একটিমাত্র ইনিংস, আর তাতেই ২৪২ রান। এই একটিমাত্র ইনিংসে বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের পরিসংখ্যানের বহুল পঠিত পাতাগুলো নতুন করে লিখতে হয়েছে। সিলেটের উইকেটে ব্যাট হাতে একের পর এক সীমারেখা ভেঙেছেন তাওহীদ হৃদয়। সব মিলিয়ে তার এই ২৪২ রানের অপরাজিত ইনিংসটি বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় ও ঐতিহাসিক অধ্যায় হয়ে উঠেছে। এটি কেবল একটি সাধারণ ডাবল সেঞ্চুরি নয়, বরং একসঙ্গে অনেকগুলো অনন্য রেকর্ডের জন্ম দিয়েছে।
প্রথমত, বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের রেকর্ড এখন তাওহীদ হৃদয়ের দখলে। এর আগে এই রেকর্ডটি ছিল মুশফিকুর রহিমের নামে, যিনি ২০১৮ সালে মিরপুরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অপরাজিত ২১৯ রান করেছিলেন।
দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটার হিসেবে নিজের ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিকেই ডাবল সেঞ্চুরিতে রূপ দিয়েছেন হৃদয়। এর আগে দেশের হয়ে অভিষেক সেঞ্চুরিতে সর্বোচ্চ ইনিংস খেলার রেকর্ডটি ছিল মুমিনুল হকের ১৮১ রান।
তৃতীয়ত, টেস্ট ক্রিকেটে ডাবল সেঞ্চুরি করা চতুর্থ বাংলাদেশি ব্যাটার হিসেবে নাম লেখালেন হৃদয়। এর আগে টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরি করেছিলেন মুশফিকুর রহিম, তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসান। তাদের মধ্যে মুশফিকের তিনটি এবং তামিম ও সাকিবের একটি করে ডাবল সেঞ্চুরি রয়েছে।
চতুর্থত, বাংলাদেশের হয়ে টেস্টের এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড গড়েছেন হৃদয়। তার ব্যাট থেকে এসেছে ১১টি ছক্কা, যেখানে আগের সর্বোচ্চ ছিল তামিম ইকবালের ৭টি ছক্কা। আন্তর্জাতিক বিশ্ব ক্রিকেটে টেস্টের এক ইনিংসে ১১ ছক্কার এই কীর্তি যৌথভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
পঞ্চমত, বাউন্ডারি থেকে সর্বোচ্চ রান সংগ্রহের দিক থেকেও তিনি সবার ওপরে। ২২টি চার ও ১১টি ছক্কা হাঁকিয়ে কেবল বাউন্ডারি থেকেই ১৫৪ রান করেছেন হৃদয়। এর আগে ২০১৭ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২১৭ রানের ইনিংসে বাউন্ডারি থেকে ১২৪ রান করে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছিলেন সাকিব আল হাসান।
ষষ্ঠত, দলের মোট ইনিংসে কোনো একক ব্যাটারের সর্বোচ্চ অবদানের নতুন রেকর্ড গড়েছেন হৃদয়। বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে দলের মোট ৩৮৬ রানের মধ্যে একা ২৪২ রানই এসেছে তার ব্যাট থেকে, যা দলের মোট রানের প্রায় ৬২ দশমিক ৬৯ শতাংশ। পূর্ণাঙ্গ টেস্ট ইনিংসে এটি দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ অবদান।
সপ্তমত, সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টেস্ট ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের রেকর্ড এখন এই ব্যাটারের। এর আগে এই মাঠে সর্বোচ্চ রান ছিল মাহমুদুল হাসান জয়ের ১৭১ রান, যা তিনি ২০২৫ সালে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে করেছিলেন।
অষ্টমত, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্টে বাংলাদেশের যেকোনো ব্যাটারের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসও এখন হৃদয়ের অপরাজিত ২৪২ রান। ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে আগের এই রেকর্ডটি ছিল মাহমুদউল্লাহর।
নবমমত, অষ্টম উইকেটে তাইজুল ইসলামের সঙ্গে মূল্যবান ১১৭ রানের জুটি গড়েছিলেন হৃদয়। বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে অষ্টম উইকেটে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জুটি, যা দলকে বড় সংগ্রহের দিকে নিয়ে যেতে প্রধান ভূমিকা পালন করেছে।
দশমত, বাংলাদেশের ইনিংসের শেষ তিন উইকেটে সর্বোচ্চ রান এসেছে এই ম্যাচে। সপ্তম উইকেট ১৮৪ রানে পতনের পর দল যোগ করেছে আরও ২০২ রান, যা শেষ তিন উইকেটে দেশের সর্বোচ্চ।
একাদশত, টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের হয়ে এক দিনে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়েছেন তাওহীদ হৃদয়। মাত্র ২৯ রান নিয়ে দিন শুরু করে তিনি আরও ২১৩ রান যোগ করেছেন। এর আগে ২০১৭ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২১৭ রানের ইনিংস খেলার পথে এক দিনে ২১২ রান করেছিলেন সাকিব আল হাসান।