1. editor@priyodesh.com : editor : Mohammad Moniruzzaman Khan
  2. monirktc@yahoo.com : স্টাফ রিপোর্টার :
  3. priyodesh@priyodesh.com : priyodesh :
রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ১১:০৪ অপরাহ্ন

কমলা দেবী হ্যারিস- ট্রাম্প বলেন ‘কুৎসিত’, অনেকের চোখে ‘ফিমেল ওবামা’

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২০
  • ২৯ Time View

২০২০ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক দলের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী জো বাইডেন জানিয়েছেন, ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে ভারতীয় বংশোদ্ভূত নারী সিনেটর কামালা হ্যারিসকে তার পছন্দ। এই ভারতীয় নারীর নাম আসলে কমলা দেবী হ্যারিস। মার্কিন উচ্চারণে ‘কামালা’ হয়ে গেছেন আর মাঝের দেবী অনুচ্চারিতই থেকে গেছে।

ক্যালিফোর্নিয়ার ইতিহাসে প্রথম কালো নারী হিসেবে ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি নির্বাচিত হতে চলেছেন। আবার তিনিই প্রথম ভারতীয় আমেরিকান সিনেটর এবং বর্তমানে প্রথম কালো চামড়া এবং এশিয়ান আমেরিকান নারী যিনি ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে একটি মুখ্য রাজনৈতিক দলের টিকিট পেয়েছেন। তার সম্পর্কে কিছু চমকপ্রদ তথ্য জেনে নেয়া যাক।

কমলা দেবী হ্যারিসের জন্ম ১৯৬৪ সালের ২০ অক্টোবর ক্যালিফোর্নিয়ার অকল্যান্ডে। জ্যামাইকার অর্থনীতিবিদ ডোনাল্ড হ্যারিস এবং ভারতের ক্যান্সার গবেষক শ্যামলা গোপালানের দুই সন্তানের মধ্যে বড়জনই কমলা দেবী। তার বাবা-মায়ের দেখা হয় ইউসি বার্কেলে-তে গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রি নেয়ার সময়। ক্যাম্পাসে অধিকার আদায়ের কর্মসূচিগুলোতে দুজনই সক্রিয় ছিলেন। মা তার নাম রেখেছিলেন। কমলা শব্দের অর্থ পদ্ম এবং হিন্দুদের দেবী লক্ষ্মীর নামে দ্বিতীয় অংশ রেখেছিলেন। মেয়ের নামের মাধ্যমে নারী অধিকার প্রতিষ্ঠান জানান দিয়েছিলেন মা শ্যামলা। বার্কেলের একটি হলুদ দ্বিতল বাড়িতে দুই মেয়েকে বড় করেন মা। তার ছোট বোনের নাম মায়া।

শিশুকালে কমলা দেবী ব্ল্যাক ব্যাপ্টিস্ট চার্চ এবং হিন্দুদের মন্দিরে যেতেন। তিনি একইসাথে মায়ের দক্ষিণ এশীয় এবং বাবার কালো পরিচয় ধারণ করতেন। পরবর্তিতে হ্যারিস তার অটোবায়োগ্রাফিতে লিখেছিলেন, আমার মা ভালোমতোই জানতেন যে তিনি দুটো কালো চামড়ার মেয়েকে বড় করছেন।

শিশুকালেই ভারতে বেড়াতে এসেছিলেন কমলা। দাদুর ব্যক্তিত্বে প্রভাবিত হয়েছিলেন। তার দাদু উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন যিনি ভারতের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন।

মা কানাডার ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা পেশায় যোগদানের পর তারা মন্ট্রিয়ালে চলে যান। পাশপাশি জিউইশ জেনারেল হসপিটালে ক্যান্সার গবেষক হিসেবেও কাজ শুরু করেন। সেখানেই মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক পড়াশোনা করেন কমলা। মাত্র ১৩ বছর বয়সে তিনি এবং তার বোন মায়া তার বাড়ির সামনে এক প্রতিবাদ সভায় যোগ দেন। বাড়ির সামনের আঙিনায় শিশুদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ করা হলে অন্যদের সাথে এই প্রতিবাদ করেন তারা।

উচ্চমাধ্যমিকের পর হাওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয়, সান ফ্রান্সিসকোর ল স্কুল এবং ১৯৯০ সালে বার পরীক্ষা শেষে অকল্যান্ডে যৌন অপরাধের ওপর কাজ শুরু করেন অ্যাসিস্টেন্ট ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি হিসেবে।

