হাজার হাজার প্রদীপ ও মোমবাতির আলোয় আলোকিত হয়ে উঠেছিল বরিশালের কাউনিয়া মহাশ্মশান। নানা রঙের ফুলে ফুলে সুন্দর করে সাজানো হয়েছিল প্রয়াত স্বজনদের সমাধিগুলো। কেউ প্রদীপ জ্বালিয়ে নীরবে প্রার্থনা করেছেন, আবার কেউ প্রিয়জনের পছন্দের ইলিশ মাছ ও পায়েসসহ হরেক রকমের খাবার নিবেদন করেছেন প্রয়াত স্বজনের স্মৃতির মঠে।
এভাবেই ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, নানা আচার-অনুষ্ঠান ও প্রিয়জনদের স্মৃতিচারণের মধ্য দিয়ে শনিবার (৭ নভেম্বর) রাতে বরিশাল মহাশ্মশানে উদযাপিত হলো উপমহাদেশের বৃহত্তম শ্মশান দীপাবলি উৎসব। গত ১৯৯ বছর ধরে ঐতিহ্যবাহী এই শ্মশানে এভাবেই মহাসমারোহে পালিত হয়ে আসছে শ্মশান দীপাবলি।
পবিত্র এই দিনটি উপলক্ষে বাংলাদেশ ছাড়াও প্রতিবেশী দেশ ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে হাজার হাজার পুণ্যার্থী ও দর্শনার্থী এই মহা শ্মশানে এসে সমবেত হন। আয়োজকদের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, এবারের এই উৎসবে প্রায় এক লাখ মানুষের সমাগম ঘটেছে।
বরিশাল নগরীর পশ্চিম কাউনিয়া ও নতুন বাজার এলাকায় প্রায় ছয় একর জমির ওপর বিস্তৃত প্রাচীন এই মহাশ্মশানে ৭০ হাজারের বেশি পাকা স্মৃতিমঠ রয়েছে। ঐতিহাসিক এই শ্মশানে চিরনিদ্রায় শায়িত রয়েছেন বিখ্যাত কবি জীবনানন্দ দাশের বাবা সত্যানন্দ দাশ ও পিতামহ সর্বানন্দ দাশ। এ ছাড়া এখানে সংরক্ষিত রয়েছে খ্যাতনামা রাজনীতিবিদ ও সমাজসেবক অশ্বিনী কুমার দত্তের চিতাভস্মও।
কাউনিয়া মহাশ্মশান রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিজয় ভক্ত জানান, এবারের উৎসবে প্রায় এক লাখ মানুষের অভূতপূর্ব সমাগম হয়েছে বলে তারা ধারণা করছেন। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কাসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকেও বহু পুণ্যার্থী ও দর্শনার্থী এই উৎসবে অংশ নিতে এসেছেন।
উৎসবের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা প্রসঙ্গে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) সুশান্ত সরকার জানান, এই ধর্মীয় উৎসবের কঠোর নিরাপত্তায় প্রায় তিন শতাধিক পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করেছেন। এর পাশাপাশি যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সাদা পোশাকে পুলিশ ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা পুরো এলাকায় নিবিড় নজরদারি বজায় রেখেছিলেন।