1. editor@priyodesh.com : editor : Mohammad Moniruzzaman Khan
  2. monirktc@yahoo.com : স্টাফ রিপোর্টার :
  3. priyodesh@priyodesh.com : priyodesh :
সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:১৮ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
ভালোবাসায় আপ্লুত ফারহান, ইন্দোনেশিয়ায় জয়ের আশা জাপান সফর শেষে দেশে ফিরেছেন সেনাপ্রধান কেরানীগঞ্জ কারাগারে অসুস্থ ২ বন্দির ঢাকা মেডিকেলে মৃত্যু স্পেনে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচন, স্বচ্ছতার প্রতিশ্রুতি কমিশনের করোনায় সহায়তার নামে এনআইডি-ছবি সংগ্রহ, পরে শতকোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাৎ প্রবীণ সাংবাদিক সাইদুর রহমান আর নেই শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় স্টেশন ভাঙচুর, তদন্ত কমিটি করলো রেলওয়ে লাইসেন্স নেই-নম্বরপ্লেটেও কারসাজি, অটোরিকশায় নাজেহাল রাজশাহী রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় আনসারের সম্পৃক্ততা নেই সরকারি দরপত্রে কম অভিজ্ঞতা ও মূলধনেও অংশ নেওয়া যাবে

সরকারি দরপত্রে কম অভিজ্ঞতা ও মূলধনেও অংশ নেওয়া যাবে

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১১ Time View

সরকারি কেনাকাটা ও নির্মাণ কাজে বিদ্যমান নিয়ম পরিবর্তনের করে ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন, ২০০৬’-এ বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর মাধ্যমে সরকারি কাজের দরপত্রে অংশ নিতে পূর্ববর্তী কাজের ‘অভিজ্ঞতা’ এবং ‘উচ্চ বার্ষিক টার্নওভার’-এর বাধ্যতামূলক শর্ত শিথিল সংক্রান্ত নিয়ম আনা হচ্ছে।

এতে নতুন উদ্যোক্তা, স্টার্টআপ বা গত দুই দশকে নানা কারণে সুযোগবঞ্চিত ব্যবসায়ীদের সরকারি কেনাকাটার টেন্ডারে যুক্ত হওয়ার পথ সহজ হবে বলে জানিয়েছেন আইনটির সংশোধন প্রস্তাবকারী বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) এবং পাবলিক প্রক্রিউরমেন্ট অথরিটির (পিপিএ) উচ্চ পর্যায়ের দায়িত্বশীল অফিসাররা। তবে বিশেষ খাতের কাজের কার্যাদেশের প্রকৃতি, জটিলতা ও ঝুঁকি বিবেচনা করে আলাদা শর্ত আরোপ করার ক্ষমতাও সরকারের হাতে থাকবে।

এই সময়ে এ ধরণের উদ্যোগের কারণ জানতে চাইলে আইএমইডি উচ্চ পর্যায়ের সূত্র দ্য ডেইলি স্টারকে জানায়, বিদ্যমান টেন্ডারিং প্রক্রিয়ায় বড় অংকের টেন্ডারে অংশ নিতে গেলে অতীতে বিভিন্ন কাজের অভিজ্ঞতাসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বড় অংকের বার্ষিক লেনদেন থাকার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ফলে আওয়ামী লীগ আমলে যারা কাজ পেয়েছেন, অভিজ্ঞ হিসেবে তারাই এখন অগ্রাধিকার পাচ্ছেন। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ পেতে সরকার আইন পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

গতকাল রোববার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ২১তম বৈঠকে লেজিসলেটিভ বিভাগের ভেটিং সাপেক্ষে ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ,২০২৬’ নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে। মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থিত একজন ডেইলি স্টারকে জানিয়েছেন, বর্তমানে জাতীয় সংসদ অধিবেশন চলমান না থাকায় এটি অধ্যাদেশ আকারে জারি হবে। পরবর্তী সংসদ অধিবেশনে সেটি আইনে পরিণত হবে।

প্রস্তাবিত এই সংশোধন অধ্যাদেশে যেকোনো আন্তর্জাতিক দরপত্রে অংশ নিতে হলে বিদেশি ঠিকাদারি বা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে দেশীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বাধ্যতামূলকভাবে যৌথ উদ্যোগ (জয়েন্ট ভেঞ্চার) গঠন করার প্রস্তাব করা হয়েছে। অন্যদিকে, অনিয়মের অভিযোগে কোনো প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত (ব্ল্যাকলিস্ট) করার আগে লিখিত কারণ দর্শানো নোটিশ দেওয়া ও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগও রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে, যা বর্তমান আইনে নেই বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