১৯৯৪ সাল থেকে কমলা ক্যালিফোর্নিয়ার রাজনীতিতে পাওয়ার হাউজ হিসেবে পরিচিত স্টেট অ্যাসেমব্লির স্পিকার উইলি ব্রাউনের সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। উইলি তখন বয়সে কমলার চেয়ে ৩০ বছরের বড়। উইলি ক্যালিফোর্নিয়া আনইমপ্লয়মেন্ট ইন্স্যুরেন্স অ্যাপারেলস বোর্ড এবং মেডিক্যার অ্যাসিস্টেন্স কমিশনে নিয়োগ দেন কমলাকে। এই দুই প্রতিষ্ঠান থেকে বছরে তিনি ৮০ হাজার ডলার আয় করতে থাকেন।

১৯৯৫ সালে উইলি সান ফ্রান্সিসকোর মেয়র নির্বাচিত হন। ঠিক ওই বছরের ডিসেম্বরেই কমলা তার সঙ্গে সম্পর্কের বিচ্ছেদ ঘটান। কারণ হিসেবে তিনি জানান যে, এই সম্পর্কে আসলে কোনো স্থায়ীত্ব নেই। ২০০৩ সালে উইলি এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন এবং জানান ‘এবং সে (কমলা) পুরোপুরি সঠিক ছিলেন’।

সাবেক এক সহকর্মীর মাধ্যমে তিনি সান ফ্রান্সিসকো ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি অফিসে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। সেখানে তিনি শহরে কিশোরী পতিতাবৃত্তি ব্যবস্থাকে ভেঙে দেন। সেখানে পতিতাদের অপরাধী হিসেবে না দেখে তাদের যৌন বিক্রেতাদের শিকার হিসেবে বিবেচনায় আনেন।

২০০৪ সালে কমলার একটি সিদ্ধান্ত বেশ সমালোচিত হয়। সান ফ্রান্সিসকোর এক পুলিশ কর্মকর্তার খুনিকে দেয়া মৃত্যুদণ্ডের আদেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন তিনি।

২০০৪ সাল থেকেই সিনেট নির্বাচনের দৌড়ঝাঁপের সময় থেকেই বারাক ওবামার সাথে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে তার। ২০১৩ সালে ওবামা তাকে ‘দেশের সবচেয়ে সুশ্রী অ্যাটর্নি জেনারেল’ বলে মন্তব্য করেন।

২০১৪ সালে লস অ্যাঞ্জেলসের এক কর্পোরেট লইয়ার ডোগ এমহফকে বিয়ে করেন ইনি। এমহফের আগের পক্ষের দুই বাচ্চা রয়েছে। বাচ্চাকা নতুন মাকে ‘মোমালা’ বলে ডাকে।

২০১৯ সালে দুটো টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প কমলা হ্যারিসকে ‘কুৎসিত’ বলে মন্তব্য করেন। সিনেট জুডিসিয়ারি কমিটিতে মুয়েলার রিপোর্ট বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল উইলিয়াম বার এর কর্মকাণ্ড নিয়ে কমলা হ্যারিসের প্রশ্নবাণের কারণেই এমন মন্তব্য করেছিলেন ট্রাম্প।

তিনি বেশ পরিশ্রমী রাঁধুনী। নিউ ইয়র্ক টাইমস থেকে রেসিপি দেখে রাঁধেন তিনি। এলিস ওয়াটার্সের দ্য আর্ট অব সিম্পল ফুডের প্রায় সব রেসিপিই তিনি রেঁধে ফেলেছেন। এখানে সেখানে ভ্রমণের জন্যে তিনি কনভার্স চাক টেইলর স্নিকার ব্যবহার করেন। তার প্রিয় বইয়ের মধ্যে রয়েছে রিচার্ড রাইটের ‘ন্যাটিভ সন’, খালেদ হোসেইনির ‘দ্য কাইট রানার’, অ্যামি টানের ‘দ্য জয় লাক ক্লাব’ টনি মোরিসনের ‘সং অব সোলোমন’ এবং সি. এস. লিউইসের ‘দ্য লায়ন, দ্য উইচ অ্যান্ড ওয়ারড্রোব’।

সাধারণত প্রতিদিন ভোর ৬টায় ওঠেন। আধাঘণ্টা ব্যায়ামের পর কাজ শুরু করেন। রেইজিন বার্নের সাথে আলমন্ড দুধ এবং চায় দিয়ে নাস্তা সেরে কাজে বেরোনোর আগে লেবুর শরবত খেয়ে নেন।

নিজেকে একজন ‘শক্ত’ বস হিসেবে বয়ান করেন। তাকে অনেকেই ‘ফিমেল ওবামা’ বলে ডাকেন। এ বিষয়টা ভালো লাগে না তার।

নভেম্বরের নির্বাচনে তিনি যদি জেতেন তবে আমেরিকার ইতিহাসের প্রথম আফ্রিকান আমেরিকান এবং এশিয়ান আমেরিকান ভাইস প্রেসিডেন্ট হবেন কমলা দেবী হ্যারিস, আমেরিকানদের কাছে যিনি কামালা হ্যারিস নামে পরিচিত।

সূত্র: পলিটিকো

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© ২০২৫ প্রিয়দেশ