মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে জয়পুরহাটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে। একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ ডা. আবুল কাশেম ময়দানে অবস্থিত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধার ঢল নামে।
দিবসটি উদযাপন উপলক্ষ্যে আয়োজিত কর্মসূচির শুরুতে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় জেলা প্রশাসক মো. আল-মামুন মিয়াসহ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এরপর পুলিশ সুপার মিনা মাহমুদাসহ জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা, জেলা জামায়াতের আমির ও জয়পুরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান সাঈদ এবং বিএনপি নেতারা শ্রদ্ধা জানান। পরবর্তীতে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী বলেন, পৃথিবীর কোনো দেশেই ভাষার জন্য জীবন দেওয়ার এমন নজির নেই। ইউনেস্কো এটিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। শহীদ বরকত, রফিক, জব্বার ও সালামের রক্তে ঢাকার রাজপথ রঞ্জিত হয়েছিল। মূলত একটি বৈষম্যহীন সমাজব্যবস্থা, সাম্য, ন্যায়বিচার, গণতান্ত্রিক অধিকার এবং মাতৃভাষায় কথা বলার অধিকার নিশ্চিত করতেই এই আন্দোলন শুরু হয়েছিল। ভাষা আন্দোলন, স্বাধিকার আন্দোলন, চব্বিশের জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থান এবং দীর্ঘ ১৭ বছরের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যাঁরা শহীদ হয়েছেন, আমি তাঁদের সকলের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করি।
তিনি আরও বলেন, ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে একটি সুষম সমাজব্যবস্থা, মানুষের কথা বলার অধিকার, গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনের আন্দোলনের প্রেক্ষিতেই আজ মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগ করে সরকার গঠন করেছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী আজকের দিবস উপলক্ষ্যে বাণী দিয়েছেন। সেখানে তিনি একটি দুর্নীতিমুক্ত সমাজব্যবস্থা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেছেন।
মো. আব্দুল বারী বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী যে বক্তব্য দিচ্ছেন, তিনি তা ধারণ করেন। তাঁর সুযোগ্য নেতৃত্বে দেশ বিশ্বদরবারে সমৃদ্ধশালী জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। আর তখনই ভাষা শহীদ থেকে শুরু করে স্বাধীনতা যুদ্ধ ও জুলাই-আগস্টের শহীদদের আত্মত্যাগ সার্থক হবে।
প্রতিমন্ত্রী কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে স্পষ্ট করেছেন যে, সরকারি কর্মকর্তাদের মূল্যায়নের একমাত্র পদ্ধতি হবে সততা, দক্ষতা এবং মেধা। এর কোনো বিকল্প নেই বা বিকল্প থাকার সুযোগও নেই।