যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকির কড়া জবাব দিয়েছে ইরান। দেশটির সেতু ও বিদ্যুৎ কেন্দ্রে হামলা চালানো হলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে মার্কিন ও আঞ্চলিক পরিকাঠামো ধ্বংস করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের এক সামরিক সূত্র স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তেহরানের সার্বভৌমত্ব ও খোদ দেশের ভেতরে হামলা হলে তার দাঁতভাঙা জবাব পাবে ওয়াশিংটন।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক বার্তায় ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়া কোনো জাহাজে ইরান যদি ক্ষেপণাস্ত্র, রকেট বা ড্রোন দিয়ে হামলা চালায়, তবে প্রতিবারই তেহরানসহ দেশটির বিভিন্ন সেতু এবং বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বোমা হামলা চালাবে মার্কিন বাহিনী।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই হুমকির জবাবে ইরানি সামরিক সূত্রটি জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীর ওপর তেহরানের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে এবং দেশটি কোনোভাবেই নিজের ভূখণ্ড ও পানিসীমায় কোনো হুমকি বরদাশত করবে না। তেহরান জানিয়েছে, নির্ধারিত নিয়ম মেনে এবং সমন্বয় করে জাহাজ চলাচল করলে হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকবে। তা না করে আমেরিকা যদি নতুন করে কোনো সামরিক দুঃসাহসিকতা দেখায়, তবে তা তাদের জন্য চরম অপমান বয়ে আনবে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে ‘অপারেশন নাসর ২’-এর ২৫তম ধাপে জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে ফের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। জর্ডানের কিং ফয়সাল এবং প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটিতে চালানো এই হামলায় এফ-ফিফটিন যুদ্ধবিমানের জন্য তৈরি সরঞ্জাম, হেলিকপ্টার হ্যাঙ্গার এবং শিপিং কনটেইনারে থাকা আটটি নতুন এমকিউ-নাইন ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করেছে আইআরজিসি। সেই সঙ্গে হামলায় বেশ কয়েকজন মার্কিন সেনা হতাহত হয়েছে বলেও জানানো হয়।
আইআরজিসি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে, মার্কিন আগ্রাসন অব্যাহত থাকলে তারা এমন এক চূড়ান্ত অভিযান শুরু করবে, যার পর যুক্তরাষ্ট্রে জাতীয় শোক ঘোষণা করা ছাড়া উপায় থাকবে না। অন্যদিকে ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলাগুলোতে এ পর্যন্ত তাদের ৫৩ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং প্রায় ছয়শ’ মানুষ আহত হয়েছেন।