘটনার সময় দোকানেই ছিলেন হাসান ইমামের ছোটভাই মো. জুয়েল। তিনি দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, টিপুর নেতৃত্বে প্রায় অর্ধশতাধিক বিএনপির নেতাকর্মী দোকানটিতে আসেন। পরে দোকানের ভেতরেই তার ভাইকে মারধর করেন টিপু ও তার সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীরা।
‘আমার বড়ভাই মার্কেটের দোকান মালিক সমিতির সভাপতি। তিনি সরাসরি কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মী কিংবা নেতা নন। মিথ্যা অভিযোগ তুলে তাকে মারধর করা হয়েছে,’ বলেন জুয়েল।
হাসান ইমামের ছেলে হাইমুন হাসান বলেন, ‘আমার বয়স্ক বাবাকে অনেকগুলো চর-থাপ্পড় ও ঘুষি মেরেছে। রাত ৩টার দিকে তিনি হঠাৎ অনেক বমি করতে থাকেন।’
রাতেই তাকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে নেওয়া হয় বলে দাবি করেন হাইমুন। পরে সুস্থবোধ করায় সকালে তাকে বাসায় ফিরিয়ে আনা হয়। মারধরের ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা চিন্তা করা হচ্ছে বলেও জানান হাইমুন।
যোগাযোগ করা হলে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু ডেইলি স্টারকে বলেন, 'সরাসরি আওয়ামী লীগের কোনো কমিটিতে না থাকলেও হাসান ইমাম রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনটির একজন অর্থ যোগানদাতা।'
সাম্প্রতিক সময়ে সংগঠনটির ব্যানারে হওয়া মিছিলগুলোতে হাসান ইমাম অর্থায়ন করেছেন বলেও দাবি করেন টিপু। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হাসান ইমামের পরিবারের সদস্যরা।
মারধরের বিষয়ে টিপু বলেন, ‘ওই ব্যবসায়ী আজমেরী ওসমান ও শাহ নিজামের লোক। বিগত দিনে অনেক অপকর্ম করেছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ওসমান পরিবারের সঙ্গে থেকে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। গুলশানের মতো আরেকটা মিছিল নারায়ণগঞ্জে করার জন্যও ফান্ডিং করেছেন। এমন খবর পেয়ে আমি ও কয়েকজন দোকানে গিয়েছিলাম। সেখানে উত্তেজনাবশত কয়েকজন তাকে চর-থাপ্পড় দিয়েছে সত্যি। কিন্তু আমিই আবার তাদের থামিয়েছি।’
মারধরের ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখেছেন বলে জানান সদর মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুর রহমান। তবে এ ঘটনায় কেউ থানায় মৌখিক বা লিখিত অভিযোগ করেননি বলে জানান তিনি।
ওসি বলেন, 'আমরা ভিডিওটি ফেসবুকে দেখেছি। এ ব্যাপারে কেউ লিখিত অভিযোগ করলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পরামর্শ করে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’