দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা ৬১৭টি বিও (বেনিফিশিয়ারি ওনার্স) হিসাব পুনরায় চালুর অনুমোদনের খবরে দেশের শেয়ারবাজারে বড় উত্থান হয়েছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) এ সিদ্ধান্তে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে শেয়ার কেনাবেচায়। ফলে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার পাশাপাশি মূল্যসূচক এবং লেনদেনে চাঙ্গাভাব দেখা গেছে। আজ বুধবার (৪ নভেম্বর) প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচকের বড় উত্থানের মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়। এদিন ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ ৫০০ কোটি টাকা অতিক্রম করেছে। বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন লেনদেনের বাইরে থাকা বিও হিসাবগুলো পুনরায় সচল হলে বাজারে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়বে, যা বাজারে তারল্য সরবরাহ ও লেনদেনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিএসইসির এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)। জানা গেছে, বিভিন্ন সরকারি সংস্থার অনুরোধ ও কমিশনের সিদ্ধান্তে মোট ৬১৭টি বিও হিসাব স্থগিত করা হয়েছিল। এই অবস্থায় গত ২০ জুলাই বিএসইসি চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত আবেদন করে ডিবিএ। আবেদনে তারা উল্লেখ করেন—আইনগত বা নিয়ন্ত্রক সংস্থার কোনো নিষেধাজ্ঞা না থাকলে এসব স্থগিত বিও হিসাব পুনরায় চালুর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বন্ধ বিও হিসাবগুলো পুনরায় চালু ও লেনদেনের সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বিএসইসি। আরও পড়ুন ফ্রিজ বিও চালুর সিদ্ধান্তে শেয়ারবাজারে বাড়বে লেনদেন ০৪ নভেম্বর ২০২৬ এদিন লেনদেন শুরুর আগেই বিনিয়োগকারীরা এ খবর পেয়ে যান। ফলে শুরু থেকেই শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে এবং দাম বাড়ার ধারা লেনদেনের শেষ পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। ডিএসইতে লেনদেন হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ২৮২টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে, কমেছে ৫১টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৫০টির। দাম বাড়ার তালিকা বড় হওয়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৫৭ পয়েন্ট বেড়ে ৫,৩৪১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই-৩০ সূচক ১৫ পয়েন্ট বেড়ে ২,০৩৭ পয়েন্টে উঠেছে এবং ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৬ পয়েন্ট বেড়ে ১,০৩৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে। সূচকের বড় উত্থান হলেও ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ আগের দিনের চেয়ে কিছুটা কমেছে। এদিন মোট ৫২২ কোটি ২৮ লাখ টাকা লেনদেন হয়, যা আগের কার্যদিবসে ছিল ৫৬৫ কোটি ৮২ লাখ টাকা। ডিএসইতে সব থেকে বেশি ৩২ কোটি ৫৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে মতিন স্পিনিংয়ের। দ্বিতীয় স্থানে ছিল এনভয় টেক্সটাইল (১৯ কোটি ৯৩ লাখ টাকা) এবং তৃতীয় স্থানে ছিল শাহজিবাজার পাওয়ার (১৮ কোটি ৭৪ লাখ টাকা)। এ ছাড়া শীর্ষ দশে থাকা অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে সায়হাম টেক্সটাইল, ফাইন ফুডস, ফার কেমিক্যাল, সোনারগাঁও টেক্সটাইল, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, ব্র্যাক ব্যাংক এবং প্রভাতী ইন্স্যুরেন্স। অন্যদিকে, অন্য শেয়ারবাজার সিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৪৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৮১টির দাম বেড়েছে, ৪১টির কমেছে এবং ২৫টির অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ১০০ পয়েন্ট বেড়েছে। তবে লেনদেনের পরিমাণ কমে দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ৩৯ লাখ টাকায়।