পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির শিক্ষার্থীদের সততা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ সম্পন্ন মানুষ হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।
শনিবার ২০২৪ ও ২০২৫ সালে এসএসসি, এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পুলিশ সদস্যদের জিপিএ-৫ প্রাপ্ত সন্তানদের মাঝে বাংলাদেশ পুলিশ মেধাবৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থায়নে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটরিয়ামে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স আয়োজিত মেধাবৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে।
অতিরিক্ত আইজি (প্রশাসন) এ কে এম আওলাদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বক্তব্য রাখেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন এআইজি মো. ইসমাইল হোসেন। অনুষ্ঠানে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাবৃন্দ, অভিভাবকগণ এবং বৃত্তিপ্রাপ্ত মেধাবী শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
আইজিপি বলেন, আজ তোমাদের যে সম্মাননা প্রদান করা হচ্ছে, তা শুধু একটি পুরস্কার নয়, এটি তোমাদের মেধা ও পরিশ্রমের স্বীকৃতি, ভবিষ্যতের প্রতি আমাদের বিশ্বাস এবং তোমাদের সম্ভাবনার প্রতি আমাদের আস্থার প্রতীক।
তিনি বলেন, মেধা মানুষকে এগিয়ে দেয়, কিন্তু সততা, মানবিকতা ও নৈতিক মূল্যবোধ মানুষকে সত্যিকারের মহান করে তোলে। তাই তোমাদের শুধু ভালো শিক্ষার্থী হলে চলবে না, ভালো মানুষও হতে হবে। জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি বিনয়, সহমর্মিতা, দায়িত্ববোধ, শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হতে হবে।
আইজিপি আশা প্রকাশ করে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, তোমাদের আজকের কৃতিত্বই যেন আগামী দিনের একটি সুন্দর, সমৃদ্ধ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার ভিত্তি হয়ে ওঠে।
পুলিশ প্রধান শিক্ষার্থীদের সতর্ক করে বলেন, সাময়িক কৌতূহল বা কোনো প্ররোচনায় মাদকের ভয়াল থাবা যেন তোমাদের স্পর্শ করতে না পারে, সেজন্য সবসময় সজাগ থাকতে হবে। মনে রাখতে হবে, মাদক একটি মরণফাঁদ। একই সাথে মোবাইল, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ইন্টারনেট গেমে অতিরিক্ত আসক্তি, অন্য নেশাজাত দ্রব্যের আসক্তির মতোই ক্ষতিকর।
তিনি বলেন, প্রযুক্তিকে তোমরা ব্যবহার করবে, প্রযুক্তি যেন তোমাদের ব্যবহার করতে না পারে সে ব্যাপারে সতর্ক থাকবে। দেশের নাগরিক হিসেবে দেশের আইন মেনে চলবে ও অন্যদের আইন মেনে চলতে উৎসাহিত করবে।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনুভূতি ব্যক্ত করেন কাজী মো. তানান হোসেন, সৈয়দা সাবিহা মুশাররাত মুমু, মো. আদনান জাওয়াদ ও মুস্তাইনা মঞ্জুর। মেধাবী শিক্ষার্থীরা তাদের বক্তব্যে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তারা মেধাবৃত্তি প্রদানের প্রশংসনীয় উদ্যোগ গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ পুলিশ প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানান। মেধাবৃত্তি প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত ডিআইজি শম্পা ইয়াসমিন এবং পুলিশ পরিদর্শক শেখ ফারুকুজ্জামান।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ প্রাপ্ত ৮০১ জন, এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ প্রাপ্ত ২৭২ জন, ২০২৫ সালে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ প্রাপ্ত ৮৪৫ জন, এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ প্রাপ্ত ১৯৫ জন শিক্ষার্থী মেধাবৃত্তি লাভ করেছে। ২০২৪ ও ২০২৫ এ দুই বছরে বাংলাদেশ পুলিশের মেধাবৃত্তি পেয়েছে সর্বমোট ২ হাজার ১১৩ জন মেধাবী শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে আজ আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকাস্থ ৩৬০ জনকে বৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। অন্যদের সংশ্লিষ্ট জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের মাধ্যমে মেধাবৃত্তি প্রদান করা হবে।