হাসান মাহমুদের দারুণ বোলিংয়ের পরও টপ অর্ডারের ব্যর্থতায় সিলেট টেস্টে বিপদে বাংলাদেশ।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস
আম্পায়াররা বেলস তুলে নিতেই কিছুটা হাসির রেখা খেলে গেল তাওহিদ হৃদয় ও মুশফিকুর রহিমের কণ্ঠে। নাহ, দলের অবস্থা খুশি হওয়ার মতো নয়। বরং স্কোরকার্ড ফুটিয়ে তুলছে দলের মলিন অবস্থাই। তবে তাদের দুজনের জুটিতে দিনটা তা অন্তত স্বস্তিতে শেষ হলো!
নতুন বলে হাসান মাহমুদের অসাধারণ বোলিংয়ে ম্যাচে ফেরার আশা জাগিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু টপ অর্ডারের ব্যর্থতায় দল কোণঠাসা এখনও। হৃদয় আর মুশফিকের ব্যাটিংয়ে মিলেছে কিছুটা লড়াইয়ের আভাস।
সিলেট টেস্টের প্রথম ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৩৫৬ রানের জবাবে বাংলাদেশ দ্বিতীয় দিন শেষ করেছে ৩ উইকেটে ৮৮ রানে।
প্রথম দিন শেষে বেশ শক্ত অবস্থানে থাকা ক্যারিবিয়ানদের এ দিন নাড়িয়ে দেন হাসান। দুর্দান্ত বোলিংয়ে শিকার করেন তিনি ৬ উইকেট।
বাংলাদেশের হযে একাধিকবার টেস্টে ৬ উইকেট নেওয়া প্রথম পেসার তিনি। ৫ উইকেট নেওয়ার তালিকায়ও তিনি এখন দেশের সবার ওপরে।
বোলিংয়ের সেই আনন্দ উবে গেছে ব্যাটিংয়ে নেমে। ফিল্ডিংয়ের সময় চোট পাওয়া সাদমান ইসলাম পারেননি ব্যাটিংয়ে নামতে। তার বদলে ওপেন করতে নেমে দ্রুতই ফেরেন নাঈম হাসান। আরেক ওপেনার তানজিদ হাসান আউট হন কেভিন উইকহ্যামের অসাধারণ ক্যাচে।
অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত লম্বা সময় নিয়ে থিতু হওয়ার চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে তার রান ছিল ২৭ বলে ১। পরে একটি ছক্কা মারলেও শেষ পর্যন্ত আউট হয়ে যান ৬৫ বরে ১৮ রান করে।
হৃদয় ও মুশফিক এরপর দিন শেষ করেন ৩৭ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে।
৪ উইকেটে ২৩৫ রান নিয়ে দিন শুরু করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ এগিয়ে যায় নির্বিঘ্নে। জাঙ্গু ও জাস্টিন গ্রেভস প্রথম ১১ ওভার কাটিয়ে দেন অনায়াসেই। শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় নতুন বলে প্রতিরোধ ভাঙতে পারে বাংলাদেশ।
রাউন্ডা দা উইকেটে করা হাসানের ডেলিভারি পিচ করে আরও ভেতরে ঢুকে যায়। অ্যাঙ্গল বুঝতে না পেরে ছেড়ে দিয়ে বোল্ড হন জাঙ্গু। গত জুনে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২৩৩ রানের ইনিংস খেলা ব্যাটসম্যান এবার থামেন ১৩৩ রানে।
পরের বলেই আরেকটি ভেতরে ঢোকা ডেলিভারিতে প্রথম বলেই উইকেটের পেছনে ধরা পড়েন ক্যারিবিয়ান অধিনায়ক রস্টন চেইস।
গত মাসেই আবু ধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করা পেসার আরও একবার মেতে ওঠেন হ্যাটট্রিকের আনন্দে। জশুয়া বিশপকে এলবিডব্লিউ দেন আম্পায়ার। তবে রিভিউ নিয়ে রক্ষা পান ব্যাটসম্যান।
সেই বিশপ আর গ্রেভস আরেকটি জুটি গড়ার চেষ্টা করছিলেন। সেটিও থামান হাসান। বিশপকে বিদায় করে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন হাসান। যদিও সেই উইকেটে কিপার লিটন দাসের অবদানই বেশি। স্টাম্প ঘেঁষে দাঁড়িয়ে অবিশ্বাস্য ক্ষিপ্রতায় স্টাম্পিং করেন তিনি।
স্পিন বোলিংয়ে প্রথম উইকেট ধরা দেয় মেহেদী হাসান মিরাজের হাত ধরে। নতুন স্পেলে এসেই প্রথম ডেলিভারিতেই বোল্ড করে দেন তিনি ফিফটি করা গ্রেভসকে।
৩৭ রানের মধ্যে ৪ উইকেট নিয়ে তখন দারুণভাবে ম্যাচে ফিরিছে বাংলাদেশ। তবে শেষ দুই উইকেটে ৫৫ রান যোগ করে সাড়ে তিনশ পেরিয়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
২ চার ও ১ ছক্কায় ১৬ রান করা শামার জোসেফের দুই স্টাম্প উপড়ে দেন হাসান। শেষ উইকেটে বাংলাদেশকে যন্ত্রণা দিয়ে ৩৩ রানের জুটি গড়েন জোমেল ওয়ারিক্যান ও জেডেন সিলস। শেষ উইকেটটি নেন মিরাজ।
ফর্মহীনতার কারণে আলোচনায় থাকা তাইজুল ইসলাম কোনো উইকেট পাননি ১৯ ওভার বোলিং করে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১ম ইনিংস: (আগের দিন শেষে ২৩৫/৪) ১০৬.৪ ওভারে ৩৫৬ (জাঙ্গু ১৩৩, গ্রেভস ৫১, চেইস ০, বিশপ ২৩, জোসেফ ১৬, ওয়ারিক্যান ২৭*, সিলস ১৫; তাসকিন ২১-০-৯০-২, হাসান ২৪-১-৯০-৬, মিরাজ ৩১.৪-৫-৮২-২, তাইজুল ১৯-৩-৫৪-০, নাঈম ১১-১-৩৭-০)।
করের বিকল্প যখন রেমিটেন্স: জবাবদিহিহীন রাষ্ট্রের ‘সহজ এক্সিট’ তত্ত্ব
বিচারহীনতার দশ বছর: সাঁওতালদের ভিটা বাগদাফার্মে কার স্বার্থে ইপিজেড?
মসনদে টান ওদের, দমবন্ধ কিন্তু আমাদেরই
ল্যাবে কি ঘুমিয়ে আছে পূর্ণ শিক্ষিত রোবট?