সরকারের নীতিনির্ধারকেরা বলছেন, প্রস্তাবিত এসব সংশোধন কার্যকর হলে সরকারি কেনাকাটায় বহুল আলোচিত সিন্ডিকেটপ্রথা ভাঙবে এবং স্বচ্ছতা ও সুস্থ প্রতিযোগিতা বাড়বে। তবে বিএনপি সরকারের ঠিকাদাররা যেন সহজে সরকারি কেনাকাটা এবং টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারেন, তা নিশ্চিত করতেই এমন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে— এমন সমালোচনাও আছে।

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সংশ্লিষ্ট খাতে যদি নতুন কোনো দরদাতার প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা থাকে এবং তিনি নির্ধারিত কারিগরি শর্তাবলি পূরণ করতে পারেন, তবে এই বিধানটিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা যেতে পারে।

‘অন্যথায়, পর্যাপ্ত প্রাসঙ্গিক জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী গোষ্ঠীকে অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার একটি ঝুঁকি থেকে যায়,’ বলেন তিনি।

বিশেষ পরিস্থিতিতে ক্রয়কারী সংস্থাকে ‘বিশেষ শর্ত’ আরোপ করার সুযোগ দেওয়ার বিষয়েও সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, এতে একই ধরনের পক্ষপাতিত্বের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, ‘আইনটি সংশোধনের জন্য অংশীজনেরা (স্টেকহোল্ডার) দীর্ঘদিন ধরে সুপারিশ করে এলেও কোনো ধরনের আলোচনা বা অংশীজনদের যুক্ত না করে সরকার একতরফাভাবে তা সংশোধনে তড়িঘড়ি করছে বলে মনে হচ্ছে—যা হতাশাজনক।’

‘এতে আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য ও স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়,’ যোগ করেন তিনি।

মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর গতকাল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সরকারি ক্রয় কার্যক্রমে আরও বেশি প্রতিযোগিতা সৃষ্টিসহ দেশীয় শিল্পের স্বার্থ সুরক্ষায় আইনটি সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতির কার্যপ্রণালির আধুনিকায়ন, টেকসই ক্রয় ব্যবস্থার অধিক সংস্থানের লক্ষ্যে পণ্য, কার্য ও ভৌতসেবা কিনতে নির্ণায়কের অনুপাতভিত্তিক মূল্যায়ন (আন্তর্জাতিকভাবে বহুল চর্চিত রেটেড ক্রাইটেরিয়া ধারণার সমার্থক)’ সম্ভব হবে।

এ ছাড়া, সম্পদের সুষম বিস্তারের লক্ষ্যে সীমিত দরপত্র পদ্ধতির প্রয়োগ, পেশাগত অসদাচরণ সংশ্লিষ্ট বিধান স্পষ্টীকরণ, রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজনে বিকল্প ক্রয় ব্যবস্থার সংস্থান (অলটারনেটিভ প্রকিউরমেন্ট অ্যারেঞ্জমেন্ট) ইত্যাদি যুগোপযোগী পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে আইনটি সংশোধন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে জেলা-উপজেলা থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত সব পর্যায়ের দলীয় নেতারা বিদ্যমান টেন্ডারিং প্রক্রিয়া বদল করার দাবি জানিয়ে আসছিলেন, তার পরিপ্রেক্ষিতে পিপিএ আইনে পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত হয় বলে মন্ত্রিসভার একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র ডেইলি স্টারকে জানিয়েছে।

গত ৮ জুন জাতীয় সংসদে নরসিংদী-৫ আসনের সংসদ সদস্য আশরাফ উদ্দিন এ সংক্রান্ত আইন সংশোধনের দাবি জানিয়েছিলেন। ওই দিন সংসদে তিনি বলেছিলেন, ই-জিপিতে টেন্ডার হলেও কাজ পেয়ে যাচ্ছেন ফ্যাসিস্টের দোসররা (আওয়ামী লীগের লোকজন)। কারণ তারা অতীতে দীর্ঘ সময় বিভিন্ন কাজের মাধ্যমে অভিজ্ঞতা অর্জনের কারণে তাদের প্রোফাইল শক্তিশালী। কিন্তু আমাদের দল (বিএনপি) বা এই সময়ে যারা (ক্ষমতায়) এসেছি তারা কিন্তু তাদের সঙ্গে পেরে ওঠে না। তখন অন্য সংসদ সদস্যরা তার সঙ্গে টেবিল চাপড়ে তাকে সমর্থন জানান।

সেদিনই জাতীয় সংসদে তৎকালীন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আশরাফ উদ্দিনের বক্তব্যের জবাবে বলেছিলেন, ‘এই বিষয়গুলো আমরা অবগত আছি, এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেছি, এই আইনটার কীভাবে রিভিউ করে … সঠিক লোকেরা যেন (টেন্ডার) পায়, সেটা আমরা বিবেচনা করব।’

স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর সেই আশ্বাসকে সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের প্রায় সব সদস্য টেবিল চাপড়ে স্বাগত জানিয়েছিলেন।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© ২০২৬ প্রিয়দেশ