1. editor@priyodesh.com : editor : Mohammad Moniruzzaman Khan
  2. monirktc@yahoo.com : স্টাফ রিপোর্টার :
  3. priyodesh@priyodesh.com : priyodesh :
সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ০৭:৩৩ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
উপকূলীয় দেশ হিসেবে সমুদ্র খাতে আরও মনোযোগী হতে হবে: নৌমন্ত্রী তিন মাসের মধ্যে ৫০ হাজার শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ নেয়া হবে: শিক্ষামন্ত্রী সূচকের বড় পতনে ডিএসইর লেনদেন কমলো স্বর্ণের দাম ভরিতে বাড়ল ৪ হাজার ৪৩২ টাকা হজ শেষে ফিরলেন ৬৩৪৪০ বাংলাদেশি সৌদি বধের রাতে ধূলিসাৎ মেসির ১৮ বছরের অহংকার, ইয়ামালের পাশে এখন শুধুই পেলে রাজস্ব সংগ্রহে রেকর্ড, ১১ মাসে আদায় ৩ লাখ ৬০ হাজার ৬৪২ কোটি টাকা লেবানন থেকে ইসরায়েল সেনা না সরালে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সবরকম আলোচনা বন্ধ করে দেওয়া হবেহুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান ভয়াবহ বিস্ফোরণে কেঁপে উঠলো কাতার, নিখোঁজ ১৮ বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম জয় পেল মিসর

রামুতে ১৪৪ ধারা জারি, পরিস্থিতি দেখতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যাচ্ছেন

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১২
  • ১১৪ Time View

কক্সবাজারের রামু উপজেলার বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অধ্যুষিত এলাকায় অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, ভাংচুরের ঘটনায় রোববার সকাল থেকে অনিদিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।

শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১ টা থেকে শুরু হওয়া এ সংঘাত অব্যাহত ছিল রোববার ভোর ৪ টা পর্যন্ত।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সংঘাতে রামু উপজেলার ৭ টি বৌদ্ধ মন্দির, প্রায় ৩০ টি বসত ঘর, দোকানে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এসময় আরো শতাধিক বাড়ি ও দোকানে হামলা, লুটপাট ও ভাংচুরও হয়েছে। পরিস্থিতি এখনো থমথমে রয়েছে। ওই এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব অবস্থান করছে।

অনিদিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজারের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসকের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জসীম উদ্দিন।

তিনি জানান, পরিস্থিতি শান্ত হওয়া পর্যন্ত তা বহাল থাকলে।

ভোরে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার সেলিম মো. জাহাঙ্গীর জানিয়েছেন, রামুর বিভিন্ন এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এখন পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে।

প্রশাসনের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, এ ঘটনায় রোববার কক্সবাজার আসছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খাঁন আলমগীর ও শিল্পমন্ত্রী দীলিপ বড়ুয়া। তারা রামুর আক্রান্ত এলাকা পরিদর্শন করবেন। বিমানযোগে বেলা ১১ টায় তাদের কক্সবাজার পৌঁছার কথা রয়েছে।

রামুর স্থানীয় লোকজন জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পবিত্র কুরআন শরীফ অবমাননা করে ছবি সংযুক্ত করার অভিযোগ এনে শনিবার রাত ১০ টায় একটি ইসলামী দলের কয়েকজন নেতার নেতৃত্বে একটি মিছিল বের করা হয়। মিছিল শেষে সমাবেশে বক্তারা দাবি করেন, রামু উপজেলার বড়ুয়া পাড়ার উত্তম বড়ুয়া নামের এক যুবকের ফেসবুক একাউন্টে পবিত্র কুরআন শরীফ অবমাননাকর ছবিটি প্রদর্শিত হয়েছে। সমাবেশে বক্তরা ওই যুবকের আটকের দাবি জানান।

সমাবেশ শেষ হওয়ার কিছু পর ফের আবারো একটি মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি রাত সাড়ে ১১ টার দিকে রামু বড়ুয়া পাড়ার দিকে এগিয়ে যায়। মিছিলটি বড়ুয়া পাড়ায় পৌঁছার সঙ্গে সঙ্গে মিছিলের কয়েকজন যুবক বড়ুয়াদের কয়েকটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। পরে এ সংঘাত বিভিন্ন এলাকায় সরিয়ে পড়ে।

খবর পর থেকে কক্সবাজার-রামু আসনের বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল, কক্সবাজারের পুলিশ সুপার সেলিম মো. জাহাঙ্গীর, রামু উপজেলা চেয়ারম্যান সোহেল সরওয়ার কাজলসহ বিভিন্ন জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনিক কর্মকর্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন। জনপ্রতিনিধিরা নানা প্রচেষ্টার পর উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করতে ব্যর্থ হলে পুলিশ কঠোর অবস্থানে যায়।

রামুতে আক্রান্ত এলাকার লোকজনের তথ্য মতে, এসময় রামুর কয়েকটি বৌদ্ধ মন্দিরে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। বৌদ্ধ মন্দিরসমুহ হল, ‘সাদা চিং’, ‘লাল চিং’, রামু মেত্রী বিহার, সীনা বিহার, জাদী পাড়া বৌদ্ধ বিহার, বিমুক্তি বিদর্শন ভাবনা কেন্দ্র, মিঠাছড়ি বনবিহার। এছাড়াও রামুর চৌমুহনী-চেরাংঘাটা সড়ক, মিঠাছড়ি, বড়ুয়া পাড়ার কিছু বসত বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়।

রামু উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সোহেল সরওয়ার কাজল অগ্নিসংযোগের ঘটনা নিশ্চিত করে বাংলানিউজকে জানান, এটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা।

অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুরের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে ফতেখাঁরকুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম ভূট্টো জানান, উত্তেজিত জনতার এরূপ ঘটনা অপ্রীতিকর।

ফেসবুক ব্যবহারকারী জানিয়েছে, উত্তম বড়ুয়া নামের রামুর যুবকের ফেসবুকে পবিত্র কুরআন শরীফ অবমাননাকর ছবিটি প্রদর্শিত হলেও এজন্য ওই যুবক দায়ী নয়। কারণ তার ফেসবুকে ইনসাল্ট আল্লাহ নামের এক ফেসবুক আইডি থেকেই ছবিটি শেয়ার/ট্যাগ করে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনাকে পুঁজি করে সম্প্রদায়িক দাঙ্গা ব্যাপক আকারে নেওয়ার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে একটি মহল।

কক্সবাজারের ঝিলংজা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন জিকু জানিয়েছেন, রামু উপজেলায় ঘটনা চলাকালিন তার ইউনিয়নের বিভিন্ন বৌদ্ধ পল্লীতে হামলা চালিয়েছে কিছু লোক। তিনি নিজেই ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন। বিষয়টি তিনি পুলিশকেও অবহিত করেন।

এ সব ঘটনার নেপথ্যে জামায়াতের লোকজন রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© ২০২৫ প্রিয়দেশ